তুরস্কের ওপর চাপ বাড়াতে বাইডেনকে ওবামার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর আহ্বান
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 22 December, 2020, 9:58 PM
তুরস্কের ওপর চাপ বাড়াতে বাইডেনকে ওবামার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর আহ্বান
তুরস্কের ওপর চাপ বাড়াতে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস।
রাশিয়া থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ ক্রয় এবং পরবর্তীতে এর সক্রিয়করণ এগিয়ে নেয়ায় আঙ্কারার ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার প্রশংসা করেন তিনি।
নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশ হওয়া এক মতামতে, তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপকে দুর্দান্ত শুরু বলে আখ্যা দেন গেটস। বাইডেনকে অবশ্যই আরও কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি তুরস্ককে ন্যাটো জোটের দেশগুলোকে থেকে বিচ্ছিন্ন করার চিন্তাভাবনার আহ্বান জানান।
গেটস বলেন, অব্যাহত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাশিয়া থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয়ের জন্য অবশ্যই তুরস্ককে মূল্য দিতে হবে। ন্যাটো জোটের কোনো সদস্যকে বহিষ্কারের বিধান না থাকলেও বর্জনসহ নানাধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং কূটনৈতিক চাপ তৈরির সুযোগ রয়েছে।
রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্রয়, সিরিয়ায় তুরস্কের কর্মকাণ্ড, আজারবাইজান-আর্মেনিয়ার সংঘাতে আঙ্কারার অংশগ্রহণ এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরে এরদোয়োনের প্রশাসনের ভূমিকার জন্য ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সম্প্রতি দেশটির সম্পর্ক ভয়াবহভাবে অবনতি হয়েছে।
গেল সপ্তাহে এস-৪০০ ক্রয়ের কারণে তুরস্কের প্রতিরক্ষা বিভাগ, প্রতিষ্ঠানটির প্রধানসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
তুরস্ক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম ক্রয়ে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্রয় করেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তুরস্ককে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ক্রয়ের জন্য অনেকবার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আঙ্কারাকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছে ওয়াশিংটন। এছাড়া, প্যাট্রিয়ট ডিফেন্স সিস্টেম পাওয়ার পর তুরস্কের এর উৎপাদনের অনুমতি এবং পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দাবি করে। তারপই তাদের মধ্যে প্যাট্রিয়ট ডিফেন্স সিস্টেম বেচাকেনার বিষয়টি স্থগিত হয়ে পড়ে।
গেল সপ্তাহে টেলিভিশনে প্রচার হওয়া এক ভাষণে এরদোয়ান বলেন, ন্যাটোর একটা সদস্য রাষ্ট্র আমাদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তারা আমাদের কেমন মিত্র? নিষেধাজ্ঞা আরোপ আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতি আক্রমণ।
‘যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেয়া উচিৎ’
২০০৬ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ গেটসকে নিয়োগ দেন। ২০১১ সাল পর্যন্ত ওবামার শাসনামলেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। লিবিয়া, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের কার্যক্রেমের সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, এসব জায়গায় ন্যাটো জোটের সদস্যদের স্বার্থবিরোধী কাজ করছে আঙ্কারা।
সাবেক মার্কিন এ প্রতিরক্ষা প্রধান বলেন, তুরস্ক, হাঙ্গেরি এবং পোল্যান্ড ক্রমবর্ধমান হারে কর্তৃত্ববাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ অবস্থায় গণতন্ত্রের জোট নাটোর নেতৃত্বের হাল ধরা উচিৎ যুক্তরাষ্ট্রের।
গেটসের মন্তব্য প্রকাশের কিছুক্ষণ পরই তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুভ কাভুসৌগলু প্রতিজ্ঞা করেন, তুরস্কের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফল পাবে যুক্তরাষ্ট্র।
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। তবে তাদের কিছু কাজ করতে হবে। যেমন- ২০১৬ সালে তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পরিকল্পনাকারী যাজক ফেতুল্লাহ গিলানিকে ফেরত দিতে হবে। উত্তর সিরিয়ায় কুর্দিপন্থী পিপলস প্রোটেকশন ইউনিটকে (ওয়াইপিজি) ওয়াশিংটনের দেয়া সহায়তা বন্ধ করতে হবে।
জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসকে মোকাবিলায় সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) অংশীদার হিসেবে ওয়াইপিজিকে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ওআইপিজিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে তুরস্ক।