|
রাড্ডা গুঁড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্যে কারা, অনুসন্ধানে যা বেরিয়ে এল
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() রাড্ডা গুঁড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্যে কারা, অনুসন্ধানে যা বেরিয়ে এল স্থানীয় লোকজন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ আরও কয়েকটি সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে হামলার আয়োজনের তথ্য পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙিয়ে দেয় হামলাকারীরা। এই সমিতির কার্যক্রমের সঙ্গেও স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁরা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের (মিষ্টি) ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। ফেরদৌসী আহমেদ অবশ্য এই হামলার ঘটনায় জড়িত নন বলে দাবি করেছেন। তিন দিন ধরে দেশব্যাপী আলোচিত এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে হামলার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের কাউকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি। অন্যদিকে এই ঘটনায় নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় গতকাল রোববার শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানটিতে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হামলা হয়। ২০০ থেকে ২৫০ জন বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। সেখানকার দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট কর হয়। এক্সক্যাভেটর বা ভেকু দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর সমিতির নাম লেখা দুটি সাইনবোর্ড ও দুটি ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে শাহ আলী থানায় মামলা করা হয়। তাতে বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেলেও হামলা ঠেকাতে বা দুর্বৃত্তদের আটক করার কোনো চেষ্টাই করেনি বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। হামলার আগে লোক জড়ো, অস্ত্র সংগ্রহ স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হামলার আগে জড়িতদের অনেকে শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে লেলিন এবং এজাহারভুক্ত আসামি বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে তাঁরা সেখান থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা করতে যান। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে বি-ব্লক মাঠসংলগ্ন লেলিনের কার্যালয়ের সামনে লোকজন জড়ো হচ্ছে, যা কাছাকাছি এক সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গেছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সংলগ্ন বিভিন্ন মার্কেটের ফুটেজে ঘটনার সময় একটি সাদা মাইক্রোবাস ঘুরতে দেখা যায়। স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, হামলা ও ভাঙচুরের সময় হানিফ মিয়া, আবুল কালাম এবং ঢাকা মহানগর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশা ওরফে পাপেলসহ আরও কয়েকজন একটি সাদা মাইক্রোবাসে ঘটনাস্থলের আশপাশে ঘুরে নির্দেশনা দেন। এ বিষয়ে লেলিন, হানিফ ও পাপেলের বক্তব্য জানার জন্য তাঁদের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হয়; কিন্তু ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ ছাড়া মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও সাড়া মেলেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আবুল কালাম ও হানিফের কার্যালয়ের সামনে থেকে এসে হামলাকারীরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রসংলগ্ন ছিন্নমূল মার্কেটের কাছাকাছি একটি স্থান থেকে লাঠিসোঁটা, রামদা, হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র সংগ্রহ করে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার আগে তারা মাথায় কাপড় বাঁধে ও মুখোশ পরে। ঘটনাস্থলে ভাঙচুর ও লুটপাটের নেতৃত্ব দেন শাহ আলী থানা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন ওরফে নাডা আওলাদ এবং ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইলিয়াস। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ভাঙচুরে ব্যবহৃত এক্সক্যাভেটর জোগাড় করেন শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মারুফ। তাঁকে সহযোগিতা করেন সোলেমান নামের এক ব্যক্তি। সোলেমানের কোনো দলীয় পদ নেই। সমিতি ও স্থানীয় নেতাদের যোগসূত্র হানিফ মিয়া, আবুল কালাম ও মোস্তফা জগলুল পাশা—তিনজনই সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তাঁদের মধ্যে আবুল কালামকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী পরিচয় দিয়ে এলাকায় ব্যানার ও পোস্টার দেখা গেছে। হানিফের কোনো ব্যানার-ফেস্টুন চোখে না পড়লেও তিনি ওই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে চান বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। তিনি ফেরদৌসী আহমেদের আত্মীয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানারে অনেক দিন ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গাটি দখলের চেষ্টা চলছিল। সমিতিতে যুক্ত গাজী শাহ আলম, আবদুর রহিম হাজরাসহ অনেকে একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাঁরা বিএনপির স্থানীয় কিছু নেতা-কর্মীর সঙ্গে যোগসাজশ করে ওই সমিতির কার্যক্রমে যুক্ত হন। মিজান হাজরা, ইসমাইল হাজরা, নুর ইসলাম হাজরাসহ একই পরিবারের একাধিক সদস্যও সমিতিতে যুক্ত রয়েছেন। সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে হানিফের নির্দেশেই সমিতিটি চলছিল। শাহ আলী থানা এলাকার অন্য সমিতিও তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের পরদিন সমমনা সমিতির পক্ষে হওয়া মানববন্ধনেও সমিতির সঙ্গে যুক্ত এই ব্যক্তিরা অংশ নেন। সমিতির ঠিকানা হিসেবে মিরপুর ১ নম্বর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন বৈশাখী সুপার মার্কেটের কথা উল্লেখ রয়েছে। গতকাল বিকেলে মার্কেটের চতুর্থ তলায় সমিতির কার্যালয় বন্ধ পাওয়া যায়। পাশের দোকানিরা বলেন, কক্ষটি প্রায়ই বন্ধ থাকে। মাঝেমধ্যে কয়েকজন এসে বৈঠক করেন। কমিটিতে কারা আছেন, তা তাঁরা বিস্তারিত জানেন না। ঘটনার পর থেকে কার্যালয়টি খোলা হয়নি। জানতে চাইলে সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, ২০০২ সালে তিনি ওয়ার্ড কমিশনার হন। কমিশনার থাকা অবস্থায় ২০০৬ সালে তাঁর স্বাক্ষরে ওই সমিতির নামে জায়গাটি বরাদ্দ দেওয়ার আবেদন করেন। এর পর থেকে তিনি আর সমিতির সঙ্গে জড়িত নন। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে ফেরদৌসী আহমেদ বলেন, ‘আমি এ ঘটনায় জড়িত না। এর বাইরে আমি আর কিছু জানি না।’ এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেরদৌসী আহমেদ বলেছিলেন, সমিতির সঙ্গে তাঁর নাম থাকলেও ভাঙচুরের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। মামলা হয়েছে, পুলিশ আইনগতভাবে তদন্ত করে দেখুক। ওই সূত্রগুলোর ভাষ্য, ওসি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভাঙচুরের বিষয়ে অসত্য তথ্য দেন। তিনি জানিয়েছিলেন, বৈধ কাগজপত্র থাকা লোকজন নিজেদের জায়গার দখল বুঝে নিচ্ছেন। এমনকি ওই রাতে দখলদারদের একজনের সঙ্গে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে মুঠোফোনে কথা বলিয়ে দেন। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা, ওসি প্রত্যাহার পুলিশ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার রাতেই শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমকে ভাঙচুরের খবর জানানো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি পুলিশের একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তবে হামলাকারীদের আটক বা নিবৃত্ত করার উদ্যোগ নেননি বলে এসব সূত্রের অভিযোগ। পুলিশ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি খতিয়ে দেখতে গঠিত তদন্ত কমিটি শনিবার রাতে ডিএমপি কমিশনারকে প্রতিবেদন দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাহাঙ্গীর আলমকে ওসির দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দলমত-নির্বিশেষে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। অপরাধী সে অপরাধীই।’ গ্রেপ্তার ১০, মালামাল উদ্ধার ভাঙচুরে জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার রাতে মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাব্বি (২০) নামের চার তরুণকে গ্রেপ্তার করে শাহ আলী থানা-পুলিশ। পুলিশ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জুয়েল শাহ আলী বাগের করলাপাড়ায় থাকতেন। অন্য তিনজন শাহ আলী মাজার এলাকার ভাসমান তরুণ। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, টাকার বিনিময়ে তাঁরা ভাঙচুরে অংশ নেন। এরপর শনিবার সন্ধ্যায় আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের পাঁচজনকে শাহবাগ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। অন্যজনকে শাহ আলী থেকে গ্রেপ্তার করে থানা-পুলিশ। তাঁরা হলেন মো. শাহাদাত হোসেন (৩৩), কাজী মকবুল হোসেন (৫৮), মো. শাহ আলম (৫৩), মো. আতিকুর রহমান (৩৩), মো. কামরুল ইসলাম (৫২) ও মো. শাকিল (২০)। গতকাল আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে শাহ আলম সমমনা সমিতির সদস্য বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, দারুসসালাম থানার বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকা থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের লুট হওয়া আসবাব, টিকা, রেজিস্টার খাতা, ফ্রিজ, অফিসের কাগজপত্র, প্রিন্টার, জেনারেটরসহ ৪৬ ধরনের মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। মালামাল বহনকারী দুটি কাভার্ড ভ্যানও আটক করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে কারা এক্সক্যাভেটর এনেছিলেন এবং নেতৃত্বে কে বা কারা ছিলেন, তা জানার চেষ্টা করছেন তাঁরা। ধ্বংসস্তূপের সামনে সেবা গতকাল বিকেলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শনে যান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম। এ সময় তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যেভাবে ভাঙচুর হয়েছে, এটা অপ্রত্যাশিত। যারাই এই ঘটনায় জড়িত, তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে। আমরা চাচ্ছি দ্রুত সংস্কার কাজটা করতে, যাতে আপনারা ভেতরে বসে চলমান কাজগুলো করতে পারেন।’ সকালে সেখানে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার সমালোচনা করেন এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একপর্যায়ে সেখানে হামলাকারীদের টাঙানো সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির সাইনবোর্ড তুলে ফেলা হয়। পরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শনে গিয়ে তাসনিম জারাও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বিচার দাবি করেন। ১৯৭৪ সালে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কার্যক্রম শুরু করে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার। শিশুদের টিকাদান, শিশুস্বাস্থ্য, প্রজননস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি। আমাদের মতো গরিব মানুষেরা এখন কোথায় যাবে? স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো ধ্বংসস্তূপের সামনে বসে রোগীদের সেবা দেন কর্মীরা। সকাল থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত মূল ফটকের সামনে রাস্তার ওপর সীমিত পরিসরে অর্ধশতাধিক নারী ও শিশুকে সেবা দেওয়া হয়। কর্মীরা জানান, ৩৭টি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এই কেন্দ্রে গর্ভবতী নারীদের কম খরচে আল্ট্রাসনোগ্রাম, বিভিন্ন পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ ছিল। এখন এসব সেবা বন্ধ। অনেকে এসে ফিরে যাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বলেন, আমাদের একটাই দাবি, যে বিলবোর্ডটি টাঙানো হয়েছিল, সরকার যেন সেটাকে ধরেই তদন্ত করে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এসেছিলেন মনোয়ারা বেগম। কিন্তু ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে আসা মানুষের ভিড় দেখে ফিরে যাচ্ছিলেন তিনি। তিনি বলেন, আমাদের মতো গরিব মানুষেরা এখন কোথায় যাবে? সূত্রঃ প্রথম আলো |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
