পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজল দিঘি ইউনিয়নের কুচিয়ামোড় ও বন্দরপাড়া এলাকার সংযোগ সড়কের একটি সুইগেট ব্রিজ অতি বৃষ্টির চাপে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে ব্রিজের দু পাশের মাটি ভেঙ্গে পানির স্রোতে ব্রিজ টি দেবে গিয়ে চলাচলের রাস্তা থেকে দেবে যায়। এতে দু পাশের গ্রামের ও হাটবাজারের হাজার হাজার মানুষ চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় অবিরাম মুষলধারে বৃষ্টির কারণে ব্রিজের দুই পাশে মাটি সরে গিয়ে সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে “গত ২৪ ঘণ্টায় পঞ্চগড়ে ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ।
স্থানীয়রা জানান, এই ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এই রাস্তা ছাড়া অন্য কোনো সরাসরি বিকল্প পথ নেই। বিকল্প পথে যেতে হলে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হবে। ফলে রাতে রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ব্রিজের দুই পাশে থাকা পাঁচটি দোকানও পানির তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদাররা জানান, তারা রাত ১১টার পর দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। ভোরে এসে দেখেন, দোকানের কিছুই অবশিষ্ট নেই। জমির উদ্দিন নামে একজন দোকানদার বলেন, “আমার দোকানে বিভিন্ন মালামাল ছিল, সব মিলিয়ে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। কিছুই উদ্ধার করা যায়নি।” স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, “এই ব্রিজটাই ছিল আমাদের একমাত্র ভরসা। ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, কৃষকরা তাদের কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন না।
অন্য আরেকজন বাসিন্দা বলেন, “রাতে কারো অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্সও এখানে আসতে পারবে না। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যেনো দ্রুত অন্তত একটি অস্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করে দেন"। কুচিয়ামোড় ইফতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মনিরা খাতুন বলেন, “ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করতে পারবে না। তাদের কথা ভেবে দ্রুত অন্তত একটি অস্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি।”
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির হোসেন বলেন, “আমরা সরজমিনে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। ওই ব্রিজের সংস্কারের বরাদ্দ এসেছিল, টেন্ডারও করা হয়েছিল। কিন্তু এরই মধ্যে ব্রিজটি ভেঙে গেছে। নতুন ব্রিজ নির্মাণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পানি কমে গেলে অস্থায়ীভাবে ব্রিজ বানানো হবে চলাচলের জন্য।”