ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২ জুলাই ২০২৬ ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বিশ্বে প্রথম গেছো শামুকের কৃত্রিম প্রজননে সফল হলেন বাংলাদেশি গবেষক
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 10 December, 2020, 11:40 PM

বিশ্বে প্রথম গেছো শামুকের কৃত্রিম প্রজননে সফল হলেন বাংলাদেশি গবেষক

বিশ্বে প্রথম গেছো শামুকের কৃত্রিম প্রজননে সফল হলেন বাংলাদেশি গবেষক

পরিবেশের ক্ষুদ্র একটি প্রাণী শামুক। যাকে প্রকৃতির ফিল্টার বলা হয়ে থাকে। দেশে বিভিন্ন জায়গায় এখন শামুক বলতে গেলে প্রায় বিলুপ্তির পথে। বিলুপ্তির পথে থাকা ‘প্রকৃতির মুক্তা’ খ্যাত গেছো শামুকের কৃত্রিম প্রজননে সাফল্য পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একদল গবেষক। বিশ্বে প্রথম গেছো শামুকের কৃত্রিম প্রজনন করতে সক্ষম হয়েছেন বলে দাবি গবেষকদের।

চলতি বছরের মার্চে শামুকটি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহরিয়ার শোভন। গবেষক ও গবেষণা সহকারী মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ হিল কাফি ও রুপময় তংচঙ্গা নামের দুই শিক্ষার্থী রাজশাহী ও পার্বত্য চট্টগ্রামের দুটি জায়গা থেকে দুটি গেছো শামুক সংগ্রহ করেন। গবেষণা শুরুর ৬ মাসের পরিশ্রমে এ সফলতা অর্জন হলো বলে জানান অধ্যাপক শোভন।

শামুকটি সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যাপক শোভন বলেন, সাধারণত শামুক অনেকগুলো ডিম দেয়। কিন্তু গেছো শামুক সে তুলনায় কম ডিম দেয়। রাজশাহীর শামুকটি দিয়ে প্রজনন সফলতা পাওয়া গেছে। ছয়টি বাচ্চা পেয়েছি আমরা। কিন্তু আমরা চারটি বাচ্চাকে বাঁচাতে সক্ষম হয়েছি। শামুকটির আদি নিবাস আমেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে।

শোভন আরও বলেন, এর আগে দেশি শামুকের বিষয়ে একটি সার্ভে করেছি। সেখানে দেখতে পেয়েছি, এই গেছো শামুক খুবই দুর্লভ প্রকৃতির। এই জাতীয় শামুক পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর কিছু অঞ্চলে পাওয়া যায়। যদিও তার পরিমাণ খুব কম। দুই বছর ধরে খুঁজছিলাম তবে কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খুঁজে অবশেষে পেয়েছি। নির্বিচারে বৃক্ষ, বনজঙ্গল নিধন, পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে বিলুপ্ত হতে বসেছে এই প্রজাতির শামুকগুলো।

কেমিক্যাল ইকোলজি ও দেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ২০১৮ সাল থেকে জাপানি বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কাজ করছে প্রকল্পটি। এরই অংশ হিসেবে এই শামুক সংরক্ষণে এগিয়ে এসেছেন অধ্যাপক শোভন ও তার গবেষক দল। এ গবেষণা কাজে সহযোগিতা করেন কয়েকজন জাপানি গবেষক। গবেষণার জন্য জাপানি গবেষকদের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিও করেছেন।

এই শামুক সংরক্ষণে কী প্রয়োজন রয়েছে এবং এতে কী উপকার পাওয়া যাবে- এবিষয়ে জানতে চাইলে গবেষক শোভন বলেন, কৃষি জমিতে বড় এক ধরনের শামুক দেখা যায়। যারা গাছপালা খেয়ে ফেলে ফসলের ক্ষতি করে। কিন্তু গেছো শামুক গাছেই থাকে, অথচ গাছের কোন ক্ষতি করে না। বরং উদ্ভিদের গায়ে যেসব ক্ষতিকর অণুজীব লেগে থাকে। সেগুলো খেয়ে উদ্ভিদকে রক্ষা করে এই শামুক।

প্রসঙ্গত, এরআগে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে ডেভিসসিসকো নামের একজন গবেষক সাধারণ শামুকের কৃত্রিম প্রজননে সফলতা পান।

সম্পাদনায়: রেদুয়ান আহম্মেদ রাহাত

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status