ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ২২ এপ্রিল ২০২৬ ৯ বৈশাখ ১৪৩৩
শান্ত-হৃদয় দেখালেন টি-২০ কীভাবে খেলতে হয়
প্রকাশ: Friday, 10 March, 2023, 12:31 PM

শান্ত-হৃদয় দেখালেন টি-২০ কীভাবে খেলতে হয়

শান্ত-হৃদয় দেখালেন টি-২০ কীভাবে খেলতে হয়

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ‘টুকটুক’ ব্যাটিং চলে না। যেটা নিয়মিত খেলে যাচ্ছিলেন টাইগাররা। তবে এবার শান্ত-হৃদয়-রনির ব্যাটিংয়ে দেখা গেলো টি-টোয়েন্টির আমেজ। বিশ্বসেরা দলের বিপক্ষে এই তিন তরুণ ব্যাটার দেখালেন কীভাবে টি-টোয়েন্টি খেলতে হয়। ১৩ই নভেম্বর ২০২২, পাকিস্তানকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে ইংল্যান্ড। মাঝে ৫ মাস কেটে গেছে। এর মধ্যে এই ফরম্যাটে আর কোনো ম্যাচ খেলেনি ইংলিশরা। বিশ্বজয়ের স্মৃতি এখনো রঙিন তাদের।  কিন্তু তাদের স্বপ্নের দুনিয়ায় দারুণ আঘাত হেনেছে বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তাদের হারিয়ে দিয়েছে টাইগাররা।

গতকাল দাপুটে ক্রিকেট খেলে ৬ উইকেটে জয় কুড়ায় সাকিব বাহিনী। টাইগারদের পয়মন্ত ভেন্যু সাগরিকা স্টেডিয়ামে আরও একটি পয়মন্ত দিন! কানায় কানায় পূর্ণ উৎসবমুখর গ্যালারিতে বাংলাদেশ বাংলাদেশ স্লোগানে মুখরিত হয় জয়ের উল্লাসে। টসে জিতে জস বাটলারের দলকে ব্যাট করতে পাঠিয়ে দেন টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। টাইগার বোলাররা তাদের রুখে দেয় মাত্র ১৫৬ রানে। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে তাদের হাতে ৪ উইকেট অক্ষত থাকলেও স্কোর বোর্ডে তার প্রভাব পড়েনি। জবাবে দারুণ শুরু এনে দেন টাইগারদের দুই ওপেনার রনি তালুকদার ও লিটন দাস। ফিফটি হাঁকান নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি যখন আউট হন দলের স্কোর বোর্ডে ৪ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান। তখন জয়ের জন্য প্রয়োজন ৪৬ বলে ৪৪ রান। তবে অধিনায়ক সাকিব আর আফিফ হোসেন মিলে দলকে আর বিপদে পড়তে দেননি। দুজন অপরাজিত ৪৪ রানের জুটি গড়ে ২ ওভার বাকি থাকতেই দলকে পৌঁছে দেন জয়ের বন্দরে। সঙ্গে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবারের মতো হারানোর ইতিহাস গড়ে টাইগাররা। এ ম্যাচ দিয়ে জয়ের ফিফটিতে পা রাখে বাংলাদেশ।

২০০৬ এ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলতে শুরু করে টাইগাররা। কিন্তু এই ফরম্যাটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলার সুযোগ হয় ২০২১ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। সেবার অবশ্য আবুধাবিতে ৮ উইকেটে হেরে যায় টাইগাররা। এরপর প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে পা রাখে ইংল্যান্ড। চলতি সফরে প্রথম ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয় দুই দল।

এদিন লিটন দাসের সঙ্গে ৮ বছর পর জাতীয় দলে ফেরা রনি তালুকদার দারুণ শুরু এনে দেন। দু’জনের জুটিতে আসে ২১ বলে ৩৩ রান। তবে ১৪ বলে ২১ রান করা রনি আউট হন আদিল রশিদের গুগলিতে। এরপর দলীয় ৪৩ রানের সময় বাজে শটে আউট হন ১০ বলে ১২ রান করা লিটন। কিন্তু দলকে সেখান থেকে জয়ের পথ দেখান নাজমুল হোসেন শান্ত। পাত্তাই দেননি ইংলিশ বাঘা বাঘা বোলারদের। তাকে সঙ্গ দেন অভিষিক্ত তৌহিদ হৃদয়। তারা যেন ফিরিয়ে আনেন বিপিএলে সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে তাদের বোঝাপড়া। পাওয়ার প্লেতে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে তারা এনে দেন ৫৪ রান। সেই জুটি থামে দলকে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে দিয়ে। দলীয় ১০৮ রানের মাথায় ১৭ বলে ২৪ রান করে আউট হন তৌহিদ, সেই সঙ্গে ভাঙে শান্ত’র সঙ্গে তার ৩৯ বলে ৬৫ রানের জুটি। এরই মাঝে টানা ছয় বলে চার হাঁকান তারা। আগের ওভারের শেষ দুই বলে তৌহিদ হৃদয়ের জোড়া চারের পরের ওভারে মার্ক উডকে চার বলে বাউন্ডারি মারেন এই শান্ত।

দারুণ ব্যাটিংয়ে শান্ত ছুঁয়ে ফেলেন ফিফটি। ৮ চারের মারে মাত্র ২৭ বলে পঞ্চাশ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। যা তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি। যদিও এরপর ইনিংসটা আর টেনে নিতে পারেননি, ৩০ বলে ৫১ করেই আউট হন। দুজনে মিলে দলকে জয়ের ভিত্তি গড়ে দিয়ে গেলেও জোড়া উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় বাংলাদেশ। তবে অধিনায়কসুলভ ইনিংসে বাকিটা সামলে নেন সাকিব। আফিফকে সঙ্গে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন তিনি। এর আগে ১৪৪ ম্যাচে টাইগারদের জয়ের সংখ্যা ছিল ৪৯টি।

এর আগে নির্ধারিত ওভার শেষে ৬ উইকেটে ১৫৬ রান তুলে থামে থ্রি লায়ন্সদের ইনিংস। যদিও টস হেরে ব্যাট করতে নেমে এইদিন উড়ন্ত শুরু পেয়ে যায় ইংল্যান্ড, উদ্বোধনী জুটিতে ভর করে পাওয়ার প্লেতেই আসে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান। দুই প্রান্ত থেকেই দারুণ ব্যাট করতে থাকেন জস বাটলার ও ফিলিপ সল্ট। জুটি ভাঙার সুযোগ যে আসেনি তা নয়, তবে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। অপ্রত্যাশিতভাবে এইদিন সবচেয়ে সহজ ক্যাচটাই মিস করেন সাকিব। পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারে নাসুমের বলে জস বাটলারের ক্যাচ মিস করেন সাকিব। যেই ক্যাচ মিসের বেশ কড়া মূল্য দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। অর্ধশতক তুলে নেন ইংলিশ অধিনায়ক, শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে ৬৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

বাংলাদেশ এই দিন প্রথম উইকেটের দেখা পায় দশম ওভারের শেষ বলে, দলীয় ৮০ রানের মাথায় ফিলিপ সল্টকে উইকেট কিপার লিটন দাসের ক্যাচ বানান নাসুম আহমেদ; ৩৫ বলে ৩৮ করেন তিনি। পরের উইকেটের জন্য অবশ্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি, এক ওভার পরেই সাকিবের শিকার হন ডেভিড মালান। ৭ বলে ৪ রান করে আউট হন মালান। এরপর বেন ডাকেটকে নিয়ে ফের জুটি জমিয়ে তুলেন বাটলার, মাত্র ২৬ বলে যোগ করেন ৪৭ রান। তবে পর পর দুই বলে ফিরেন দু’জনে, সেই সঙ্গে ম্যাচে ফিরে টাইগাররা। ১৬তম ওভারের শেষ বলে ২০ রান করা ডাকেটের স্ট্যাম্প ভাঙেন মোস্তাফিজ, আর ১৭তম ওভারের প্রথম বলেই বিধ্বংসী হয়ে ওঠা বাটলারকে ফেরান হাসান মাহমুদ। সেই ওভারে মাত্র ১ রান দেন এই পেসার।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status