নিজেদের পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টকে ক্রিকেটের প্রায় ১৫০ বছরের ইতিহাসের সেরা বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের ডানহাতি পেসার মোহাম্মদ শামি। তার মতে ভারতের মতো এখনকার দলের মতো পেস বোলিংয়ে শক্তির গভীরতা আগে কখনও দেখা যায়নি।
দলীয়ভাবে ফাস্ট বোলিংয়ের কথা উঠলে যে কারও মনে সবার আগে আসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস কোয়ার্টেটের নাম। আশির দশকে অ্যান্ডি রবার্টস, মাইকেল হোল্ডিং, কলিন ক্রফট ও জোয়েল গার্নারকে নিয়ে গড়া এ কোয়ার্টেটকে সমীহ করেন বিশ্বের যেকোন ক্রিকেটার, বিশ্লেষক। একইসময়ে ছিলেন আরেক কিংবদন্তি পেসার ম্যালকম মার্শালও।
সেই ক্যারিবীয় কোয়ার্টেটসহ বিশ্বের যেকোন সময়ের, যেকোন দলের পেস আক্রমণের চেয়ে বর্তমানে জাসপ্রিত বুমরাহ, ইশান্ত শর্মা, ভুবনেশ্বর কুমার, উমেশ যাদব ও মোহাম্মদ শামির ভারতীয় পেস অ্যাটাকই এগিয়ে- এমনটাই মনে করেন ভারতের পেসার শামি।
ক্রিকইনফোর এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘আপনি কিংবা বাকি সবাই এ কথাটি মানতে বাধ্য যে, এমন পাঁচ পেসারের প্যাকেজ আগের কখনও দেখেননি। শুধু বর্তমান সময়ই না, এটা বিশ্বের যেকোন সময়ের সেরা পেস বোলিং ডিপার্টমেন্ট।’
পাঁচজনই নতুন বলের পেসার হওয়ায় আক্রমণ শুরু করা নিয়ে মজার খুনসুঁটিই চলে ভারতের ড্রেসিংরুমে। নিজ দলের পেসারদের এই সিদ্ধান্ত নিতে দিয়ে সরে যান অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তখন শামি নিজ থেকেই নতুন বল তুলে দেন অন্য দুজনের হাতে।
শামির ভাষ্য, ‘আমরা কোহলির কাছে গিয়ে বলি সিদ্ধান্ত জানাতে (কে নতুন বল নেবে)। কিন্তু সে সবসময় বলে দেয়, আমাকে এসবে জড়াবে না। তোমরাই ঠিক করো। এখানে আমার কিছুই করার নেই। টিম মিটিংয়ে এমন মজা হয় আমাদের। আমি তখন অন্য দুজনকে শুরু করতে দেই। খানিক পুরোনো বলে বোলিং করতে আমার কোন সমস্যা নেই।’
২০১৭ সালের জুলাইয়ের পর থেকে এখনও পর্যন্ত ভারতের ৩০ টেস্টের মধ্যে ২৭টিতেই খেলেছেন শামি, হয়েছেন অনেক জয়ের নায়ক। বিশেষ করে ম্যাচে প্রতিপক্ষের দ্বিতীয় ইনিংসে যেন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেন তিনি। বর্তমান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এরই মধ্যে ৩৬ উইকেট শিকার করে ফেলেছেন শামি।
বোলিংয়ে সাফল্যের রহস্য জানাতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘যখন কোন ব্যাটসম্যান সেট থাকে, তখন আমরা চেষ্টা করি গতি কমিয়ে ভালো লাইন-লেন্থ ধরে বোলিং করতে। যখনই উইকেট পেয়ে যাই, তখন গতি বেড়ে যায়। পার্থক্যটাও বোঝা যায় সহজেই। কোন বোলার যদি ১৪০ কিলোর আশপাশে বোলিং করতে থাকে, তাহলে উইকেট পাওয়ার পর সেটা নিজ থেকেই বেড়ে ১৪৫ হয়ে যায়।’