|
‘পেন ফ্রেন্ডস’ থেকে ফেইসবুক
এম.এস. দোহা
|
![]() ‘পেন ফ্রেন্ডস’ থেকে ফেইসবুক শুরু হয় অপরিচিত, অচেনা বন্ধু’র সন্ধান। যোগাযোগ। চিঠি চালাচালি। দেশ বিদেশে প্রায় ২৫ জন বন্ধুর খোঁজ পাই। বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা, রেডিও তেহবান, বাংলা বিভাগের ঠিকানা বন্ধুত্ব ম্যাগাজিন থেকে সংগ্রহ করে সদস্য হই। রেডিও স্টেশন গুলোতে নিয়মিত চিঠি লিখতাম, প্রশ্ন করতাম। আর প্রতীক্ষায় থাকতাম কখন ইথারে আমার নাম ও প্রশ্নের উত্তর শুনতে পাবো। তষনকার সময় থ্রিব্যান্ড রেডিওতে যথাসময়ে বল্টু ঘুরিয়ে স্টেশন বের করাটা ছিলো যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং ও এডভাঞ্চার। প্রতিদিন পোস্ট অফিসে হাজিরা দিতাম চিঠির খোঁজে। ফলে পোস্ট মাস্টার, পিয়ন, রানার সবাই এক নামে চিনতো ও আদর করতো। নিজেই মাঝে মাঝে পোস্ট অফিসের চিঠি গুলো সর্টিং বা বাছাই করতাম। আর গুনতাম আমার চিঠি কোনটি। মাঝে মাঝে না পেলে খুব হতাশ ও মন খারাপ হতো। উত্তরবঙ্গেঁর সীমান্তবর্তী নওগাঁর সাপাহারে আব্বার সাথে একই রুমে থাকতাম। আব্বা ছিলেন স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক। রেডিও স্টেশনগুলোতে সংবাদ ও প্রশ্নোত্তোর আমার সাথে আব্বাও শুনতেন। দেশ বিদেশ থেকে পাওয়া বিভিন্ন চিঠি, কার্ড, লিফলেট, পুরস্কার, সার্টিফিকেট মনোযোগ সহকারে দেখতেন। চিঠি লেখার প্রতি আব্বার খুব একটা আগ্রহ ছিলো না। তাই আমার প্রতি কড়া নির্দেশ ছিলো দেশ-বিদেশে আমাদের যত আত্মীয়-স্বজন আছে তাদের সাথে চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ করা। তার মতে কলম বন্ধুদের চেয়ে আত্মীয়-স্বজন হবে বেশী। পেন ফ্রেন্ডসদের নতুন সংস্করন এখন আমার কাছে ফেইসবুক। এই মাধ্যমটার সাথে আমার সম্পর্ক ৫ বছর। এর আগে বুঝতাম না এটি কী জিনিস। এখন দেখি শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই এই ফেইসবুক দুনিয়ায় আসক্ত। বাচ্চারা গেম, পাবজি খেলতে অজ্ঞান। এখন যুক্ত হয়েছে টিকটক। যা সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। কিন্তু আমি ফেইসবুককে ভিন্নভাবে ও ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছি। মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে আমার সাথে চেনা অচেনা প্রায় ৬ হাজার বন্ধু। সাংবাদিকতা ও লেখালেখির সুবাদে অনেকেই আমাকে চিনেন, ভালোবাসেন, শ্রদ্ধা করেন। ইতিবাচক সংবাদ হলো- আমার ইতিবাচক ও জনহিতকর কাজের সাথে তারা সম্পৃক্ত হন। আহব্বান জানালে অনেকে এগিয়ে আসেন। সহযোগিতার হাত বাড়ান। আবার ফেইসবুকের কল্যাণে চেনা-জানা অনেকের ভালো-মন্দ ও সুখ দুঃখের সংবাদে সম্পৃক্ত হতে পারি। এটাও ইতিবাচক। আমার বাসায় এক বস্তা চিঠি, ভিউকার্ড, ম্যাগাজিন দীর্ঘদীন ধরে সংরক্ষণ করে যাচ্ছি। গতকাল প্যাকেট খুলে দেখি ওগুলো এভাবে আর বেশি দিন রাখা যাবেনা। তাই ছবি তুলে স্মৃতি রক্ষার চেষ্টা। এম.এস. দোহা: উপদেষ্টা সম্পাদক, দৈনিক নতুন সময়
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
কলেজছাত্র কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে হাতকাটা হুসাইন’ ও তার সহযোগীদের ফাঁসির দাবি
বাগমারায় ভুয়া চিকিৎসককে ৬ মাসের কারাদণ্ড, ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা
ফুলবাড়ীতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর উদ্বোধন
ভান্ডারিয়ায় প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তাৎক্ষণিক সহায়তা
