ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শিশু কলি হত্যা, রিমান্ডে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Monday, 21 September, 2026, 3:50 PM

শিশু কলি হত্যা, রিমান্ডে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

শিশু কলি হত্যা, রিমান্ডে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

পাবনার সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামের ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোস্তফা প্রামাণিক রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, মাগরিবের নামাজের পর শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় এবং এর প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে তাকে হত্যা করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার ঘটনাতেও অংশ নেন তিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই বেনু রায় জানান, রিমান্ডে মোস্তফা ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তার দাবি, দুজন মিলে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছেন। তবে অপর আসামি ইয়াসিন আলী ধর্ষণ ও হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, হত্যার পর মোস্তফা তার কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলেন এবং তিনি শুধু মরদেহ সরানোর কাজে সহযোগিতা করেছেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কলি মোস্তফার মুদিদোকানের সামনে একটি বেঞ্চে বসেছিল। মাগরিবের নামাজ শেষে মোস্তফা তাকে দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে কয়েক দফা ধর্ষণের পর বালিশ চাপা দিয়ে শিশুটিকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার দিন সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে কলি তার ভাইকে নিয়ে মোস্তফার দোকানে চিপস কিনতে যায়। এ সময় মোস্তফা তার মোবাইল ফোনে শিশুটির একাধিক আপত্তিকর ভঙ্গির ছবি তোলেন বলে পুলিশের দাবি। পরে মোস্তফার ফোন পরীক্ষা করে এসব ছবি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, মোস্তফার মোবাইল ফোনে দোকানে আসা বিভিন্ন বয়সী ছোট মেয়েদেরও আপত্তিকর ভঙ্গিতে তোলা আরও অনেক ছবি পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তার আগের কর্মকাণ্ড নিয়েও তদন্ত করা হচ্ছে।

ঘটনার পরও মোস্তফার আচরণে পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, কয়েক দিন ধরে তিনি নিহত শিশুর বাবার সঙ্গে মিশেছেন এবং গভীর রাতে মোবাইল ফোনে কলির নিখোঁজের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। এমনকি কলির সন্ধান ও বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ ও মানববন্ধনেও তিনি অংশ নেন। মরদেহ উদ্ধারের সময়ও সাংবাদিক ও পুলিশের কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার পর রাত ১০টার দিকে মোস্তফা আবার তার মুদিদোকান খোলেন এবং রক্তমাখা শরীর নিয়ে গোসল করেন বলে রিমান্ডে জানিয়েছেন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর নিখোঁজ হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় তার খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াসিন আলীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, কলিকে ফুসলিয়ে মোস্তফার দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নেওয়া হয়। ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দী করে গোপন করার চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়া এবং কুকুর তাড়া করায় সেটি বাইরে নিতে পারেননি তারা।

মরদেহ উদ্ধারের পর পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত ও ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। পুলিশের দাবি, পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। পরে দুজনকে হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলেও দ্রুত স্বীকারোক্তিমূলক তথ্য পাওয়ায় রিমান্ড আগেই শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তা বেনু রায় বলেন, মামলার তদন্ত প্রায় ৯৯ শতাংশ শেষ হয়েছে। এখন ডিজিটাল ফরেনসিকসহ কয়েকটি পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া বাকি। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিহত শিশুর আলামত রাজশাহী সিআইডিতে পাঠানো হবে। ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর ধর্ষণের ঘটনায় একজন নাকি দুজন জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর দুই আসামিরও ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত তিনদিন ধরে মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে ভাঙচুর চালাচ্ছেন উৎসুক জনতা। স্থানীয়দের দাবি, বাড়িটির প্রায় ৮০ শতাংশ ভাঙচুর হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকেও অনেকে সেখানে আসছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, সাত দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দাবিতে রোববার দুপুরে পাবনা আদালত ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ঘেরাও করেন নিহতের স্বজন ও সাধারণ মানুষ। মামলার তদন্তে কালক্ষেপণ হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status