শিলিগুড়িতে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ১২ ঘণ্টার বনধের ডাক দিয়েছে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি- বিজেপি।
সোমবার (০৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কলকাতায় বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। এর আগে শিলিগুড়িতে দলের সভাপতি দিলীপ ঘোষ এ কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
শিলিগুড়িতে তৃণমূলের কর্মীদের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের তুমুল সংঘর্ষ বাধে। এসময় উভয়পক্ষের বহু আহত হন। বিজেপির অভিযোগ, পুলিশ কিংবা পুলিশের সঙ্গে থাকা তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিদের গুলিতে তাদের একজন সমর্থক মারা গেছেন। মৃত সমর্থকের নাম উলেন রায়, বয়স ৫০। এ ঘটনায় বিজেপির ২০ নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।
এদিকে, মঙ্গলবার ভারতজুড়ে কৃষকরাও সকাল ১১টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত সাধারণ বনধের ডাক দিয়েছেন। চলমান কৃষকদের এই বনধ কর্মসূচির মধ্যেই ভারতীয় জনতা পার্টির এই বনধ কর্মসূচি ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য।
এদিকে উত্তর কন্যা ঘেরাও অভিযানে বিজেপির মারমুখো অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী ও তৃণমূল নেতা গৌতম দেব। উত্তর কন্যা উত্তরবঙ্গের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক বলেও দাবি করেন তিনি।
২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর উত্তরবঙ্গের মানুষের সরকারি সুযোগ-সুবিধা আরও সুনিশ্চিত করতে সরকারের সচিবালয়কে দুই ভাগে বিভক্ত করে উত্তরে পৃথক সচিবালয় গঠন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সচিবালয়ের নাম দেওয়া হয় উত্তর কন্যা।
তবে বিজেপির অভিযোগ, মমতা সরকারে উত্তর কন্যা উপেক্ষিত। উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে উত্তর কন্যাকে আরও সক্রিয় করার দাবি জানিয়ে সোমবারের কর্মসূচি পালন করে বিজেপি।
আর এই কর্মসূচি ঘিরে রণক্ষেত্র তৈরি হয়। আগামী বছর রাজ্যটিতে বিধানসভা নির্বাচন। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ এবং উত্তরের জেলাগুলোর মধ্যে উত্তরবঙ্গে বিজেপি সবশেষ লোকসভায় ভালো ফলাফল করেছে।