ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২৮ জুন ২০২৬ ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
কণ্ঠ : আবার অনন্য নন্দিতা রায়
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Sunday, 19 May, 2019, 9:50 PM
সর্বশেষ আপডেট: Sunday, 19 May, 2019, 10:53 PM

কণ্ঠ : আবার অনন্য নন্দিতা রায়

কণ্ঠ : আবার অনন্য নন্দিতা রায়

পরিচালনা: শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-নন্দিতা রায়
অভিনয়: শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, পাওলি দাম, জয়া আহসান

ফার্সি কবি রুমি লিখেছিলেন, ‘এমন একটা কণ্ঠ আছে, যা শব্দ ব্যবহার করে না, শোনো।’ কিন্তু বাস্তবজীবনে যদি কারও কণ্ঠ হারিয়ে যায়? তখন এই কাব্য বা দর্শন বোধহয় হাস্যকর মনে হয়।





জনপ্রিয় রেডিও জকি অর্জুন মল্লিকের ক্যানসারের চিকিৎসায় তাঁর ভয়েস বক্স বাদ যায়। একজন বাচিক শিল্পীর কাছে তাঁর কণ্ঠই সম্পদ। আর সেটাই যদি চলে যায়, তাহলে মারণরোগমুক্ত হয়ে বাঁচার ইচ্ছেটাও থাকে কি? এই বিষাদগ্রস্ত অর্জুনকে জীবনের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নেয় স্পিচ থেরাপিস্ট রোমিলা। ছবির ট্রেলার দেখে থাকলে কোনও চমকের আশা নিয়ে আসবেন না, কারণ গোটা ছবির সারসংক্ষেপ ট্রেলারে দেখিয়ে দিয়েছেন পরিচালক নন্দিতা রায় এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তবে প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের প্রাপ্তি একটা অসম্ভব সুন্দর যাত্রা। অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরার যাত্রা। ছোট – ছোট মুহূর্ত এক সুতোয় গেঁথে যে অনবদ্য একটি অভিজ্ঞতা তাঁরা উপহার দিয়েছেন, তাতে হাসি, কান্না, কষ্ট, নিরাপত্তাহীনতা… সবই আছে। ছবিটি শুরু হয় একটি খুব সুন্দর ঘটনা দিয়ে। যেন গোড়াতেই সুরঙ্গের দেশের আলো দেখা যাচ্ছে। তবে সেটা প্রেক্ষাগৃহের জন্যেই তোলা থাক।


শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে অভিনেতা হিসেবে নতুন করে পাওয়া গিয়েছে এই ছবিতে। একজন সফল বাচিক শিল্পীর প্রত্যয়ের পাশাপাশি কণ্ঠ হারানো এক মানুষের অসহায়তা, রাগ, সবই তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন সমান পারদর্শিতার সঙ্গে। এই শিবপ্রসাদ দর্শকের অদেখা। অর্জুনের স্ত্রী পৃথার (যে নিজেও বাচিক শিল্পী) ভূমিকায় পাওলি দাম অনবদ্য। একদিকে সংসারের হাল ধরা, অন্যদিকে ভালবাসার মানুষের চক্ষুশূল হয়ে ওঠা পৃথার চোখই তাঁর সমস্ত অনুভূতির ধারাভাষ্য দিয়ে দেয় যেন। বিশেষ করে বলতে হয় একটি দৃশ্যের কথা, যেখানে রাতে অর্জুনের ঘর থেকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও উঠে চলে যায় সে। আর অসহায়তার কান্নায় ভেঙে পড়ে দম্পতি। স্পিচ থেরাপিস্ট রোমিলার ভূমিকায় জয়া আহসনকে বড় ভাল লেগেছে। Oesophageal voice দিয়ে কথা বলার জন্যে বেশ পরিশ্রম করেছেন তিনি বোঝা যায়। স্পিচ থেরাপির খুঁটিনাটি খুব সুন্দরভাবে দেখানোর জন্যে দুই পরিচালককে ধন্যবাদ।

বিভিন্ন পার্শ্বচরিত্রে পরান বন্দ্যোপাধ্যায়, কনীনিকা, এমনকী টুকাইয়ের ভূমিকায় শিশুশিল্পী যথাযথ অভিনয় করেছেন। ছবির গান আলাদা প্রশংসার দাবিদার, গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অনুঘটকের কাজ করেছে গানগুলো। শুধু দ্বিতীয়ার্ধে সম্পাদনার কাঁচি আরও ক্ষুরধার হলে হওয়া উচিত ছিল। আর, শেষদিকে গতি কিছুটা মন্থর লাগে। এগুলো খুবই সামান্য কিছু বক্তব্য। সবদিক দিয়ে বিচার করলে ‘কণ্ঠ’ – কে শিবু – নন্দিতা জুটির অন্যতম সেরা ছবি বললে বোধহয় অত্যুক্তি হবে না। ছবির শুরুতেই যে সুরঙ্গের শেষে আলোর কথা বলেছিলাম, ছবির শেষ দৃশ্যে সেই আলোয় পৌঁছে মনে হয়, যাত্রাটা বোধহয় ততটা কঠিন ছিল না। হয়তো পথটা ‘ডিপ্রেশন’ – এর গোদা বাংলা ‘মন খারাপ’- এর মতোই সরল। সত্যিই কি তাই? নাকি শিবু – নন্দিতার সহজ করে গল্প বলার জন্যেই এমন ইলিউশন হয়?

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status