দুই সন্তানের জননী ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া এলাকায় এক আদিবাসী নারীকে ভালুকা থেকে উঠিয়ে টাঙ্গাইলের গোপালপুর এলাকায় নিয়ে ছয় দিন আটক রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনায় ভালুকা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ওই নারী বাদী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাতে মামলাটি করেন।
মামলায় ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের হাতিলেইত গ্রামের বাবুলের বাজার এলাকার রবিউল্যা আকন্দের ছেলে উজ্জলকে (৩৭) আসামি করা হয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওই নারীকে আজ বুধবার ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নির্যাতিতা ওই নারী জানান, তাঁর স্বামী প্রবাসে আছেন। প্রবাস থেকে তিনি ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের হাতিলেইত গ্রামের বাবুলের বাজার এলাকার একই গ্রামের উজ্জলের বিকাশের দোকানে টাকা পাঠাতেন। পরে স্বামীর পাঠানো টাকা উজ্জলের দোকান থেকে নিয়ে আসতেন ওই নারী। দোকান থেতে টাকা আনার সুবাদে উজ্জলের সাথে তাঁর পরিচয়। আর ওই পরিচয়ের সূত্র ধরেই উজ্জল বিভিন্ন সময় তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। কিন্তু রাজি না হওয়ায় উজ্জল ওই নারী দুই শিশু সন্তানকে হত্যার হুমকি দেয় এবং তাঁর স্বামীর পাঠানো দেড় লাখ টাকা না দিয়ে আটকে রাখে। একপর্যায়ে অতিষ্ট ওই নারী তাঁর স্বামীর সাথে কথা বলে গত ১২ জুন ভালুকার কাঁঠালী এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে চলে আসেন।
পরে উজ্জল কৌশলে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে গত ২ জুলাই সকালে ফোনে ওই নারীকে ভালুকার মল্লিকবাড়ি মোড় এলাকায় ডেকে আনেন। সেখান থেকে তাকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে টাঙ্গাইলের গোপালপুরের নন্দনপুর এলাকার অজ্ঞাত এক মহিলার বাড়িতে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। পরে গত ৮ জুলাই তাকে মধুপুরের জঙ্গলে রেখে যায়।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাঈন উদ্দির কালের কণ্ঠকে জানান, ওই ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য ওই নারীকে আজ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।