আজ শুক্রবার (২৮ জুন) রীমা আক্তারের বাড়িতে হওয়ার কথা ছিল বিয়ের অনুষ্ঠান। কিন্তু রীমার এক কঠিন সিদ্ধান্তে বিয়ের পরিবর্তে তার বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম। রীমার এভাবে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও এলাকায় নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন রীমা। তিনি ঐ এলাকার হীরা তালুকদার বাড়ির বাচা মিয়ার মেয়ে।
জানা গেছে, মিজানুর রহমান মোরশেদ নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল রীমার। মোরশেদ একজন ব্যাংক কর্মকর্তা। উভয়ের পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে ঠিক হয়। বৃহস্পতিবার তাদের মেহেদী এবং শুক্রবার বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল।
রীমার স্বজনরা জানান, দুদিন আগেও মোরশেদের পরিবারকে দুই লাখ টাকা দেয় রীমার পরিবার। বরযাত্রীর খাবারের পরিবর্তে টাকাটি নেন তারা। এছাড়া যৌতুক হিসেবে আরো টাকা দাবি করায় অপমানিত হয়ে রাগে আত্মহত্যা করেন রীমা।
ঘটনার পর রীমার হাতে লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। যেখানে রীমা উল্লেখ করেন, প্রিয় শখের পুরুষ। তুমি করো তোমার বিয়ে। অনেক ভালোবেসেছ এবং অতিরিক্ত যন্ত্রণাও দিয়েছ। আমি পারছি না এত যন্ত্রণা নিতে। বাকি জীবনটা সুন্দর করে উপভোগ করতে পারলাম না। ভালো থেকো। আজকের দিনেও তোমার যন্ত্রণা নিতে পারছি না। আমার পরিবার থেকে যে যৌতুকের টাকা তোমাদের দিয়েছে সেগুলো শোধ করে দিও। তুমি আমাকে বাঁচতে দিলে না।
চিরকুটে রীমা আরো লেখেন, আমি বাঁচতে পারতাম যদি আমি বেশি মানসম্মানওয়ালা পরিবারে জন্মগ্রহণ না করতাম। সবাই আমাকে ক্ষমা করে দিও। আর আমার পোস্টমর্টেম করিয়ে আমার সব যন্ত্রণা ধুয়ে মুছে আমাকে কবরে পাঠিও। আর আমার পরিবারকে বলছি মোরশেদকে তোমরা ছাড়বা না। ওকে ওর প্রাপ্য শাস্তি তোমরা দেবা।
রীমার বড়বোন রুমি আক্তার বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে তাদের মেহেদী অনুষ্ঠান ছিল। শুক্রবার দুপুরে ছিল বিয়ে। পারিবারিকভাবে বিয়ে ঠিক হলে বিয়েতে বরপক্ষ প্রথমে কোনো যৌতুকের দাবি না করলেও পরে দুই লাখ টাকা ও ফার্নিচার দাবি করে। বুধবার বরযাত্রীর খাবার খরচ বাবদ দুই লাখ টাকা বরপক্ষকে দেওয়া হয়। এরপর ফার্নিচার চাইলে তাতেও আমাদের পরিবার রাজি হয়। কিন্তু মেহেদী অনুষ্ঠানের দিন ফানির্চার না দিলে তার স্বামী বিয়েতে অপারগতা প্রকাশ করে। এ নিয়ে মোবাইলে আমার বোনের সঙ্গে তার হবু স্বামীর ঝগড়া হয়। এরপর ঘরের দরজা বন্ধ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে সে আত্মহত্যা করে।
রীমার চাচা নাছির উদ্দীন বলেন, গত রমজানে ব্যাংক কর্মকর্তা মোরশেদের সঙ্গে আমার ভাতিজি রীমার বিয়ের কাবিন হয়। গত রোববার বিয়ের অনুষ্ঠানের দিন ধার্য করা হয়। বিয়েতে ৫০০ বরযাত্রী আসার কথা। কিন্তু হঠাৎ বরপক্ষ জানায়- ১০ জন এসে কনেকে নিয়ে যাবেন, বাকিদের খাবার বাবদ তাদের নগদ দুই লাখ টাকা দিয়ে দিতে বলেন। এরপর তাদের দুই লাখ টাকা দেওয়া হলেও তারা আবার ফার্নিচার দাবি করেন। ফার্নিচার দেওয়ার জন্য দু-একদিন সময় চাওয়া হয় তাদের কাছে। কিন্তু দিতে দেরি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে মোরশেদ রীমাকে গালিগালাজ করেন। এ কারণে রীমা আত্মহত্যা করেছেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে মোরশেদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।
পটিয়া থানার ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় রীমার বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় চিরকুটের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।