|
ইচ্ছেমতো ওষুধ খাচ্ছেন, পরিণাম জানেন তো?
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() ইচ্ছেমতো ওষুধ খাচ্ছেন, পরিণাম জানেন তো? কী কী সমস্যা হতে পারে : আমরা ভাবি ভিটামিন ‘এ’ বা কৃমির ওষুধ নিজে থেকে খেলে বুঝি কিছু হয় না। কিন্তু এগুলোর মতো সাধারণ ওষুধ গর্ভের শিশুর মারাত্মক ক্ষতি করে। লিভারের রোগীর জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ হতে পারে মারাত্মক ক্ষতির কারণ। মোটা হয় না বলে অনেকেরই অনেক কষ্ট থাকে। মোটা হওয়ার জন্য স্টেরয়েড ওষুধ ধান অনেকে। এর ফলে মারাত্মক কুশিং সিনড্রোমে (কর্টিসল হরমোনের নিয়ন্ত্রণহীন বৃদ্ধির ফলে উদ্ভূত সকল সমস্যা) আক্রান্ত হন। এটা বয়ে বেড়াতে হয়। আবার হুট করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ওষুধ বন্ধ করে দিলেও অনেক বিপদ হতে পারে। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় আন্দাজে দিনের পর দিন ওষুধ খেয়েই চলেছেন। কিন্তু সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ওমিপ্রাজল না বুঝে এক বছরের বেশি খেলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া এটি পাকস্থলীতেও সমস্যা করতে পারে। আলসার, ডায়রিয়ার মতো সমস্যা বেশি হয় আপনার অজান্তেই। জ্বর-সর্দি আর গায়ে ব্যথায় প্যারাসিটামল সবাই ই খায়। প্যারাসিটামলের মূল নাম এসিটামিনোফ্যান, বড় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই৷ কিন্তু যখন তখন বেশি করে খেলে এটি যকৃৎ অকার্যকর করে দিতে পারে। যাদের আগে থেকে যকৃতে সমস্যা আছে, মদ্যপান বেশি করেন, অন্যান্য ওষুধ খান- তাঁদের জন্য এই প্যারাসিটামল বিপর্যয় আনতে পারে। বিভিন্ন ব্যথার রোগীরা নিয়মিত ব্যথানাশক খান। এতে কিডনি বিকল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ব্যথানাশকে পাকস্থলীর আলসার হয়, রক্তক্ষরণও হতে পারে। হাড় ক্ষয় কমাতে আর হাড় মজবুত করতে ক্যালসিয়াম খাওয়ার প্রবণতা আমাদের রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবয়স্ক ও বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে। কিন্তু ক্যালসিয়াম দীর্ঘদিন খাওয়ার ফলে হৃদরোগ-স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে, কিডনিতে পাথরও হতে পারে। আবার এমন অনেক ধরনের ওষুধ আছে যেগুলো না বুঝে খেলে রক্তচাপ বেড়ে যায়, স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়ে। এছাড়াও এমন অনেক ওষুধ আছে যেগুলো না জেনে খেলে অ্যালার্জি হতে পারে। মাথায় রাখুন কিছু বিষয় ১. বিশেষ অবস্থায় (যেমন গর্ভাবস্থায়, লিভার বা কিডনির রোগে) সাধারণ ওষুধ বা প্রেসক্রিপশন ছাড়া পাওয়া যায়, তাও চিকিৎসকের পরামর্শেই ব্যবহার করতে হবে। শুধু ফার্মাসিস্টের কাছ থেকে ওষুধ কেনা উচিৎ। কেনার সময়ে আগে মেয়াদ দেখে নিন। ২. চিকিৎসক ওষুধের যে নিয়ম বলে দেবেন (কতটুকু ওষুধ খেতে হবে, সেটা কতক্ষণ পরপর, কতদিন খেতে হবে, খাবার আগে না পরে খাবেন) তা মেনে ওষুধ খাবেন। ব্যবস্থাপত্র ছাড়াও সেটা অন্য কোথাও আপনার বোঝার সুবিধার্থে সহজ করে লিখে রাখুন। অন্যের সাহায্য নিতে পারেন। নিজে থেকে ওষুধের কোনো মাত্রাই পরিবর্তন করবেন না। ৩. অনেকে একবার চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে বার বার সেটা দেখিয়ে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কেনেন। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, প্রথম ব্যবস্থাপত্রে যে ওষুধ যতদিন খেতে বলা হয়েছে, ততদিনই খাওয়া যাবে। আবার সেই একই অসুখ হলেও ঐ ওষুধ কাজ নাও করতে পারে। ৪. সামান্য রোগে উতলা হয়ে ব্যথা বা যন্ত্রণা কমাতে ওষুধ খেয়ে নেবেন না। আর রোগ সেরে গেছে ভেবে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। সুস্থ হয়ে গেলেও ওষুধের পুরো কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। কোনো সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ৫. একই সঙ্গে অ্যালোপ্যাথিক বা অন্যান্য পদ্ধতির চিকিৎসা চললে তা চিকিৎসককে অবশ্যই জানাবেন। আর যে ওষুধ যেভাবে সংরক্ষণ করতে বলা হবে, সেভাবেই করবেন। ফ্রিজে বা নির্দিষ্ট তাপমাত্রা উল্লেখ করে দিলে সেভাবেই রাখবেন। ৬. ফার্মেসিতে অনেক সময় প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ না দিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে অন্য কোম্পানি বা একই ধরনের ওষুধ দিয়ে দেন। এটা কখনোই মেনে নেবেন না। চিকিৎসক যা দেবে, আপনি সেটাই কিনবেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
কলেজছাত্র কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে হাতকাটা হুসাইন’ ও তার সহযোগীদের ফাঁসির দাবি
বাগমারায় ভুয়া চিকিৎসককে ৬ মাসের কারাদণ্ড, ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা
ফুলবাড়ীতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর উদ্বোধন
ভান্ডারিয়ায় প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তাৎক্ষণিক সহায়তা
