প্রেম করে বিয়ে করার অপরাধে নাটোরের গুরুদাসপুরে বাবা তার মেয়েকে একমাস যাবৎ শিকলবন্দি করে রেখেছিলেন। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পেরে গুরুদাসপুর থানা পুলিশ মেয়েকে উদ্ধার ও মেয়ের বাবাকে আটক করেছে। ঘটনাটি ঘটে গুরুদাসপুর উপজেলার নওপাড়া গ্রামে।
শিকলবন্দি প্রেমিকা সাদিয়া ইসলাম শিমু জানান, ৫ বছর যাবৎ প্রতিবেশি বকুল মন্ডলের ছেলে মাসুদ রানার সাথে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। তিন মাস আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে তারা দুজন বিয়ে করে। তারপর শিমুর বাবা সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে স্বামী মাসুদ রানা ও শ্বশুর বকুল মন্ডল বিরুদ্ধে অপহরণ করার অভিযোগে মামলা করেন। পুলিশ ঢাকা থেকে মাসুদ রানা তার বাবা বকুল মন্ডলকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। আদালত শিমুর স্বামী ও শ্বশুরকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেয় এবং শিমুকে বাবার হেফাজতে শর্ত সাপেক্ষে হস্তান্তর করা হয়। কোনো রকম চাপ সৃষ্টি কিংবা নির্যাতন যেন না করা হয় তার জন্য আদালতের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সাইফুল ইসলাম মেয়ে শিমুকে বাড়িতে নিয়ে এসে প্রায় মাসব্যাপী শিমুকে শিকলবন্দি করে রাখেন এবং শারীরিক নির্যাতন চালায়।
গুরুদাসপুর থানার ওসি মো. মোজাহারুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জানার পরে সাইফুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাদিয়া ইসলাম শিমুকে উদ্ধার এবং বাবা সাইফুল ইসলামকে আটক করে গুরুদাসপুর থানায় আনা হয়। পরে শিমু বাদী হয়ে তার বাবার বিরুদ্ধে নির্যাতনের মামলা করলে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, শিমু ও তার বাবাকে আদালতে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আদতালতের বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুক্তা পারভীন শুনানি শেষে বাবা সাইফুল ইসলামের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে এবং শিমুকে মা শিরিনা খাতুনের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন।