নিশি হানিফ। একজন নারী উদ্যোক্তা। সংসার জীবনে সঙ্গী হানিফ মাহমুদ। দাম্পত্য জীবনে তারা চার সন্তানের জনক-জননী। ভার্চুয়াল জগতেও তারা ৩টি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। 'কারুকাব্য' ও 'টিএল এক্সপ্রেস কুরিয়ার' নিয়ে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তারা মানুষের সেবায় গড়ে তুলেছেন 'ফুড কার্ট'। নিজেদের সন্তানের মতই ভালোবেসে গড়ে তুলেছেন এই ব্যবসায়ীক পরিসর।
নতুন সময়'র কাছে নিশি বলেন, আমি বিজনেস শুরু করি ২০১৩-তে। আমার ছোট ছোট দুইটা বাচ্চা নিয়ে কিছু করতে পারবো কিনা জানতাম না। কিন্তু কাজ টা দরকার ছিল অনেক। আমার পরিবার এর জন্য, নিজের জন্য কিছু করার ইচ্ছা ছিল।
সফল দম্পত্তি, লক্ষ্য বহুদূর
তিনি আরো বলেন, এরপরই শুরু করলাম জীবনযুদ্ধ। আমাদের সময়টাতে এতোটা সহজ ছিল না বিজনেস করা। সত্যি বলতে নিজের একটা মোবাইল পর্যন্ত ছিল না। হাজবেন্ডের মোবাইল দিয়ে কাজ করতাম আর ভরসা ছিল ল্যাপটপ। দুইবছর অফলাইন এ যুদ্ধ করে দিশা পাচ্ছিলাম না৷ অনলাইন এর চেষ্টাটা শুরু হয় ২০১৫-তে এসে। খুবই অদ্ভুত ভাবে নিয়তির খেলায় ঘুরে গেল জীবন। এক ফেসবুক গ্রূপের এডমিনের রিভিউতে পরের দিন থেকে প্রচুর অর্ডার আসা শুরু হলো। হুট করেই শুরু হয়ে গেলো আমার অনলাইন জীবন।
নিশি হানিফ বলেন, বড় ভাবী নতুন মোবাইল কিনে তার পুরাতন মোবাইলটা আমাকে গিফট করে দিলেন। তখনই পুরোদমে শুরু হলো অনলাইনের জগতে নিজেকে খাপ খাওয়ানো। আস্তে আস্তে অনেক কিছু বুঝে উঠলাম, অনেক কিছু নতুন জানলাম, অনেক কিছু শিখলাম৷ সেই যে শুরু হলো পথচলা ৭বছর ধরে চলছে, আলহামদুলিল্লাহ ।
স্মৃতি চারণ করে এই উদ্যোক্তা বলেন, ২০১৮-তে আবারও কনসিভ করলাম। তাও আবার জমজ বাচ্চা৷ প্রেগন্যান্সির শুরুতেই এত বেশি অসুস্থ হয়ে উঠলাম যে যেই মেয়ে ২৪ঘন্টা খেটে নিজের একটা অবস্থান তৈরি করেছে, সে নিজের পায়েও দাঁড়াতে পারতো না সহজে। পুরোপুরি বেড রেস্টে চলে গেলাম। ৯টা মাস কাজ থেকে দূরে থেকে রীতিমতো ডিপ্রেসনে পরে গেলাম ।
সফল দম্পত্তি, লক্ষ্য বহুদূর
তিনি বলেন, কাজ আমার এত প্রিয় কারন নিজের স্বাধীনতা, খুশি সবটাই আমি কাজের ভেতর পাই । কিন্তু টুইন প্রেগন্যান্সি হওয়ার কারণে নিজেই বুঝে উঠতে পারছিলাম না আমি কি আসলে কন্টিনিউ করতে পারবো? সাহসটুকু করে উঠতে পারছিলাম না আর। কিন্তু ৯ মাসের মাথায় বাবুরা হওয়ার ঠিক ১২ দিনের মাথায় শুরু করলাম আবার নতুন করে পেইজের কাজ। আগে চলছিলো এক ধরনের কাজ, এবার হাজবেন্ডের সাথে মিলে আর নিজের প্রচেষ্টায় শুরু করলাম একবারে তিন ধরনের কাজ।
নিশি বলেন, হাজবেন্ডের নতুন বিজনেস কি করলে ভাল হবে বুঝতে না পারায় শুরু করতে বললাম কুরিয়ার বিজনেস। যেহেতু অনলাইন জগতে অনেক বছর ধরে আছি তাই বেশ কিছু মানুষ চিনতো আমাকে। সেই সুবাদে পরিচিতদেরকে নক করার পরের দিন থেকে অনেকেই দিলো পার্সেল।
তিনি বলেন, এই কাজটা অনেক চ্যালেঞ্জিং। শুরু করার কিছু দিনের মধ্যেই বুঝে উঠলাম এটা খুব সহজ জিনিস না। অনেক মানুষের ভরসা আস্থার জায়গা এটা। একেকটা উদ্যোক্তা তাদের পরিশ্রমের সবটুকু তুলে দেয় আমাদের হাতে। আমাদের একটু ভুলে তাদের ক্ষতি বেশি হবে। তাই সেই ভরসার জায়গায় আমাদের অনেক বেশি মন প্রাণ দিয়ে কাজ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা কাজ করে গেলাম রাত দিন। রোজার ঈদে আর কোরবানি ঈদে আমাদের কাজের ভালো প্রেসারই বলে দিচ্ছে আমরা মোটামুটি ভালো কাজ করছি বলেই হয়তো মানুষের ভরসার জায়গায় আমরা আসতে পারছি।
সফল দম্পত্তি, লক্ষ্য বহুদূর
এই নারী উদ্যোক্তা বলেন, সবশেষে হাত দিলাম "ফুড কার্ট" নামের পেইজে। যেটা নিয়ে কিছু না বললেই না৷ ভালবাসা এবং জেদ থেকেই খুব শখ করে ৭ বয়াম আচার নিয়ে শুরু করেছিলাম পেইজটা। প্রথমদিনেই এলো ২৫ টা অর্ডার। সেই যে আচার নিয়ে শুরু, এখন আস্তে যোগ হচ্ছে অর্গানিক অনেক জিনিস। আলহামদুলিল্লাহ, বেশ ভালোই সাড়া পাচ্ছে ফুড কার্ট।
ভবিষ্যত নিয়ে নিশি বলেন, আসলে সত্যি বলতে আমার এই তিনটা বিজনেসের প্রত্যেকটা আমার সন্তানের মত। একটু একটু করে বড় করছি। ইনশাআল্লাহ একদিন আমার এক ছাদের নিচেই অনেক ধরনের বিজনেস একত্রে চলবে। সবার দোয়াপ্রার্থী।