ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ২৬ জুন ২০২৬ ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
স্বর্ণের লোভ দেখিয়ে এমএলএম কোম্পানির প্রতারণা, আটক তিন রাজীব
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Wednesday, 19 June, 2019, 11:07 AM

স্বর্ণের লোভ দেখিয়ে এমএলএম কোম্পানির প্রতারণা, আটক তিন রাজীব

স্বর্ণের লোভ দেখিয়ে এমএলএম কোম্পানির প্রতারণা, আটক তিন রাজীব

‘মাল্টি লেভেল মার্কেটিং’পদ্ধতিতে ‘ইউনি-পে’ কোম্পানি স্বর্ণের লোভ দেখিয়ে দ্বিগুণ লাভের প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাখো যুবকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় কোটি টাকা। কোম্পানিটির ব্যবসা যখন তুঙ্গে আর সদস্য যখন লাখ ছাড়িয়ে দশ লাখের ঘরে ঠিক কখনই হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায় কোম্পানির ওয়েব সাইট। গা ঢাকা দেয় কোম্পানির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের সব কর্মকর্তা। পুরো দেশের প্রায় দশ লাখ গ্রাহকের হাজার কোটি টাকা মিলিয়ে যায় ইন্টারনেটের তরঙ্গে।




প্রায় বছরখানেক পর ‘ডেসটিনি’ নামক এমএলএম কোম্পানির মাধ্যমে আবারো ফিরে আসে পুরোনো সেই প্রতারক চক্র। কোটি টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে একশ্রেণির তরুণ-তরুণী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবারও হাতিয়ে নেয় হাজার কোটি টাকা। এদের মধ্যে রয়েছে ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড, স্পিক এশিয়া, যুবক হাউজিং, সেলফ অ্যামপ্লয়মেন্ট, ভিসাসহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

ডেসটিনির পরিচালকদের বিরুদ্ধে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করে সরকার। ডেসটিনির কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১০০  কোটি টাকা বিদেশে পাচারের প্রমাণ পায় বাংলাদেশ ব্যাংক। বন্ধ হয়ে যায় ডেসটিনি। দেশে নিষিদ্ধ হয় এমএলএম ব্যবসা।

ডেসটিনি-২০০০ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সে চক্রটি ‘পণ্য বিপনন’ এর করার কথা বলে প্রতিষ্ঠা করে মিশন-১০ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। প্রথমে নগরীর দেওয়ানহাট মোড় ও পরে শেখ মুজিব রোডের ফায়ার সার্ভিস কার্যালয় সংলগ্ন একটি বিল্ডিংয়ের চার তলায় প্রায় দুই বছর ব্যাপী সফল ভাবে এমএলএম ব্যবসা চালায় চক্রটি। হাতিয়ে নেয়  কোটি টাকা। কিন্তু  রাজীব দাশের সাথে মিশন-টেন’র চেয়ারম্যানের বনিবনায় না হওয়ায় হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় মিশন-টেন’র কার্যক্রম। আবারও পথে বসে হাজারও গ্রাহক।

ডবলমুরিং থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মিশন-টেন কোম্পানিতে থাকাকালীন সময়ে ২০১৬ সালে খালেদ নামে এক ক্ষতিগ্রস্থ যুবক ক্ষতিপূরণ চাইতে গেলে অফিস ভাংচুর ও টাকা লুটের অভিযোগ আনে রাজীব দাশ। থানা পুলিশকে দিয়ে সে মামলায় খালেদকে গ্রেফতার করে জেলাহাজতেও পাঠানো হয় । অভিযোগ রয়েছে, ডবলমুরিং থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে মিথ্যা মামলায় খালেদকে ফাঁসিয়ে দেয় রাজীব দাশ।

ই-কমার্স পদ্ধতির নামে নতুন কৌশলে প্রতারণার ফাঁদ পেতে লাখো গ্রাহককের কাছ থেকে আবারও শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে রাজীব দাশ,রাজীব মিত্র আর রাজীব তালুকদার। ২০১৭ সাল থেকে নগরীর ভিআইপি টাওয়ারের তৃতীয় তলায় ‘এনেক্স ওয়ার্ল্ডওয়াইড লিমিটেড’র নামে ই-কমার্স পদ্ধতিতে পন্য বেচাকেনার নাম দিয়ে শুরু করেছে প্রতারণার নতুন ফাঁদ।

‘এনেক্স ওয়ার্ল্ডওয়াইড লিমিটেড’ এর  প্রেসিডেন্ট রাজিব মিত্র, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুলফিকার আলী, পরিচালক ফিরোজ আলম, পরিচালক মোহাম্মদ রহমান খান ও পরিচালক ইউনুস আলী। এরা সবাই ‘ডেসটিনি-২০০০’এর সঙ্গে একসময় যুক্ত ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা য়ায়, চার হাজার স্কয়ার ফিট আয়তনের ওই অফিসে কিছু নির্দিষ্ট হাতেগোনা ভোগ্যপণ্য ও ২-৩ আইটেমের ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য আর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া পাঁচটি প্রফেশনাল কোর্স প্রশিক্ষণের অফার দিয়ে চলছে এই ব্যবসা।  এছাড়া দেশ-বিদেশের ১৮টি নামিদামি কোম্পানির পণ্য ফলাওভাবে প্রচার করলেও তারা মূলত অখ্যাত কিছু প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের পণ্যই নিজেদের নিবন্ধিত গ্রাহকদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করছে তারা।

এনেক্স ওয়ার্ল্ডওয়াইড লিমিটেডের পেমেন্ট পদ্ধতিটা হচ্ছে ‘বাইনারি’।  কোম্পানির সদস্য হওয়ার পর ডান-বামে ক্রেতা সংগ্রহ করে তাদের কাছে পন্য বিক্রির মাধ্যমে পয়েন্ট সংগ্রহ করতে হয় সদস্যদের। ‘বাইনারি’ সিস্টেমে ডান-বাম মেলাতে পারলে নিয়ম অনুসারে কখনো পান ৩ হাজার আবার কখনো পান ১ হাজার ৫শ টাকা। আর ডান-বাম মেলাতে না পারলে কমিশন থেকে যায় কোম্পানির হিসাবেই।  

সূত্র জানায়, বিক্রিত পণ্যের কমিশন দিতে গিয়ে এক একটি পণ্য বিক্রি হয় ৫গুণ বেশি দামে।  আপলাইনের ৫ আইবিওর কমিশন সাড়ে সাত হাজার টাকা বিয়োগ হলে ৬০০ টাকার ওই বিক্রিত পণ্যের বাজারমূল্য দাঁড়ায় তিন হাজার টাকা। এক হিসেবে ওই ১৫ হাজার টাকার প্যাকেজের পণ্য বাজারমূল্যের চেয়ে পাঁচগুণেরও বেশি রেখে বিক্রি করা হয় এনেক্স ওয়ার্ল্ডওয়াইডে।

এছাড়া ‘এনেক্স ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ এর ফ্রি মেম্বারশিপ (আইবিও) নিতে করতে হয় ‘কোর্স’। পাঁচ ধরনের কোর্স বাবদ আদায় করা হয় ৫৫০০, ৫৬০০, ৬০০০, ৬৫০০ ও ৭০০০ টাকা। কোর্সগুলোর মধ্যে রয়েছে স্পোকেন ইংলিশ, কম্পিউটার, বিউটি পার্লার কোর্স, ডিজিটাল মার্কেটিং ও  কোরআন শিক্ষার কোর্স। সূত্র জানায়, কোনো কোর্স করানোর সরকারি অনুমোদন নেই ‘এনেক্স ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ এর।

খোঁজ নিয়ে যায়, ২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়ার পর ‘এনেক্স ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। প্রথম দিকে প্রতিজন সদস্যের ডিজিটাল হিসাবে নিন্মবর্তী সদস্যদের তালিকা প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হলেও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি সদস্যদের তালিকা হাইড করে দিয়েছে ‘এনেক্স ওয়ার্ল্ডওয়াইড’। প্রতি সদস্যের কাছ থেকে কোর্স ফি বাবদ গড়ে ৫হাজার টাকা আদায় করলেও গত তিন বছরে এই কোম্পানিটি গ্রহকদেও কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা।

রাজীব দাশ,রাজীব মিত্র আর রাজীব তালুকদার এই তিনজন হলেন চট্টগ্রামে হায়হায় কোম্পানি নামক এমএলএম ব্যবসার অন্যতম হোতা। মূলত এই তিনজনের হাত ধরেই প্রতিবারই চট্টগ্রামে বিস্তার ঘটে এমএলএম ব্যবসার। ওঠতি বয়সি তরুণ যুবক-যুবতিদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটি চক্র।

সূত্র জানায়, রাজীব দাশ,রাজীব মিত্র আর রাজীব তালুকদার এবং তাদের আত্মীয় স্বজনরা প্রায় সময় অবৈধ পথে ভারতে যায়। এমএলএম কোম্পানির নামে হাতিয়ে নেয়া কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছে সূত্র।

‘এনেক্স ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ থেকে প্রতারিত হওয়া আইবিও সদস্য রবিউল হোসেন বলেন, এই তিন রাজীবের কাছে এমএলএম ব্যবসা হলো চড়–ইভাতির মতো। ওরা মানুষ ঠকিয়ে আনন্দ পায়।

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টিভিতে ‘এনেক্স ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ এর প্রতারণার বিষয়টি নিয়ে সরজমিনে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে এই তিন রাজীবের মানুষ ঠকানোর কুকর্ম আবারও সবার সামনে আসে।

উল্লেখ্য, এমএলএম ব্যবসার মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে কোতোয়ালী থানা পুলিশ চট্টগ্রাম নগরীর কাজির দেউড়ি ভিআইপি টাওয়ারের চতুর্থ তলায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটকে করেছে।

মঙ্গলবার রাতে কোতোয়ালী থানা পুলিশের একটি টিম এনেক্স ওয়ার্ল্ডওয়াইড লিমিটেড’র কার্যালয় থেকে তাদের আটক করে। আটকদের মধ্যে রাজীব তালুকদার, রাজীব দাশ, রবিন মিত্র, অপু দাশ,উজ্জ্বল সেন,সুমন বিশ্বাস,রঞ্জিত গুহ রয়েছেন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status