ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২৮ জুন ২০২৬ ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
শ্রমিকদের তালা দেওয়া সেই সুপারভাইজারেরও করুণ মৃত্যু
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Saturday, 10 July, 2021, 3:17 PM

শ্রমিকদের তালা দেওয়া সেই সুপারভাইজারেরও করুণ মৃত্যু

শ্রমিকদের তালা দেওয়া সেই সুপারভাইজারেরও করুণ মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের সেজান জুসের কারখানায় আগুন লাগার পর চারতলার ফ্লোর সুপারভাইজার মাহবুব লোহার গেট তালাবদ্ধ করে দিয়েছিলেন। বেঁচে যাওয়া শ্রমিকরা জানিয়েছেন, আগুনে পুড়ে প্রাণ গেছে ওই সুপারভাইজারেরও।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক বলেন, চারতলার ইনচার্জ মাহবুব ও তার দুই সহযোগী আগুনে মারা গেছে। আগুনের সময় তারাও ভেতরে ছিল।

এ তথ্য দিয়েছেন কারখানার একাধিক শ্রমিক।

সেজান জুস কারখানার সাব-কন্ট্রাক্টর মোতালেব মিয়া বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে চিৎকার করতে করতে ওই ভবনের সামনে গেছি। তখন চারতলার একজন নারী শ্রমিক উপর থেকে জানালা দিয়ে দেখছিল। তাকে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন রশি দিয়া নিচে নামাইছে। ওর কাছে জিজ্ঞেস করছিলাম ভেতরে কী হইছে। তখন ও বলছে আগুনের খবর শুনে সুপারভাইজার মাহবুব স্যার সবাইরে রুমের এসির সামনে নিয়া দাঁড় করাইতাছিল। তখন নাকি ওই মেয়েটা কৌশলে বের হয়ে গেছে। নিচে আগুনের তাপ দেইখা উপরে ছাদে গেছে। মনে হয়, এরপরই গেট বন্ধ হইছে।

মোতালেব মিয়া আরো বলেন, ঢাকা মেডিকেল ও ইউএস-বাংলা হাসপাতালে অনেকবার গেছি। সেখানে মাহবুব স্যারের খোঁজ করছি কিন্তু তারেও পাই নাই। তার ফোনও বন্ধ। চরফ্যাশন এলাকার ১২ জনরে আমি কাজে আনছিলাম। তারা সবাই নিখোঁজ।

হাশেম ফুড লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম রাজু বলেন, মাহবুবের খোঁজ জানি না। ভবনের কারখানাগুলোতে জালি গেট ছিল। সেখানে আলাদাভাবে কাজের জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আগুনে অন্য ফ্লোরের লোকজন নামতে পারলেও চারতলার লোকজনই আটকা পড়ে। তারা ছয়তলায় যাওয়ার চেষ্টা করেছে। আমার ধারণা, ফ্লোরের সুপারভাইজারের নির্দেশ মানতে তারা ভেতরে একত্র হয়েছিল। কিন্তু ধোঁয়া ও আগুনের কারণে বের হতে পারেনি। ঘটনার পর থেকে মাহবুবের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক (অপারেশন) দেবাশীষ বর্ধন বলেন, আমরা অসংখ্যবার চারতলার গেটের সামনে গিয়েছি। সেখানে ফ্লোরে প্রবেশের আগেই লোহার তৈরি ঝালি গেট বানানো ছিল। দুইটি অংশ একত্র করে মাঝখানে তালা দেয়া হতো। মরদেহগুলো চারতলার পূর্ব পাশের জানালার কাছাকাছি অবস্থায় পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, গেট বন্ধ থাকায় আটকে পড়া শ্রমিকরা জানালা দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আগুনের শিখা ও ধোঁয়া অনেক বেশি ছিল।

চারতলার ওই গেট বানানো হয়েছিল যেন শ্রমিকরা অন্য ফ্লোরে না যায়। তবে আগুন লাগার পর গেটটি কেন বন্ধ করা হয়, তা পরিষ্কারভাবে কেউ জানাতে পারেনি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status