ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ২২ এপ্রিল ২০২৬ ৯ বৈশাখ ১৪৩৩
ভাইরাল হওয়া ছবির ব্যক্তি বাবা নয় ,আসলে কে তিনি ? জানা গেলো পরিচয়
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Wednesday, 22 April, 2026, 7:44 PM

ভাইরাল হওয়া ছবির ব্যক্তি বাবা নয় ,আসলে কে তিনি ? জানা গেলো পরিচয়

ভাইরাল হওয়া ছবির ব্যক্তি বাবা নয় ,আসলে কে তিনি ? জানা গেলো পরিচয়

রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালের সামনে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তিন বছর বয়সী মৃত শিশু সাদমানকে কোলে নিয়ে এক যুবকের বসে থাকার ছবিটি গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হৃদয়স্পর্শী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

অধিকাংশ ব্যবহারকারী ছবিটির ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘সন্তানের লাশ হাতে দাঁড়িয়ে আছেন বাবা’। তবে এই ছবির পেছনের প্রকৃত ঘটনা এবং সাদমানের মায়ের দেওয়া তথ্যমতে, ছবিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে।


শিশু সাদমানের মা মিম আক্তার গণমাধ্যমের কাছে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে খবরটি ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুল। ছবিতে সাদমানের মরদেহ কোলে থাকা ব্যক্তিটি তার বাবা নন, বরং সম্পর্কে সাদমানের দুলাভাই রাফি। তিনি জানান, একমাত্র সন্তান সাদমানকে হারানোর শোক সইতে না পেরে তার বাবা মো. সজিব এখনো মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং শোকাতুর অবস্থায় বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন।

 সন্তানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মা জানান, সাদমান খুব চঞ্চল ছিল এবং অসুস্থতার সময়ও সে মানসিকভাবে শক্ত থাকার চেষ্টা করত। তবে এবার জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর সে বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অভিযোগ তুলেছেন সাদমানের মা। মিম আক্তার দাবি করেন, হাসপাতালে তাদের সন্তানের চিকিৎসায় ব্যাপক অবহেলা করা হয়েছে। নার্সদের একাধিকবার ডাকলেও তারা সাড়া দিতেন না এবং সাদমানের অক্সিজেন মাস্ক নিয়ে সমস্যায় পড়লে উল্টো নার্সদের অসহযোগিতার শিকার হতে হয়েছে।

 আইসিইউ থেকে তাদের সন্তানের অবস্থার উন্নতির কথা জানানো হলেও বাস্তবে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি এবং শেষ পর্যন্ত টেস্ট রিপোর্ট সম্পর্কেও তাদের সঠিক তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে, মৃতদেহ কোলে নিয়ে সিএনজিতে অপেক্ষমান সেই আত্মীয় রাফি জানান, সাদমানের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই তিনি হাসপাতালে ছুটে যান এবং দ্রুত মরদেহ নিয়ে বের হয়ে আসেন। খরচ এবং সময়ের কথা বিবেচনা করে তারা সিএনজি বেছে নেন।

 ফ্লাইওভার পার হওয়ার আগে সিএনজিতে থাকা অবস্থায় দুই ব্যক্তি এসে শিশুটির পরিচয় জানতে চাইলে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, এর বাইরে কারও সঙ্গে কোনো কথা হয়নি।

চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের বিষয়ে ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডা. আসিফ হায়দার জানিয়েছেন ভিন্ন তথ্য। তিনি জানান, গত ১৬ এপ্রিল কামরাঙ্গীরচর থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে সাদমানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৮ এপ্রিল তাকে ক্রিটিক্যাল ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।

 পরে তার রক্তে নিউমোনিয়ার সংক্রমণ বা সেপটিসেমিয়া ছড়িয়ে পড়ে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ডা. আসিফ দাবি করেন, হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ও আইসিইউ কনসালটেন্টদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল এবং সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার পরও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসার ক্ষেত্রে হাসপাতালের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অবহেলা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status