ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২৫ জুন ২০২৬ ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
গ্রামীণ ব্যাংকের ৫০ লাখ টাকা হাতিয়েছেন রুপা
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Friday, 23 August, 2024, 2:57 AM
সর্বশেষ আপডেট: Friday, 23 August, 2024, 2:59 AM

গ্রামীণ ব্যাংকের ৫০ লাখ টাকা হাতিয়েছেন রুপা

গ্রামীণ ব্যাংকের ৫০ লাখ টাকা হাতিয়েছেন রুপা

শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৪৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন একাত্তর টেলিভিশন থেকে সদ্য চাকরিচ্যুত ও গতকাল গ্রেফতার হওয়া সাংবাদিক ফারজানা রুপা। গ্রামীণ ব্যাংককে নিয়ে ডকুমেন্টারি তৈরির নামে চুক্তি করলেও কোনো কাজ না করেই ওই ব্যাংক থেকে তিনি ওই অর্থ হাতিয়ে নেন। অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার এ কাজে তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তার স্বামী ও একাত্তর টিভির সদ্য বিদায়ি বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ। গ্রামীণ ব্যাংক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

গ্রামীণ ব্যাংক সূত্রে আরও জানা যায়, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের তরফ থেকে গ্রামীণ ব্যাংকে একটি গোয়েন্দা সংস্থার লোক বসানো হয়েছিল। তাদের চাপে এবং ব্যাংকটিতে বসানো সরকারের পছন্দের চেয়ারম্যান এ কে এম সাইফুল মজিদকে হাত করে ফারজানা রুপা কোনো কাজ না করেই টাকাগুলো ব্যাংক থেকে নেন। 

শুধু তাই নয়, গ্রামীণ ব্যাংকে বসানো সরকারের ওই লোকদের প্রভাব খাটিয়ে ফারজানা রুপাকে ব্যাংকের জনসংযোগের কাজ করার নামে প্রতি মাসে ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার আরেকটি কার্যাদেশ দিয়েছিল গ্রামীণ ব্যাংক। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সে কাজ বাগিয়ে নিতে পারেননি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনড় অবস্থানের কারণে। 


জানা যায়, গ্রামীণ ব্যাংকের সদ্য বিদায়ি চেয়ারম্যান এ কে এম সাইফুল মজিদ ও তার দোসরদের সঙ্গে জোগসাজশে তারা এ টাকা হাতিয়ে নেন। মূলত গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কে অনেক ডকুমেন্টারি তৈরি করবে বলে তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের বিদায়ি চেয়ারম্যানকে প্রস্তাব দেন। কতটা ডকুমেন্টারি করা হবে তার নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা ছিল না। অনেক ডকুমেন্টারি করবেন বলে তিনি তার প্রস্তাবনায় উল্লেখ করেন। 

জানা যায়, ফারজানা রুপা কাজটি বাগিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে বলেছিলেন-গ্রামীণ ব্যাংকের পাবলিক রিলেশন বিভাগ খুবই দুর্বল, তারা এসব ডকুমেন্টারি তৈরি করতে পারবে না। তার মতো দক্ষ সাংবাদিককে কাজ দিলে তিনি ডকুমেন্টারিগুলো ভালোমতো তৈরি করতে পারবেন। তিনি চেয়ারম্যানকে বোঝান যে, গ্রামীণ ব্যাংককে সবল করতে হলে অনেক ডকুমেন্টারি তৈরি করতে হবে, ইউটিউব চ্যানেল খুলে সেখানে ডকুমেন্টারিগুলো চালানো হবে। এসব কথা বলে একটি কার্যাদেশ দিয়ে জোরপূর্বক কাজ বাগিয়ে নেন তিনি। এসব কাজের কথা বলে ফারজানা রুপা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ওই ৪৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। তার সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের চুক্তি ছিল বিভিন্ন পর্যায়ে একেক সময় একেকটি ডকুমেন্টারি তৈরি করে সেগুলো প্রচার করবেন। অথচ কোনো কাজ না করেই কয়েকটি ধাপে তিনি ওই টাকা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে নেন। বিদায়ি শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে সখ্যতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি প্রভাব খাটিয়ে এই কাজ বাগিয়ে নেন, কিন্তু কোনো কাজই তিনি করেননি। 

এ বিষয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদ এ বিষয়ে সময়ের আলোকে বলেন, ‘বিদায়ি শেখ হাসিনা সরকারের তরফ থেকে ব্যাংকে চাপিয়ে দেওয়া গোয়েন্দা সংস্থার লোক বসানো হয়েছিল ব্যাংকের রিসার্চ ও ডেভেলপমেন্ট বিভাগে। তারা ও ব্যাংকের সদ্যবিদায়ি চেয়ারম্যানের অনেক চাপ ছিল আমার ওপর, যাতে আমি এমডি হিসেবে ফারজানা রুপাকে কাজটি দিতে কোনোরকম বাধা না দিই। শুধু তাই নয়, কোনো কাজ না করেই যখন ধাপে ধাপে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন, তখন আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সরকারের বসানো লোকেরা ও চেয়ারম্যান আমাকে জোর করে তাকে টাকা দেওয়ার জন্য বলেন। ফলে বাধ্য হয়ে আমাকে তার টাকার বিলে সই দিতে হয়েছে। ’

তিনি আরও বলেন, ‘একাত্তর টেলিভিশনের সাংবাদিক ফারজানা রুপা একেবারে চিটিং করে আমাদের কাছ থেকে ৪৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অথচ তারা যে কাজের কথা বলেছিলেন তার কিছুই করেননি।’

জানা যায়, পাঁচ মাস আগে সে এই কাজের নামে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে টাকাগুলো তুলে নেন। এই কাজে শুধু ফারজানা রুপা একা ছিলেন তা নয়, তার স্বামী ও একাত্তর টিভির আরেক সাংবাদিক শাকিল আহমেদও এই কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। 

এ বিষয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘এই কাজের বিরুদ্ধে আমি অনেক প্রতিবাদ করেছি, কিন্তু আমার প্রতিবাদ ধোপে টেকেনি। আমি প্রতিবাদ করায় ব্যাংকে সরকারের বসানো লোকেরা আমাকে নানাভাবে হেনস্থা করতেন। তারা একটা টর্চার সেল খুলেছিলেন, ব্যাংকের এমডি হওয়া সত্ত্বেও তারা সেখানে আমাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখতেন শাস্তিস্বরূপ। শুধু তাই না, আমাকে তারা হুমকি দিয়ে বলতেন-আপনি ঝুঁকিতে আছেন, আপনার ফ্যামিলির লোকেরাও ঝুঁকিতে পড়বে। তারা বলতেন-আমরা যা বলব, যেভাবে বলব সেভাবেই কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ওই সিন্ডিকেটের আরও অনেক টাকা লোপাটের টার্গেট ছিল-আমি সেটা নানাভাবে বুঝতাম। এখান থেকে নানারকম ছলনায় টাকা হাতিয়ে নেওয়া তাদের লক্ষ্য ছিল। তবে বিভিন্ন কৌশলে আমি তাদের অনেক অবৈধ উদ্দেশ্য সফল হতে দিইনি। এমন হয়েছে-আমি আগে থেকেই জানতে পারি, আমি আজ ব্যাংকে গেলে আমাকে জোর করে তাদের অবৈধ উদ্দেশ্য হাসিল করাবে। আমি সেদিন অসুস্থতার ভান করে ব্যাংকেই আসিনি। এসব থেকে এড়িয়ে থাকার জন্য দেখা গেছে-এক দিন, দুই দিন বা তিন দিন আমি ব্যাংকেই আসিনি। একরকম পালিয়ে থাকতে হতো আমাকে তাদের অনৈতিক কাজ থেকে রেহায় পেতে।’ 

গ্রামীণ ব্যাংক সূত্রে আরও জানা যায়, ডকুমেন্টারি করার নামে ওই প্রজেক্টের পাশাপাশি ফারজানা রুপা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে আরও অনেক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য আরেকটি প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন। তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের সব জনসংযোগ বা পিআর সংক্রান্ত সব কাজ করার নামে আরেকটি প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন। এই কাজের জন্য তিনি প্রতি মাসে ১৮ লাখ টাকা সম্মানীর প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন গ্রামীণ ব্যাংকে। এর সঙ্গে ভ্যাট-ট্যাক্সসহ মাসে প্রায় ২০ থেকে ২১ লাখ টাকা চলে যেত তার এই কাজের পেছনে। 

এ প্রসঙ্গে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘এই প্রস্তাব পাওয়ার পরই আমি প্রতিবাদ জানাই-পিআর কাজের জন্য প্রতি মাসে একজনকে ১৮ লাখ টাকা করে দিতে হবে-এটা কেমন কথা। আমি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছিলাম-এই কাজ আমি দিতে পারব না। সরকারের বসানো লোক ও চেয়ারম্যানের অনেক চাপাচাপির পরও আমি এই কাজ দিতে রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ফারজানা রুপা কাজটি বাগিয়ে নিতে পারেননি। কারণ যে কাজই হোক বা যে বিলই হোক আমার সই ছাড়া তো বিল তুলতে পারবে না। তাকে এই কাজ কেন আমি দিলাম না-তার জন্য প্রতিদিন আমাকে হুমকি-ধামকি দেওয়া হতো, বলা হতো দেখে নেওয়া হবে আপনাকে। শেষ পর্যন্ত আমার অনড় অবস্থানের কারণে ফারজানা রুপা এই কাজ নিতে পারেননি। যদিও তিনি এই কাজের জন্য গ্রামীণ ব্যাংকে কার্যাদেশ দিয়েছিলেন; কিন্তু আমরা তার সঙ্গে চুক্তি করিনি। ব্যাংকের চেয়ারম্যান সবসময় সরকারের বসানো লোকদের ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করতেন এবং এ ধরনের কাজগুলোতে যাতে আমি বাধা না দিই-তার জন্য সবসময় তিনি আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন।’

এদিকে ফারজানা রুপার বিরুদ্ধে এই অভিযোগের সব তথ্য-উপাত্য হাতে আসার পর ফারজানা রুপার মোবাইল ফোনে অনেকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়ায় তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সবশেষ বুধবার ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ফারজানা রুপা ও তার স্বামী শাকিল আহমেদকে গ্রেফতার করে ডিবি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status