ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১১ বৈশাখ ১৪৩৩
কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেল সংকট, ফিলিং স্টেশনে কড়াকড়ি: বিপাকে গণমাধ্যমকর্মীরাও
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Saturday, 28 March, 2026, 11:23 AM

কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেল সংকট, ফিলিং স্টেশনে কড়াকড়ি: বিপাকে গণমাধ্যমকর্মীরাও

কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেল সংকট, ফিলিং স্টেশনে কড়াকড়ি: বিপাকে গণমাধ্যমকর্মীরাও

​দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামেও। জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহে রেশনিং পদ্ধতি চালুর পাশাপাশি যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে এই কড়াকড়িতে চরম বিপাকে পড়েছেন জেলায় কর্মরত মাঠ পর্যায়ের গণমাধ্যমকর্মীরাও।

​সরেজমিনে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, মোটরসাইকেলে পেট্রোল নেওয়ার সময় চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ির রেজিস্ট্রেশন কার্ড যাচাই করা হচ্ছে। বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারলে অনেককেই তেল না নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, জেলা প্রশাসনের মৌখিক বা লিখিত নির্দেশনার প্রেক্ষিতেই তারা এই তল্লাশি চালাচ্ছেন যাতে অবৈধ যানবাহনের দাপট কমানো যায় এবং তেলের অপচয় রোধ করা সম্ভব হয়।

​আইনগতভাবে রাস্তাঘাটে যানবাহনের কাগজ যাচাই করার ক্ষমতা কেবল পুলিশ বা বিআরটিএ-এর থাকলেও, বর্তমান জরুরি পরিস্থিতিতে ফিলিং স্টেশনগুলোর এই ভূমিকা নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মতে, তেলের সংকটের সুযোগে কোনো ব্যক্তি যেন অতিরিক্ত তেল মজুদ করতে না পারে সেটি নিশ্চিত করা জরুরি, তবে তা যেন সাধারণ মানুষের হয়রানির কারণ না হয়।

কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেল সংকট, ফিলিং স্টেশনে কড়াকড়ি: বিপাকে গণমাধ্যমকর্মীরাও

কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেল সংকট, ফিলিং স্টেশনে কড়াকড়ি: বিপাকে গণমাধ্যমকর্মীরাও

​সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন কুড়িগ্রামের স্থানীয় সাংবাদিকরা। পেশাগত প্রয়োজনে জেলার দুর্গম এলাকাগুলোতে যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেলই তাদের একমাত্র ভরসা। অনেক সাংবাদিকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলগুলো পুরনো বা জরাজীর্ণ হওয়ায় সেগুলোর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ নেই। দেশের স্বার্থে এবং জনকল্যাণে দিনরাত তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত এসব সংবাদকর্মীদের এখন ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল পেতে বেগ পেতে হচ্ছে।

​এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা জানান, "পেশাগত কাজে সাংবাদিকদের দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হয়। অনেকের মোটরসাইকেলের কাগজপত্র জটিলতা থাকলেও তারা মাঠ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সংকটের এই সময়ে সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র বিবেচনায় নিয়ে তেল সরবরাহে বিশেষ ছাড় দেওয়া উচিত।"

​আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী প্রতিটি যানবাহনের বৈধ কাগজ থাকা বাধ্যতামূলক, এতে কোনো পেশাজীবীর জন্য আলাদা ছাড় নেই। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে জনস্বার্থ বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন সাংবাদিকদের জন্য সাময়িক শিথিলতা প্রদর্শনের সুযোগ রয়েছে।

​কুড়িগ্রামের সচেতন মহল মনে করছে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনের এই কড়াকড়ি প্রশংসনীয় হলেও, যারা মাঠ পর্যায়ে জনগণের তথ্য নিয়ে কাজ করছেন, তাদের চলাচলে যেন বিঘ্ন না ঘটে সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় জেলার সঠিক তথ্য প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status