ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
দুধকুমারে বালু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য, ঝুঁকিতে কোটি টাকা বাঁধ, উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Sunday, 26 April, 2026, 4:57 PM

দুধকুমারে বালু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য, ঝুঁকিতে কোটি টাকা বাঁধ, উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা

দুধকুমারে বালু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য, ঝুঁকিতে কোটি টাকা বাঁধ, উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে তীর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। উপজেলার চর-ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের সামাদের ঘাট এলাকায় তিনটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী চক্র।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই জাহাঙ্গীর আলম, মাইদুল ইসলাম ও আসাদুল ইসলাম নামের তিন ব্যক্তি একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টি ভটভটির মাধ্যমে উত্তোলিত বালু পরিবহন করা হচ্ছে। প্রতিটি ভটভটি বালু বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুধকুমার নদের পশ্চিম তীরে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করছে। তবে বাঁধের খুব কাছেই ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে বাঁধের ব্লক সরে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এলাকার বাসিন্দা এনামুল, মিজানুর রহমান, মাইদুল ও সামাদ বলেন, ‘বাঁধের পাশেই ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদী ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। শুধু বাঁধ নয়, আমাদের বসতভিটা ও ফসলি জমিও হুমকির মুখে পড়েছে।’

দুধকুমারে বালু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য, ঝুঁকিতে কোটি টাকা বাঁধ, উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা

দুধকুমারে বালু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য, ঝুঁকিতে কোটি টাকা বাঁধ, উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ড্রেজার মালিকেরা প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় বালুর ব্যবসা চালাচ্ছেন। ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড্রেজার মালিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাঁদের কোনো প্রশাসনিক অনুমতি নেই। তবে মানুষের বাড়ির ভিটা উঁচু করার জন্য বালু তোলা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

আইনের লঙ্ঘন:
বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪(খ) ধারায় সেতু, কালভার্ট, বাঁধসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। তবে সেই বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বাঁধসংলগ্ন এলাকা থেকেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে:
চর-ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মানিক উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিচ্ছি। অবৈধ কিছু হলে তা বন্ধে প্রশাসনের সহায়তা নেওয়া হবে।’

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, ‘এ ধরনের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের প্রয়োজন হয়। ইউএনও বা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্দেশনা দিলে আমরা সহযোগিতা করব।’

এদিকে বদলিজনিত কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আশঙ্কা বাড়ছে:
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে তীর রক্ষা বাঁধ ধসে পড়তে পারে। এতে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে আশপাশের ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি। তাই দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status