ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ২ মে ২০২৬ ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩
একটি সেতুর অভাবে বন্দি জীবন লামা উপজেলার দুর্গম ফাইতং খালের স্রোতে ঝরে গেছে বহু প্রাণ, কাঁদছে কুইজ্জাখোলা পাড়া
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Saturday, 2 May, 2026, 2:40 PM

একটি সেতুর অভাবে বন্দি জীবন লামা উপজেলার দুর্গম ফাইতং খালের স্রোতে ঝরে গেছে বহু প্রাণ, কাঁদছে কুইজ্জাখোলা পাড়া

একটি সেতুর অভাবে বন্দি জীবন লামা উপজেলার দুর্গম ফাইতং খালের স্রোতে ঝরে গেছে বহু প্রাণ, কাঁদছে কুইজ্জাখোলা পাড়া

একটি সেতুর অভাবে বন্দি জীবন ফাইতং খালের স্রোতে ঝরে গেছে বহু প্রাণ, কাঁদছে কুইজ্জাখোলা পাড়া চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বান্দরবানের লামা উপজেলার ৭নং ফাইতং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের কুইজ্জাখোলা পাড়া। ১৯৮১-৮২ সালের দিকে গড়ে ওঠা এই জনপদ আজও একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে যেন সময়ের গহ্বরে আটকে আছে—অবহেলা আর বঞ্চনার এক নীরব সাক্ষী হয়ে।

ফাইতং বাজারে যাওয়ার একমাত্র পথ খলিলের বাড়ির সামনে ফাইতং খাল। স্বাভাবিক সময়ে ছোট একটি খাল মনে হলেও বর্ষা এলেই এর রূপ বদলে যায় ভয়ংকর দানবে। পাহাড়ি ঢলের প্রচণ্ড স্রোতে এটি তখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়। চারপাশ প্লাবিত হয়ে পড়ে, আর তখন কুইজ্জাখোলা পাড়া হয়ে যায় এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ—যেখানে পৌঁছানো মানেই জীবনের ঝুঁকি নেওয়া।

স্থানীয়দের ভাষায়, “এই খাল আমাদের জন্য শুধু একটি পথ নয়, এটি জীবন-মৃত্যুর সীমানা।” প্রতিটি বর্ষা তাদের কাছে নিয়ে আসে আতঙ্ক, কান্না আর অজানা শঙ্কা।

এলাকাবাসীর দাবি, বছরের পর বছর ধরে এই খাল পার হতে গিয়ে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। কেউ স্কুলে যাওয়ার পথে, কেউ বাজারে যাওয়ার সময়, আবার কেউ অসুস্থ স্বজনকে নিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর ঘরে ফিরতে পারেননি। তাদের স্মৃতি আজও ভাসে এই খালের উত্তাল জলে।

কুইজ্জাখোলা পাড়ার বর্তমান সর্দার মোঃ রাসেল কণ্ঠ ভারী করে বলেন,
“বর্ষা এলেই আমরা যেন পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই। আমাদের শিশুরা বুক কাঁপিয়ে খাল পার হয়। অনেক সময় মায়েরা কান্না করতে করতে সন্তানকে বিদায় দেয়—ফিরে আসবে কিনা সেই নিশ্চয়তা নেই। অসুস্থ মানুষকে কাঁধে তুলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাল পার করতে হয়। আমরা আর কতদিন এভাবে বাঁচবো?”

সাবেক সর্দার মোঃ নেজাম উদ্দিনের কণ্ঠে ঝরে পড়ে দীর্ঘদিনের বেদনা,
“এই খাল আমাদের অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে। আমরা আমাদের স্বজনদের হারিয়েছি এই স্রোতে। প্রতিবার বর্ষা এলে পুরনো ক্ষতগুলো আবারও নতুন করে জেগে ওঠে। একটি সেতু হলে হয়তো আর কোনো মা তার সন্তানকে হারাবে না, আর কোনো পরিবার এমন শোক বয়ে বেড়াবে না।”

শুধু জীবনহানিই নয়, এই সেতুহীনতা প্রতিনিয়ত থামিয়ে দিচ্ছে এলাকার অগ্রযাত্রা। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না, কৃষকের উৎপাদিত ফসল সময়মতো বাজারে পৌঁছায় না, জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রায় অপ্রাপ্য হয়ে পড়ে। উন্নয়ন এখানে কেবল কাগজে-কলমে—বাস্তবে নেই কোনো ছোঁয়া।

কুইজ্জাখোলা পাড়া ছাড়াও আশপাশের একাধিক গ্রামের মানুষের জন্য এই সড়কই একমাত্র ভরসা। অথচ একটি সেতুর অভাবে হাজারো মানুষের জীবন প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে—এ যেন এক নীরব মানবিক বিপর্যয়।

এলাকাবাসীর একটাই দাবি—ফাইতং খালের উপর প্রায় ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি স্থায়ী ও টেকসই সেতু নির্মাণ। তাদের কাছে এটি কোনো বিলাসিতা নয়, এটি বেঁচে থাকার অধিকার।

প্রশ্ন উঠছে—আর কত প্রাণ ঝরে গেলে, আর কত মায়ের কান্না আকাশে ভেসে উঠলে এই জনপদের দিকে নজর পড়বে?
একটি সেতু কি এতই দূরের স্বপ্ন?

কুইজ্জাখোলা পাড়ার মানুষ আজও সেই উত্তরের অপেক্ষায়…

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status