ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২৮ জুন ২০২৬ ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
গুরুতর করোনা রোগীদের যে ১১টি পরীক্ষার কথা বলছেন চিকিৎসকরা
নতুুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Sunday, 9 May, 2021, 1:42 PM

গুরুতর করোনা রোগীদের যে ১১টি পরীক্ষার কথা বলছেন চিকিৎসকরা

গুরুতর করোনা রোগীদের যে ১১টি পরীক্ষার কথা বলছেন চিকিৎসকরা

বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর অনেক রোগী প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো বাসায় চিকিৎসা নিয়েই সুস্থ হলেও অনেককে আবার নানাধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়। বিশেষ করে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে কারো অবস্থার উন্নতি না হলে বা কোনো কারণে অবনতি হলে তার প্রকৃত অবস্থা বোঝার জন্য নানাধরনের টেস্টের পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কভিড রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের কনসালটেন্ট ডা. সাজ্জাদ হোসেন বলছেন, সঠিক চিকিৎসার জন্য কিছু টেস্ট করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

১. সিবিসি
একজন রোগীর শরীরে যেকোনো সংক্রমণ দেখার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। এই টেস্টের মাধ্যমে চিকিৎসকরা শরীর সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা পান। এটি একটি টেস্ট প্রফাইল। এর মধ্যে অনেকগুলো ধ্রুবক থাকে। ব্লাড সেল বা রক্ত কণিকার কাউন্ট বা পরিসংখ্যান দেখা হয় এর মাধ্যমে। রক্তের কণিকা কোন পর্যায়ে আছে সেটি বোঝার জন্য করোনায় আক্রান্তদের এ টেস্টের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

২. সিআরপি
শরীরে কোনো চলমান সংক্রমণ আছে কি-না তা বোঝার জন্য চিকিৎসকরা এ টেস্টের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সি-রিঅ্যাক্টিভ প্রোটিন (সিআরপি) পরীক্ষা হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি নির্ধারণেও সাহায্য করে।

৩. প্রোক্যালসিটোনিন
করোনায় আক্রান্ত রোগীর অবস্থা অনেক সময় দ্রুত খারাপ হয়ে যায় মারাত্মক সংক্রমণের কারণে। জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে এমন মারাত্মক ধরণের ব্যাকেটরিয়াল ইনফেকশন বোঝার জন্য এই টেস্ট করা হয়।

৪. ফেরেটিন
রক্তে আয়রনের মাত্রা দেখা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বোঝার জন্য এ টেস্ট করা হয়। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের একপর্যায়ে আয়রন ঘাটতি তৈরি হয়। সেটি জানার জন্যই চিকিৎসক এই টেস্টটি দিয়ে থাকেন।

৫. আরবিএস
কারো শরীরে ডায়াবেটিস আছে কি-না বা রক্তে সুগার লেভেল সম্পর্কে জানতে এই পরীক্ষা করা হয়।

৬. এস ক্রিয়েটিনিন
রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা নির্ণয় করলে বোঝা যায় কিডনি কতখানি কর্মক্ষম আছে। ক্রিয়েটিনের মাত্রা নির্দিষ্ট লেভেলের উপরে হলেই বোঝা যায় তার কিডনি সমস্যা হয়েছে। করোনায় আক্রান্তদের কিডনি নিয়ে সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা থাকে। সেজন্য এ টেস্ট দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।

৭. ডি ডাইমার
রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি মাপার আরেকটি একক হলো ডি-ডাইমার নামে একটি প্রোটিন। স্বাস্থ্যবান রোগীর রক্তে এটা দশক থেকে শ‌'য়ের হিসেবে মাপা হয়। কিন্তু কভিড রোগীর দেহে এই স্তর ৬০, ৭০ বা ৮০,০০০ পর্যন্ত উঠতে দেখা গেছে। তাই রক্তে জমাট বাঁধছে কি-না সেটি বোঝার জন্য এই টেস্ট।

৮. এইচআর সিটি স্ক্যান
ফুসফুসের অবস্থা দেখার জন্য এটি করা হয়। এক রোগীর করোনা পরীক্ষায় দেখা গেল তিনি করোনা মুক্ত, কিন্তু উপসর্গ রয়েছে। পরে তাকে এইচআর সিটি স্ক্যান করোনো হলে দেখা গেল, তার নিউমোনিয়ার লক্ষণ রয়েছে। সুতরাং বলা যায়, করোনা পরীক্ষার পাশাপাশি এই পরীক্ষাগুলোরও বিশেষ কার্যকারিতা আছে। এছাড়া বুকের এক্স রে-র মাধ্যমেও প্রাথমিকভাবে ফুসফুসে সংক্রমণ আছে কি-না দেখা যায়। সাধারণভাবে প্রাথমিক অবস্থা বোঝার জন্য এক্স-রে করা হয়।

৯. এবিজি
আর্টেরিয়াল ব্লাড গ্যাস বা এবিজি টেস্টের মাধ্যমে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা পরিমাপ করা হয়। রক্তচাপ ও হার্ট রেট দেখার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ।

১০. আইএল-৬
মূলত ফুসফুসে সংক্রমণের মাত্রা বোঝার জন্য এই টেস্টটি করা হয়। এর মাধ্যমে ফুসফুস কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হলো তা চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন। এর আগে এক গবেষণায় দেখা গেছে, আইএল-৬ এর মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সাথে কভিড আক্রান্তদের মৃত্যুহারের সম্পর্ক আছে।

১১. আরটি পিসিআর
করোনার লক্ষ্মণ দেখা দিলে বা এমনকি কোনো করোনা রোগীর সংস্পর্শে গেলে করোনা পরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা। আর করোনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য টেস্টটির নামই আরটি-পিসিআর টেস্ট। কভিড-১৯ ভাইরাসটির কারণে উপসর্গ দেখা দিচ্ছে কি-না সেটা বুঝতে গলার ভেতরে এবং নাকের গোড়ার কাছ থেকে তুলা দিয়ে লালা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। আর এই পরীক্ষাটির নাম হল 'রিয়াল টাইম পিসিআর' বা রিয়াল টাইম পলিমারেস চেইন রিঅ্যাকশন। পরে ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষা করে বোঝা যায় যে রোগী পজিটিভ নাকি নেগেটিভ।

টেস্টগুলোতে খরচ কেমন এবং কোথায় করা যায়?
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী দেশে এ মুহূর্তে ১২৭টি পরীক্ষাগারে আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে করোনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৫২টি সরকারি ও বাকি ৭৫টি বেসরকারি। সরকারিগুলোতে এ পরীক্ষার ব্যয় খুবই কম হলেও বেসরকারিগুলোতে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। সরকারি বুথ বা হাসপাতালে নমুনা দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান ফি ১০০ টাকা আর বাসা থেকে নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকার ফি ৩০০ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষার ফি কমপক্ষে সাড়ে ৩ হাজার টাকা আর বাসা থেকে নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে আরো এক হাজার টাকা বাড়তি দিতে হয়।

এছাড়া উপরে উল্লেখ করা পরীক্ষাগুলোর মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের খরচের মধ্যে পার্থক্য আছে। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল হাসপাতালের মতো সরকারি হাসপাতালে উপরের সবগুলো টেস্ট করার জন্য ১১/১২ হাজার টাকা খরচ হতে পারে বলে চিকিৎসকরা ধারণা দিয়েছেন। তবে বেসরকারি হাসপাতালে এসব টেস্টে ছাড়িয়ে যেতে পারে লাখ টাকা।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status