|
সৌন্দর্যের মঞ্চে সবুজের বার্তা, মলি আক্তারের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
স্নিগ্ধা আঁখি
|
![]() সৌন্দর্যের মঞ্চে সবুজের বার্তা, মলি আক্তারের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নির্বাচিত প্রতিযোগীদের হাতে ‘ইয়েস কার্ড’-এর পরিবর্তে তুলে দেওয়া হয়েছে নিমগাছের চারা। সম্প্রতি ‘মিস অ্যান্ড মিসেস এলিগেন্স বাংলাদেশ সিজন-২’-এর দ্বিতীয় অডিশন রাউন্ডে নেওয়া এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। আয়োজকদের মতে, সৌন্দর্যের মঞ্চকে শুধু বাহ্যিক রূপ বা প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এমন উদ্যোগ। মলি আক্তারের ভাবনা, সৌন্দর্য শুধু চেহারা বা বাহ্যিক আকর্ষণের নাম নয়। একজন নারীর আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব, প্রতিভা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধও তাঁর সৌন্দর্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই ভাবনা থেকেই সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতার সঙ্গে সবুজের বার্তা যুক্ত করা হয়েছে। মলি আক্তার বর্তমানে ‘মিস অ্যান্ড মিসেস এলিগেন্স বাংলাদেশ’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পাশাপাশি Miss Earth Bangladesh-এর National Director হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর লক্ষ্য, সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নারীদের আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের বিকাশের পাশাপাশি পরিবেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল করে তোলার বিষয়টিও সামনে আনা। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম অডিশন রাউন্ডে শতাধিক প্রতিযোগীর মধ্য থেকে মিস ও মিসেস—দুই ক্যাটাগরিতে প্রায় ৫০ জনকে বাছাই করা হয়। দ্বিতীয় অডিশন রাউন্ডে তাঁদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ২০ জন। এই বাছাইয়ে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। প্রতিযোগীদের আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব, প্রতিভা, উপস্থাপনা দক্ষতা এবং নেতৃত্বের গুণও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবে দ্বিতীয় রাউন্ডের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী অংশ ছিল নির্বাচিত প্রতিযোগীদের হাতে নিমগাছের চারা তুলে দেওয়া। মলি আক্তারের ভাবনা, একজন প্রতিযোগীর পরবর্তী ধাপে নির্বাচিত হওয়ার মুহূর্তটি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সেই অর্জনের সঙ্গে সমাজ ও পরিবেশের জন্য ইতিবাচক একটি বার্তাও যুক্ত হতে পারে। একটি চারা রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে যেমন পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি উপকার তৈরি হয়, তেমনি একজন আত্মবিশ্বাসী ও সচেতন নারী পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের ভূমিকা রাখতে পারেন—এই প্রতীকী বার্তাই দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিযোগিতার মিস ক্যাটাগরির সেরা প্রতিযোগী আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাবেন। নির্বাচিত প্রতিনিধি ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিতব্য Miss Earth 2026-এ অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আয়োজনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন এবং বোর্ড অব ডিরেক্টর ইবনে সাঈদ অঙ্কুরসহ সংশ্লিষ্টরা এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। সৌন্দর্যের মঞ্চে মুকুট জয়ের স্বপ্ন নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই স্বপ্নের সঙ্গে যখন একটি গাছ, সবুজ পরিবেশ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ যুক্ত হয়, তখন প্রতিযোগিতার অর্থও বদলে যায়। একটি ‘ইয়েস কার্ড’ একজন প্রতিযোগীকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যায়। আর একটি গাছের চারা হয়তো ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করবে আরও সবুজ একটি পৃথিবী। মলি আক্তারের ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ তাই একটি নতুন বার্তাই সামনে আনছে—সৌন্দর্য শুধু নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের মধ্যে নয়, সমাজ ও পরিবেশের জন্য ইতিবাচক কিছু করার মধ্যেও রয়েছে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
