প্রসূতিকে ৩ বার ওটিতে নিয়ে মূত্রথলি-জরায়ু কাটলেন চিকিৎসক, অবশেষে মৃত্যু
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Tuesday, 13 October, 2020, 10:01 PM
প্রসূতিকে ৩ বার ওটিতে নিয়ে মূত্রথলি-জরায়ু কাটলেন চিকিৎসক, অবশেষে মৃত্যু
নেত্রকোনায় বেসরকারি এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজারের সময় মূত্রথলি ও জরায়ু কেটে ফেলায় এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।
মৃত আইরিন পারভীন ঝর্ণা নেত্রকোনা সদর উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জ ইউপির আতকাপাড়া গ্রামের নূরে আলম খোকনের স্ত্রী। তিনি দুই কন্যাসন্তানের মা।
এর আগে, সোমবার বিকেলে নেত্রকোনা শহরের ছোট বাজারের সুনেত্র হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
মৃতের স্বজনরা জানান, সোমবার বিকেলে নেত্রকোনা শহরের ছোট বাজারের সুনেত্র হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসক জীবন কৃষ্ণ রায় ঝর্ণার সিজারিয়ান অপারেশন করেন।
ঝর্ণার দেবর মো. আল মাসুদ ও ভগ্নিপতি আব্দুল মান্নান জানান, সোমবার বিকেলে ঝর্ণাকে সুনেত্র হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন চিকিৎসক জীবন কৃষ্ণ রায়। কিন্তু অপারেশনের সময় ভুলবশত ঝর্ণার মূত্রথলি কেটে ফেলেন চিকিৎসক। পরে তার রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
এরপর আবার তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। এ সময় কেটে ফেলেন ঝর্ণার জরায়ু। এভাবে জটিলতা বাড়তে থাকে তার। সেই সঙ্গে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরে তৃতীয়বারের মতো তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেন চিকিৎসক। এতে তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয়।
অবস্থা বেগতিক দেখে সোমবার রাতে ঝর্ণাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসক জীবন কৃষ্ণ রায়। পরে ঝর্ণাকে সেই হাসপাতালে নেন স্বজনরা। নেত্রকোনা থেকে ময়মনসিংহ নেয়ার পথে ঝর্ণার শরীরে ১০ ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়। মঙ্গলবার সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই মারা যান ঝর্ণা।
এদিকে, ময়মনসিংহ হাসপাতালে যাওয়ার পর সুনেত্র হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাঠানো লোক রোগীর সঙ্গে থাকা চিকিৎসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সটকে পড়েন। এতে রোগীর চিকিৎসা নিতে বেগ পেতে হয়।
এ বিষয়ে সুনেত্র হাসপাতালের পরিচালক আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, কাগজগুলো রোগীর প্রয়োজন নেই। এগুলো হাসপাতালে রাখতে হয়। সেজন্য নিয়ে আসা হয়েছে।
জানা গেছে, সুনেত্র হাসপাতাল থেকে ঝর্ণাকে রাতে ময়মনসিংহ হাসপাতালে পাঠিয়ে দ্রুত অপর হাসপাতালে চলে যান চিকিৎসক। এ সময় ওই হাসপাতালে গিয়েও তার সঙ্গে কথা বলাও সম্ভব হয়নি।
এমন ঘটনায় নেত্রকোনার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অভিযুক্ত চিকিৎসকের শাস্তি চেয়েছেন অনেকেই।
লক্ষ্মীগঞ্জ ইউপির চেয়ারম্যান এসএম শফিকুল কাদের সুজা বলেন, একজন প্রসূতি মায়ের প্রসবকালীন এক ঘণ্টার মধ্যে তিনবার ওটিতে নিয়ে অপারেশন করে মূত্রথলি, জরায়ু কেটে রোগীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া অন্যায়। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। নয়তো এ ধরনের ঘটনা আরো ঘটবে।
নেত্রকোনার অ্যাডিশনাল এসপি (সদর-সার্কেল) মুর্শেদা খাতুন বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। এখনো মৃত ঝর্ণার পরিবারের কেউ অভিযোগ দেননি। পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এর আগেও চিকিৎসক জীবন কৃষ্ণের হাতে একাধিক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় এমন ঘটনা ঘটেই চলছে।