|
যে দেশে ভুঁড়িওয়ালা পুরুষদের সৌন্দর্যে পাগল নারীরা!
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() যে দেশে ভুঁড়িওয়ালা পুরুষদের সৌন্দর্যে পাগল নারীরা! দক্ষিণ ইথিওপিয়ার ওমো ভ্যালি অঞ্চলে বাস করা ‘বোডি’ জনগোষ্ঠীর শতবর্ষী সংস্কৃতিতে ‘বড় শরীরই সেরা’। এই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর তাদের সমাজে অনুষ্ঠিত হয় ‘কা’ইল’ নামক একটি বিশেষ ঐতিহ্যবাহী উৎসব। এই উৎসবের মূল আকর্ষণ হলো অবিবাহিত তরুণদের ছয় মাসব্যাপী ওজন বাড়ানোর এক চরম প্রতিযোগিতা। ছয় মাসের কঠোর সাধনা ও রক্ত-দুধের খাদ্যতালিকায় ওজন বৃদ্ধি কা’ইল উৎসব উপলক্ষে বোডি জনগোষ্ঠীর প্রতিটি পরিবার তাদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য একজন করে অবিবাহিত পুরুষকে নির্বাচন করে। নির্বাচনের পর টানা ছয় মাস সেই তরুণদের সমাজ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে একটি নির্দিষ্ট কুঁড়েঘরে রাখা হয়। এই সময়ে যেকোনো ধরনের শারীরিক পরিশ্রম বা কুঁড়েঘর থেকে বের হওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এমনকি তরুণদের জন্য পালন করতে হয় যৌনসংযম। ওজন দ্রুত বাড়ানোর জন্য এই ছয় মাস তাদের প্রধান খাবার থাকে তাজা গরুর রক্ত ও দুধের বিশেষ মিশ্রণ। বোডিরা গবাদিপশুকে অত্যন্ত পবিত্র মনে করে, তাই কোনো পশুকে হত্যা করা হয় না। বিশেষ উপায়ে গরুর শিরার ক্ষুদ্র অংশে ছিদ্র করে রক্ত সংগ্রহ করা হয় এবং পরে সেখানে মাটি দিয়ে ক্ষতস্থান ঢেকে দেওয়া হয়। প্রতিদিন সকালে লিটার লিটার রক্ত ও দুধের তরল পান করা মোটেও সহজ কাজ নয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে ফরাসি আলোকচিত্রী এরিক লাফোগিউ জানান, অতিরিক্ত তরল পানের কারণে অনেক প্রতিযোগী তীব্র শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করেন, তবে সমাজের চূড়ান্ত সম্মান অর্জনে তারা এই যন্ত্রণা সহ্য করে নেন। উৎসবের দিনে বিশাল ভুঁড়ির প্রদর্শনী ছয় মাসের কঠোর তপস্যা শেষে কা’ইল উৎসবের দিন তরুণরা কুঁড়েঘর থেকে জনসমক্ষে বেরিয়ে আসেন। শরীরে কাদা ও ছাই মেখে, মাথায় উটপাখির পালকের মুকুট পরে তারা নিজেদের বিশাল মেদ-ভুঁড়ি নিয়ে গর্বের সঙ্গে প্রদর্শনীতে অংশ নেন। উৎসব প্রাঙ্গণে একটি পবিত্র গাছকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৃত্তাকারে হাঁটতে হয়। গোত্রের বয়োবৃদ্ধ পুরুষরা তাদের শারীরিক গঠন পর্যবেক্ষণ করেন, আর নারীরা তাদের ঘাম মুছে দেন ও অতিরিক্ত পানীয় পানের সেবা দেন। পুরো প্রক্রিয়ার শেষে যার পেট সবচেয়ে বেশি ফোলা এবং বাহ্যিক অবয়ব সবচেয়ে বিশাল, তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বিজয়ী পুরুষ কোনো আর্থিক বা বস্তুগত পুরস্কার পান না, তবে বোডি সমাজে সারা জীবনের জন্য অর্জিত হয় ‘বীর’ বা ‘নায়কের’ উপাধি। বোডি নারীদের কাছেও বিজয়ী পুরুষেরা পান জীবনসঙ্গী হিসেবে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার। আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তির আশঙ্কায় অনন্য ঐতিহ্য বোডি সমাজ সাধারণত অত্যন্ত রক্ষণশীল এবং নিজেদের সংস্কৃতি নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখে। ফলে বহিরাগত বা পর্যটকদের এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে। তবে বিশ্বের অনেক প্রাচীন সংস্কৃতির মতো আধুনিক নগর সভ্যতা ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ধাক্কায় এই অনন্য কা’ইল উৎসব এবং ভুঁড়ি বাড়ানোর ঐতিহ্যটি এখন ধীরে ধীরে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়েছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
