ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২০ এপ্রিল ২০২৬ ৭ বৈশাখ ১৪৩৩
কর্তৃপক্ষের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই কর্মবিরতিতে শ্রমিক-কর্মচারীরা, অচল চট্টগ্রাম বন্দর
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Saturday, 31 January, 2026, 2:20 PM

কর্তৃপক্ষের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই কর্মবিরতিতে শ্রমিক-কর্মচারীরা, অচল চট্টগ্রাম বন্দর

কর্তৃপক্ষের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই কর্মবিরতিতে শ্রমিক-কর্মচারীরা, অচল চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কড়া হুশিয়ারি উপেক্ষা করে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকে কর্মবিরতিতে নেমেছেন বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা। এতে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালনাকারী এই সমুদ্রবন্দর।

দিনব্যাপী ধর্মঘট পালনের পাশাপাশি বেলা ১১টার দিকে বন্দরে বড় ধরনের বিক্ষোভ মিছিল করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।মিছিলটি বন্দর এলাকার ভেতর থেকে শুরু হয়ে নিমতলা হয়ে ৩ নম্বর গেট পর্যন্ত যায়। পরে সেখান থেকে ফিরে এসে ৪ নম্বর গেটে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন এবং সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অংশ নেন।

সমাবেশে শ্রমিক নেতারা বলেন, নিউমুরিং টার্মিনালটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। তা সত্ত্বেও এটি কেন বেসরকারি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়া হচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা। এই চুক্তি প্রক্রিয়াকে 'অগ্রহণযোগ্য' আখ্যা দিয়ে তাঁরা হুঁশিয়ারি দেন যে, কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না দাঁড়ালে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতি চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ থাকায় বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম থমকে গেছে। এর ফলে দূর-দূরান্ত থেকে পণ্য খালাসের জন্য আসা শত শত ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান বন্দরে আটকা পড়েছে।

সকাল থেকে বন্দরের বিভিন্ন প্রবেশপথে পণ্য ডেলিভারি নিতে আসা শতশত ট্রাক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকলেও প্রায় সব ধরনের পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কোনো গাড়িকেই ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ফলে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংসহ সব অপারেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

বন্দর অচল থাকায় বিপাকে পড়েছেন আমদানিকারক এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা। সময়মতো পণ্য খালাস ও সরবরাহ করতে না পারায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁরা।

এদিকে বন্দর এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বন্দরের প্রতিটি গেট এবং প্রশাসনিক ভবনের সামনে কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন্দর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ নুরুল্লাহ আহার গণমাধ্যমকে বলেন, 'শনিবার সকাল থেকে শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজে যোগ দেননি। বন্দরের সব ইকুইপমেন্ট বন্ধ থাকায় কন্টেইনার হ্যান্ডলিং অপারেশন সম্পূর্ণভাবে থেমে আছে।' তিনি জানান, শ্রমিকরা বন্দরের বিভিন্ন ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন।

আরেক শ্রমিক নেতা হুমায়ুন কবির বলেন, 'ধর্মঘট শতভাগ সফল। শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষের অন্যায্য সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে।' তিনি আরও জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আগামীকাল রবিবারও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status