ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২৯ জুন ২০২৬ ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
জিপিএইচ'র গ্রাসে সর্বশান্ত এলাকা বাসী
মুহাম্মদ ইউসুফ খাঁন
প্রকাশ: Thursday, 5 December, 2019, 9:43 AM

জিপিএইচ'র গ্রাসে সর্বশান্ত এলাকা বাসী

জিপিএইচ'র গ্রাসে সর্বশান্ত এলাকা বাসী

প্রচণ্ড শব্দ দূষণ আর আকাশজুড়ে কালো ধোঁয়ায় বিষিয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ। এতে করে সীতাকুন্ডের কুমিরা ইউনিয়নের একে একে তিনটি পাড়া বিলুপ্তের পথে । কুমিরা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড উত্তর মসজিদ্দা এলাকার খানজানি পাড়া ও দাশ পাড়াসহ তিনটি পাড়ার আর মাত্র কয়েকটি পরিবার অবশিষ্ঠ রয়েছে।

সময়ের ব্যাপার এ কয়েকটি পরিবারেরও অস্তিত্ব  নিশ্চিহ্ন হতে পারে।দাশ পাড়ার সতিন্দ্র কুমার দাশের বড় ছেলে পুলিন দাশ ( ৫৫) দুঃখের সাথে জানান যে,  আমাদের জমি ঘর ভিটে প্রায় যেতে বসেছে।গত কয়েক বছর ধরে চাতালের কাজ ও বন্ধ রয়েছে। এখন আমরা বেকার। ফ্যাক্টরীর লোকজন আনাগুনা করলেও আশাজনক কোন সাড়া পাচ্ছি না। জিপিএইচের লোকজন পেছনের জায়গাগুলো প্রতি শতকে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকায় কিনে নেয়। অথচ রাস্তার পাশ ঘেঁষে আমাদের এ জায়গা।

এ জায়গার দাম প্রতি শতক ২০ লাখ টাকার উপরে বিক্রি হবার কথা। কিন্তু মিলের লোকজন বলছে শতক মাত্র ৫ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে আমার চার ভাই বিধান তপন রূপন ও নয়নের সাথে বায়না করেছে ১২০ শতক জায়গা। আমার জায়গা নিয়ে কারো সাথে বায়না আমার হয়নি। এদিকে বায়নার বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্হানীয় কবির ড্রাইভার ওরফে কবির কোম্পানী। কবির ড্রাইভারও ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করে বলেন বিগত ৮ মাস পূর্বে পুলিনদের ভাইদের সাথে শতক হিসেবে সাড়ে ৫ লাখ বায়না করি। কোম্পানীর পক্ষ থেকে কোন প্রকার সাড়া শব্দ না পাওয়ায় আপাদতঃ জায়গা বিক্রি বন্ধ রয়েছে।

এদিকে কোম্পানীর লোক হয়ে মোক্তার হোসেন ওরফে জামাই জায়গা জমি ক্রয় করছে বলে জানা যায়। মোক্তারসহ কবির কোম্পানী মিলে একটি সিন্ডিকেট জিপিএইচ ফ্যাক্টরীর জন্য জায়গা কিনে বলে জানা যায়। এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পুলিন দাশকে ধান শুকানোর উঠান কোদাল মেরে কুপিয়ে জমি বানাতে। সে ওই উঠানে শাক সব্জির চাষ করার জন্য তৈরী করছে বলে জানান।

এদিকে ফ্যাক্টটির কারনে গত বছরও  এলাকাজুড়ে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।  পানি নিষ্কাশনের  পথও অনেকাটা সরু হয়ে যাওয়ায় সামনের মৌসুমে এলাকাতে আরো ব্যাপকহারে জলাবদ্ধতা সৃস্টির আশংখা রয়েছে। এতে করে ঐ এলাকার জনবসতি অনুপযোগী হয়ে উঠবে।আর  এ সুযোগে কোম্পানীর লোকজন নামমাত্র মূল্যে এসব জায়গা সহজেই হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনায় স্বিদ্ধহস্ত। ইতিমধ্যে জিপিএইচ পানি চলাচলের  পথে পাঁচ তলা উঁচু ইমারত স্থাপন করে।এতে পানি চলাচলের পথ সরু হয়ে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে । জানা যায়  মহাসড়ক হতে ৪০ ফুট পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা রয়েছে। ঐ জায়গাটি উম্মুক্ত থাকলে ঐ ফ্যাক্টরীটিরও  গাড়ী পার্কিং এর জন্য ও সুবিধা হ'ত। অথচ জিপিএইচ নিজেই ঐ জায়গাটি দখল করে তাদের নিজস্ব অফিস ভবন নির্মান করে।  

রাস্তার আশেপাশে তাদের লোকজন ঘুরঘুর করছে রিতীমত। কেউ কিছু বললে যেন টুটি চেপে ধরে। এ ভয়ে কেহ প্রতিবাদ করতে ও সাহস পায় না। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে স্হানীয়দেরকে এমন অভিযোগও পাওয়া যায়।একইসাথে ভুক্তভোগী পুলিন দাশকে তারা প্রতিনিয়তঃ পাগল বলেই চালিয়ে যাচ্ছে । জামাই খ্যাত মোক্তার নামে এক ব্যক্তিসহ কয়েকজন টাউট এসব বলাবলি করে।এভাবে  স্হানীয় লোকজনদের  পাগল বানিয়ে তাদের জায়গা আত্নসাৎ করবার চেষ্টায় লিপ্ত তারা।

অসহায় পুলিন দাশ এখন যাবে কোথায়?  স্ত্রী ও ৪ সন্তান নিয়ে তার অভাবের সংসার। কোথায় মাথা গুজাবে তারা?

 পাড়ার গোপাল দাশ, স্বদেশ দাশ, সুধীর দাশ, মৃত নেপাল দাশের পরিবার, নিরঞ্জন দাশ, মনসন দাশসহ ৫০ পরিবার বসবাস করে আসছে। তাদেরও একই অবস্হা।নীরবে এক এক করে ঐ পাড়ার শতাধিক পরিবার পূর্ব পূরুষের বসতঃভিটা ছাড়তে হয়েছে।বর্তমানে যারা রয়েছেন তারাও চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। যে কোন মুহূর্তে চৌদ্দপুরুষের বসতঃ ভিটা ছাড়তে হতে পারে তাদের।

ফ্যাাক্টরীটি এখনো পূর্ণদমে চালু হয়নি। অথচ এরই মধ্যে এমন বিভীষিকাময় অবস্হা। প্রায় হাজার কোটি টাকা ব্যাংক লোন নিয়ে আধুনিক কারখানা স্থাপনা নিয়ে এসব কি হচ্ছে? আর মিলটির পরিচালক শিমুল চৌধুরী বলেন, 'এসব কিছুই না'। জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, আমরা কারো জমি জবর দখল করিনি। স্হানীয় কারো সমস্যা হলে আমাদের সাথে তারা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে।

এদিকে অপরিকল্পিতভাবে ফ্যাক্টরীটি নির্মাণ করায় নানামুখী সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রথমতঃ ঐ ফ্যাক্টরীর খোলা পথে এলাকার অন্যান্য স্হাপনাসহ এলাকাবাসীর পানি চলাচলের পথ ছিল। এমনিতেই বর্ষা মৌসুমে দেখা যায় ঐ এলাকায় জলাবদ্ধতা। এর মধ্যে ফ্যাক্টরীর কাঠামো ও অবকাঠামো কাজ করায় পানি নিষ্কাসনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃস্টি হয়েছে। একইসাথে

কোথায় ফ্যাক্টরীটির পার্কিং স্হান , শ্রমিক বান্ধব পরিবেশ, বিশ্রামাগার, ক্যান্টিন , চিকিৎসাকেন্দ্র,  চিকিৎসক,  ওষুধপাতি?

দেখা যায়, মহাসড়ক জুড়ে তাদের মালবোঝাই লরি রাতভর  দাঁড়িয়ে থাকে। বিশেষ করে রাত দশটা থেকে মহাসড়ক তাদের দখলে চলে যায়। তখন দেখা দেয় দীর্ঘ যানজট। কে কার কথা শুনে? 'ইউ টার্ন' নেই বলে উল্টো লরিগুলো ধেয়ে এসে দূর্ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে হর হামেশা। এদিকে শ্রম আইনে স্হানীয়দের  ৬০% নিয়োগ কৌটা থাকলেও এ পর্যন্ত ২% স্হানীয়দের চাকুরী হয়েছে এমন দৃস্টান্ত নেই। এদিকে রেজাউল করিম নামে এক স্হানীয় যুবক ক্ষোভের সাথে জানান স্হানীয় কেহ চাকুরীর জন্য গেলে তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। এসব নিয়ে এলাকার স্হানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status