আলট্রাসনো রিপোর্টে দুটি সন্তানের তথ্য, ভূমিষ্ঠ হলো একটি
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Monday, 18 April, 2022, 12:09 PM
আলট্রাসনো রিপোর্টে দুটি সন্তানের তথ্য, ভূমিষ্ঠ হলো একটি
সব শেষ গত ১৬ই এপ্রিল চুয়াডাঙ্গার রজনী খাতুনে পেটে আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে মেলে যমজ বাচ্চার সংকেত। একবার নয়, পরপর তিনবার আল্ট্রাসনোতেই গর্ভে পাওয়া যায় যমজ বাচ্চার তথ্য। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর মেলে একটি সন্তান। তাহলে কি আরেকটি বাচ্চা চুরি গেল? নাকি ভুল ছিল আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে? এ প্রশ্নে তোলপাড় চুয়াডাঙ্গার জেলা জুড়ে।
যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে- যমজ নয়, গর্ভে ছিল একটি সন্তানই। রজনী খাতুন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের ঠাকুরপুর গ্রামের মসজিদপাড়ার রাসেল আলীর স্ত্রী। রবিবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি সন্তানের জন্ম দেয় চুয়াডাঙ্গার ঠাকুরপুর গ্রামের রজনী খাতুন। কিন্তু এতে অবাক রজনী খাতুনের পরিবারের স্বজনরা। কেননা, বাচ্চা জন্মানোর কথা দুটি। সেখানে একটি কেন? এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে চাই তারা।
জানা গেছে, গত ৯ মার্চ চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মা নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে আলট্রাসনোগ্রাফি করা হয়। সেখান থাকা উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) নাজমুল হক স্বাক্ষরিত প্রিন্ট রিপোর্টে জানানো হয় গর্ভে দুটি সন্তান রয়েছে। পরে ৩১ মার্চ আবারো ওই প্রতিষ্ঠান থেকে আলট্রাসনোগ্রাফি করা হয়। সেদিনও ডা: এফ আফরোজ শারমি একই রিপোর্ট দেন।
এরপর গত শনিবার (১৬ এপ্রিল) চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালেও আল্ট্রাসনো করেন হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা: নূর জাহান রুমি। সেই রিপোর্টেও মেলে যমজ সন্তানের তথ্য। পরদিন গতকাল রোববার সদর হাসপাতালেই করা হয় সিজার। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মেলে একটিই সন্তান। আরেকটি সন্তান চুরি গেছে বলে অভিযোগ রোগী স্বজনদের। এর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবী করেছেন তারা।
ভুক্তভুগির স্বামী রাসেল জানান, দুই প্রতিষ্ঠানে তিনবার আলট্রাসনোগ্রাফি করে একই রিপোর্ট এসেছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভুল হলেও সদর হাসপাতালের রিপোর্ট কীভাবে ভুল হয়? আমার আরেকটি সন্তান গেল কোথায়?
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সিনিয়র গাইনী কনসালটেন্ট ডা: আকলিমা খাতুন বলেন, অস্ত্রোপচারের পর নারীর পেট থেকে একটি সন্তানই পাওয়া গেছে। অপারেশন রুমে রুগির স্বজনদের ডেকে দেখানো হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডা: আতাউর রহমান বলেন, সদর হাসপাতালে যে চিকিৎসক আলট্রাসনোগ্রাফি করেছেন, তার সঙ্গে কথা বলে জেনেছি। তিনি একটি বাচ্চার কথাই উল্লেখ করেছেন এবং শুধু সম্ভাব্য আরেকটি থাকতে পারেন বলে জানান। এ জন্য তাকেও দোষ দেওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি মীমাংসা করা হচ্ছে।
আল্ট্রাসনো রিপোর্ট ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন মা নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক জাকির আহমেদ শাহীন। তিনি বলেন, ‘ভুল হয়ে গেছে। ভুলের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। আমার এখানে যারা আল্ট্রাসনো রিপোর্ট দিয়েছেন তারা প্যারামেডিক্যাল ডাক্তার।’
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা: সাজ্জাৎ হাসান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। বিস্তারিত জানতে আমি খোঁজ নিচ্ছি। ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।
তিনি আরও বলেন, একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) কখনোই আলট্রাসনোগ্রাফি করতে পারবেন না। যদি করে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব।