|
রামগঞ্জে সাবেক এমপি-মেয়রসহ শতাধিক আওয়ামী নেতাকর্মীদের নামে মামলা
রায়হানুর রহমান
|
![]() রামগঞ্জে সাবেক এমপি-মেয়রসহ শতাধিক আওয়ামী নেতাকর্মীদের নামে মামলা গত ১৬ জুন রামগঞ্জের ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হলের একটি কক্ষ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। মুঠোফোন চুরির অপবাদ দিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে তাকে হত্যা করা হয়েছে এই অভিযোগে মেহেদীর বাবা জিয়া উদ্দিন বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। এতে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৯-১০ জনকে আসামি করা হয়। ঘটনায় হল সুপার মোঃ শরিফুল ইসলাম এবং দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এই মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় তীব্র জনরোষ তৈরি করে। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই উত্তেজনার মধ্যেই একই দিন (১৬ জুন) একদল ব্যক্তি একাডেমির সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দেয় এবং প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালায়। বাধা দিতে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও উপস্থিত ব্যক্তিদের ওপর হামলা-মারধরের অভিযোগও ওঠে। এই ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার (২২ জুন) ভোলাকোট ইউনিয়নের দেবনগর গ্রামের বাসিন্দা ও ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী রবিউল হাসান রাব্বি বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন খাঁন, যিনি ঢাকার ধানমন্ডিতে আনোয়ার খাঁন মডার্ন হাসপাতালের মালিক। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সহ-সভাপতি শামছুল হক মিজান, দপ্তর সম্পাদক এমরান হোসেন (ইট বাচ্চু), সাবেক পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেলাল আহমেদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম (বিএসসি), উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক শহীদ চৌকিয়া, যুবলীগ নেতা মোরশেদ আলম বাবু, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সৈকত মাহমুদ সামছু, যুবলীগ নেতা ইরান পাটোয়ারী ও মিলন পাটোয়ারী, মোস্তাফিজুর রহমান সুমন ভূঁইয়া, সাবেক কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন রাজু এবং সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হান্নান বাবুসহ মোট ২৯ জন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় সৃষ্ট জনরোষকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে একাডেমিতে হামলা-ভাঙচুর চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন, যাতে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তবে এই মামলায় ঢালাওভাবে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আসামি করায় স্থানীয় অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের বক্তব্য, শিক্ষার্থীরা প্রকৃত অপরাধীদের আটকের দাবিতে আন্দোলন করেছিল, কিন্তু সেই আন্দোলনকে ব্যবহার করে মূল ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে রাজনীতি শুরু হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের বাবা জিয়া উদ্দিন এই মামলা সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন এবং এ বিষয়ে আর কিছু বলতে রাজি হননি। রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
