ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২২ জুন ২০২৬ ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
ফুটবল খেলা দেখার সময় কোন দেশের মানুষ কী খায়?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Monday, 22 June, 2026, 1:10 PM

ফুটবল খেলা দেখার সময় কোন দেশের মানুষ কী খায়?

ফুটবল খেলা দেখার সময় কোন দেশের মানুষ কী খায়?

ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলছে উৎসবের আমেজ। কেউ বন্ধুদের নিয়ে বড় পর্দার সামনে জড়ো হচ্ছেন, কেউ আবার পরিবার নিয়ে রাত জেগে খেলা দেখছেন। তবে ফুটবল দেখার অভিজ্ঞতা শুধু খেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা দেশের খাবার সংস্কৃতিও। ম্যাচের উত্তেজনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভক্তরা নিজেদের দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পানীয় উপভোগ করেন।


বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফুটবল দেখার সময় কী খাওয়া হয়, চলুন জেনে নেওয়া যাক-

আর্জেন্টিনা: আসাদো আর মাতে

গত আসরের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে খাবারের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। ম্যাচের আগে বা গুরুত্বপূর্ণ খেলায় পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ‘আসাদো’ বা বারবিকিউ আয়োজন করা খুবই সাধারণ ব্যাপার। গরুর মাংস গ্রিল করে খাওয়ার এই ঐতিহ্য দেশটির সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এছাড়া ‘চোরিপান’ (সসেজ স্যান্ডউইচ), এম্পানাদা এবং ‘পিকাদা’ নামে পরিচিত বিভিন্ন ধরনের চিজ, অলিভ ও মাংসের প্ল্যাটারও জনপ্রিয়। পানীয় হিসেবে অনেকেই বেছে নেন ঐতিহ্যবাহী ‘ইয়েরবা মাতে’, যা আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক।


ব্রাজিল: বারবিকিউ আর ফেইজোয়াদা

ফুটবলপাগল ব্রাজিলে ম্যাচ মানেই উৎসব। বড় ম্যাচের দিন অনেক পরিবার ও বন্ধু মিলে ‘চুরাস্কো’ নামে পরিচিত ব্রাজিলিয়ান বারবিকিউ আয়োজন করে। এছাড়া ‘ফেইজোয়াদা’ কালো শিম ও মাংস দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী খাবার খুবই জনপ্রিয়। বিভিন্ন অঞ্চলে আবার পাঁও দে কেইজো (চিজ ব্রেড) বা স্থানীয় নাস্তাও দেখা যায়।


ইংল্যান্ড: পাই, ফিশ অ্যান্ড চিপস ও চা

ইংল্যান্ডে ফুটবল দেখার সঙ্গে ‘মিট পাই’-এর সম্পর্ক বহু পুরোনো। স্টেডিয়াম হোক বা ঘরের বসার ঘর, অনেক সমর্থকের পছন্দের খাবার এটি। পাশাপাশি ফিশ অ্যান্ড চিপসও জনপ্রিয়। অনেকেই খেলার বিরতিতে গরম চা বা কফির সঙ্গে পাই উপভোগ করেন। পাবে খেলা দেখার সংস্কৃতির কারণে বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকসও জনপ্রিয়তা পেয়েছে।


জার্মানি: ব্রাটভুর্স্ট আর বিয়ার

জার্মানিতে ফুটবল ম্যাচের সময় সবচেয়ে পরিচিত খাবার হলো ‘ব্রাটভুর্স্ট’ গ্রিল করা সসেজ। ফ্যান জোন, স্টেডিয়াম কিংবা ঘরোয়া আয়োজন সব জায়গাতেই এই খাবার দেখা যায়। অনেকের কাছে বিয়ার ও ব্রাটভুর্স্টের যুগলবন্দি ফুটবল দেখার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

মেক্সিকো: টাকোসের জয়জয়কার

মেক্সিকান ফুটবল সমর্থকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে টাকোস। আল পাস্তর, কার্নিটাস কিংবা গ্রিল করা মাংসের টাকোস সবই জনপ্রিয়। বড় ম্যাচের দিনে বাড়ি কিংবা রেস্তোরাঁয় টাকোসের আয়োজন খুবই সাধারণ দৃশ্য।


জাপান: বেন্তো ও সুশি

জাপানের সমর্থকেরা সাধারণত পরিপাটি ও ভাগাভাগি করে খাওয়ার উপযোগী খাবার পছন্দ করেন। তাই ম্যাচ দেখার সময় অনেকেই ঘরে তৈরি বেন্তো বক্স বা সুশি প্রস্তুত করেন। বন্ধুদের সঙ্গে বসে এসব খাবার ভাগ করে খাওয়ার সংস্কৃতি সেখানে বেশ জনপ্রিয়।


দক্ষিণ কোরিয়া: চিকেন আর বিয়ার

দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘চিম্যাক’ অর্থাৎ ফ্রাইড চিকেন ও বিয়ারের যুগলবন্দি ফুটবল দেখার অন্যতম জনপ্রিয় খাবার। বড় ম্যাচের রাতে রেস্তোরাঁ ও ডেলিভারি সার্ভিসগুলোতে চিকেনের চাহিদা বেড়ে যায়।


যুক্তরাষ্ট্র: উইংস, বার্গার ও নাচোস

যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল (সকার) দেখার সংস্কৃতি দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। বড় টুর্নামেন্টের সময় অনেকেই ‘টেইলগেট’ ধাঁচের পার্টি করেন। সেখানে বার্গার, হটডগ, চিকেন উইংস, নাচোস, চিপস ও ডিপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বিশ্বকাপ চলাকালে স্টেডিয়ামগুলোতেও এসব খাবারের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

মাল্টা

মাল্টার বাসিন্দারা খেলা দেখার সময় খান ক্যাপাচিনো আর স্যান্ডুইচ।

ইউরোপের আরও কিছু ব্যতিক্রম

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ফুটবল দেখার সঙ্গে সূর্যমুখীর বীজ খাওয়ার সংস্কৃতিও রয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব ইউরোপের কয়েকটি দেশে এটি জনপ্রিয়। ডেনমার্কে সসেজ ও রুটির সংমিশ্রণকে অনেকেই ম্যাচডে খাবার হিসেবে দেখেন। স্কটল্যান্ডে পাই এবং গরম পানীয় ‘বোভরিল’-এর জনপ্রিয়তাও উল্লেখযোগ্য।

ফুটবল বিশ্বকাপ আসলে শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি সংস্কৃতি, বন্ধুত্ব এবং খাবারেরও উৎসব। একেক দেশের সমর্থকেরা একেক ধরনের খাবার দিয়ে তাদের ফুটবলপ্রেম প্রকাশ করেন। কোথাও ধোঁয়া ওঠা বারবিকিউ, কোথাও টাকোস, কোথাও আবার গরম পাই সব মিলিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপ বিশ্বের নানা স্বাদকে একই মঞ্চে এনে দেয়। তাই পরেরবার কোনো ম্যাচ দেখতে বসলে শুধু খেলার ফল নয়, সেই দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারটিও একবার চেখে দেখতে পারেন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status