উখিয়ায় কৃত্রিম বক ও জাল জব্দ: জীবিত পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত
রফিক মাহমুদ, উখিয়া
প্রকাশ: Saturday, 6 December, 2025, 6:52 PM
উখিয়ায় কৃত্রিম বক ও জাল জব্দ: জীবিত পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত
কক্সবাজারের উখিয়ায় কৃত্রিম বক ও জাল ব্যবহার করে পাখি শিকারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের উখিয়া রেঞ্জের কর্মকর্তারা।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উখিয়া উপজেলার কুতুপালংয়ের মাছকারিয়া ডেবা নামক এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বড় আকারের শিকারি চক্রের কার্যক্রম ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, অভিযানে ৩ হাজার ফুটের ৭০০টি জাল জব্দ করা হয়। ভেঙ্গে দেওয়া হয় ১০০টি ঘর (পাখি শিকারের বাসা), ৩ হাজার কৃত্রিম বক ধ্বংস করা হয়। কৃত্রিম বক ও জালের সাহায্যে জীবিত পাখি ফাঁদে ফেলার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল। যা বন বিভাগের কর্মীরা ধ্বংস করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, “অভিযান চলাকালে ১০টি জীবিত বক ও একটি শামুকখোল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত পাখিগুলো প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে বলে জানায় বনবিভাগ।”
রেঞ্জ কর্মকর্তা আরও বলেন, “উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি কৃত্রিম বক ও জাল ব্যবহার করে পাখি শিকারের প্রবণতা বেড়েছে। এটি শুধু আইনবিরোধী নয়, বরং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে ফেলার কৌশল। বন বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাখিরা স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কৃত্রিম বক ও বিভিন্ন ধরণের জাল ব্যবহার করে পাখি শিকার জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করে এবং পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়।
বন বিভাগ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এই ধরণের অভিযান পরিচালনা করলে সংকটাপন্ন পরিবেশ ও প্রতিবেশ অনেকটা সুরক্ষা পাবে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান। তার সঙ্গে ছিলেন, কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভিন্ন বন বিটের কর্মকর্তা, বন বিভাগের কর্মী, ইআরটি টিম, সিপিজি সদস্যসহ ১৫০ জনের একটি বিশেষ দল।
এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর সকালে একই স্থানে অভিযান চালিয়ে ৫ টি অতিথি পাখি (বালি হাস) উদ্ধার করে বন বিভাগের কর্মীরা উন্মুক্ত পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়।