ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
কারাগারে এপস্টিনের বান্ধবী গিলেন কীভাবে কাটাচ্ছেন, ভিডিওতে ধরা পড়ল দিনলিপি
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Saturday, 7 February, 2026, 5:05 PM
সর্বশেষ আপডেট: Saturday, 7 February, 2026, 5:09 PM

কারাগারে এপস্টিনের বান্ধবী গিলেন কীভাবে কাটাচ্ছেন, ভিডিওতে ধরা পড়ল দিনলিপি

কারাগারে এপস্টিনের বান্ধবী গিলেন কীভাবে কাটাচ্ছেন, ভিডিওতে ধরা পড়ল দিনলিপি

কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের বান্ধবী যৌনকাজে শিশুদের পাচারের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত গিলেন ম্যাক্সওয়েলের কারাগারের দৈনন্দিন জীবন কেমন কাটছে, তা নতুন প্রকাশিত একটি ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে সামনে এসেছে।

গিলেন তাঁর সাবেক প্রেমিক জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে শিশু পাচারের অপরাধে ২০২১ সালে দোষী সাব্যস্ত হন। ভিডিওটি যখন ধারণ করা হয়, তখন তাঁকে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের কুখ্যাত ‘মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে’ রাখা হয়েছিল।

গত সপ্তাহে মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টিন–সংক্রান্ত বিপুলসংখ্যক নথি জনসমক্ষে আনার পর গিলেনের কারাকক্ষে ঘুরে বেড়ানোর এই রহস্যময় ভিডিও ফুটেজটি প্রকাশ করা হয়।

২০২০ সালের ১ জুলাই বেলা ২টার ঠিক আগে নজরদারি ক্যামেরায় ভিডিওটি ধারণ করা হয়। ভিডিওর শুরুতে দেখা যায়, গিলেন খুব স্বাভাবিকভাবে তাঁর কক্ষের বেসিনে কিছু একটা পরিষ্কার করছেন।

কমলা রঙের কয়েদির পোশাক পরা গিলেনকে এরপর ধীরলয়ে তাঁর বিছানার দিকে যেতে দেখা যায়। সেখানে গিয়ে তিনি তাঁর পাতলা ডুভেট (লেপ) এবং বিছানার চাদর ভাঁজ করতে শুরু করেন। তাঁর বালিশের কাছে কমলা রঙের আরেকটি অতিরিক্ত জাম্পস্যুট পড়ে থাকতে দেখা যায়।

সবশেষে চশমা পরা অবস্থায় গিলেন বিছানায় শুয়ে পড়েন এবং একটি বই হাতে নেন। সাজাপ্রাপ্ত এই নারীর লম্বা একটি হাই তোলা এবং বিছানায় আরাম করার দৃশ্যের মাধ্যমেই ফুটেজটি শেষ হয়।

মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারটি অত্যন্ত নিম্নমানের পরিবেশের জন্য কুখ্যাত। কারাগারটির সাবেক ওয়ার্ডেন ক্যামেরন লিন্ডসে দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ‘সমস্যা জর্জরিত’ আটককেন্দ্র। বর্তমানে এই আটককেন্দ্রে লুইগি মাঞ্জিওন ও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো বন্দী রয়েছেন।

ভিডিওটি ধারণ করার পর গিলেনকে টেক্সাসের একটি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। ওই কারাগারের ডাকনাম ‘ক্লাব ফেড’। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চের সঙ্গে দুই দিনে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টার বৈঠকের পর তাঁকে সেখানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

নিউইয়র্কের আটককেন্দ্রের তুলনায় টেক্সাসের এই কারাগারটিকে গিলেন অনেকটা ‘অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’-এর রূপকথার জগতের মতো আরামদায়ক বলে বড়াই করলেও তাঁর বর্তমান কারাজীবন এপস্টিনের বান্ধবী হিসেবে কাটানো বিলাসবহুল জীবনের তুলনায় একেবারেই আলাদা।

নারী পাচার চক্রে জড়িত থাকার সময় গিলেন নিয়মিত এপস্টিনের ব্যক্তিগত দ্বীপ ‘লিটল সেন্ট জেমস’-এ যাতায়াত করতেন। এপস্টিনের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে চড়ে তিনি বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়াতেন।

ওই সময় গিলেনকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরসহ বহু প্রভাবশালী রাজনীতিক ও তারকাদের সঙ্গে দেখা যেত।

কারাগারে যাওয়ার পর থেকে গিলেন বারবার ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে তাঁকে ক্ষমা করার বা সাজা কমানোর আবেদন জানিয়ে আসছেন। গত বছরের অক্টোবরে ট্রাম্প স্বীকার করেছিলেন, গিলেনকে মুক্তি দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর আছে। তিনি বিষয়টি ‘ভেবে দেখবেন’।

ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘জানেন তো, আমি অনেক দিন এই নামটা শুনিনি। আমি এটুকুই বলতে পারি, আমাকে বিষয়টা খতিয়ে দেখতে হবে।’

তবে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত গিলেনের মুক্তির ব্যাপারে নতুন কোনো মন্তব্য করেননি। এপস্টিনকে তিনি একজন ‘অদ্ভুত লোক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

নব্বইয়ের দশকে এপস্টিনের সঙ্গে বহুবার ছবি তোলা হলেও ট্রাম্প বারবার তাঁদের সম্পর্কের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। তিনি দীর্ঘকাল ধরে এই মামলার সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে আসছেন। এই বন্ধুত্বের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status