দীর্ঘ ১৪ বছর পর সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ (৫ ডিসেম্বর)। এ নিয়ে উচ্ছ্বসিত দলীয় নেতা-কর্মীরা। সম্মেলন উপলক্ষে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে নৌকার আদলে তৈরি করা হয়েছে ১৮শ বর্গফুটের বিশাল মঞ্চ। সামিয়ানা দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো মাঠ। নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠজুড়ে লাগানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা।
এদিকে সম্মেলনকে স্বাগত জানিয়ে নগরের ২৭টি ওয়ার্ড থেকে একের পর এক মিছিল বের হচ্ছে। সেই সঙ্গে জেলার ১৩ উপজেলা থেকেও মিছিল নিয়ে সম্মেলন স্থলে আসছেন নেতা-কর্মীরা। ফলে পুরো সিলেট শহর এখন মিছিলের নগরে পরিণত হয়েছে। রঙ-বেরঙের নৌকা, ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে সম্মেলনস্থলের অভিমুখে রওয়ানা হয়েছেন নেতাকর্মীরা।
সকাল ১০টা থেকে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা ও নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে আলিয়া মাদরাসার মাঠে আসতে শুরু করেছেন। জেলা ও মহানগরের সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের পক্ষ থেকে সমর্থকরা মিছিল নিয়ে আসছেন। নেতাকর্মীদের খণ্ড খণ্ড মিছিলে মুখর হয়ে আছে নগরের চৌহাট্টা, রিকাবিবাজার, আম্বরখানা ও জিন্দাবাজারসহ বিভিন্ন অলিগলি।
স্থানীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সম্মেলন স্থলে পৌঁছাতে শুরু করেছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও। ইতোমধ্যে সম্মেলন মঞ্চে এসে উপস্থিত হয়েছেন সাবেক বিএনপি নেতা ও বর্তমানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইনাম আহমদ চৌধুরী। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি সম্মেলনস্থলে এসে মঞ্চের সামনের সারিতে বসেছেন।
ইনাম আহমদ চৌধুরী এক সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগ মুহূর্তে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তিনি বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। না পেয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। পরে চলতি বছরের ৮ তাকে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আব্দুর রহমান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে অব্দুল মোমেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য সুজিত রায় নন্দী, অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান প্রমুখ।