২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ দেশ হতে কাজ করছে চীন। এবার তারা কৃত্রিমভাবে আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণের জন্যও কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। ২০২৫ সালের মধ্যে জলবায়ু ও আবহাওয়া নিজদের সুবিধামতো পরিবর্তন করবে শি জিনপিং প্রশাসন, এমন লক্ষ্যই দেশটির; যা নিয়ে তীব্র মাথাব্যথা প্রতিবেশী ভারতের।
বিশ্বের সর্বোচ্চ শক্তিধর দেশ হতে উঠেপড়ে লেগেছে চীন। কোনো দিকেই ছাড় দিতে চায় না তারা। যুক্তরাষ্ট্র, ভারত কিংবা ইউরোপের কোনো দেশ, সবাইকেই টপকে যাওয়ার লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে শি জিনপিং প্রশাসন। এবার তারা প্রাকৃতিক আবহাওয়াকে বদলে দিতে চায়। ভারতের থেকে প্রায় দেড়গুণ বড় জায়গার আবহাওয়া বদলে ফেলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে তারা।
সম্প্রতি চীনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চীন মূলত কৃত্রিমভাবে আবহাওয়া, জলবায়ু বদলে ফেলবে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে। ২০২৫ সালের মধ্যেই দেখা মিলবে সেই আশ্চর্যকর যন্ত্রের। জানা গেছে, এরই মধ্যে তারা এমন যন্ত্র বানাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মাধ্যমে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পথে হাঁটছে চীন। ওয়েদার মডিফিকেশন সিস্টেমের এই কাজ বেশ কয়েক বছর ধরেই বেইজিং এগিয়ে নিচ্ছে। এর আগে ২০০৮ সালে চীন যে অলিম্পিকের আয়োজন করেছিল, তখনও তারা 'ক্লাউড সিডিং' প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শহরের আকাশ পরিষ্কার করে। মেঘের মধ্যে খুব অল্প পরিমাণে সিলভার আয়োডাইড মিশিয়ে প্রচুর বাষ্প তৈরি করে দ্রুত বৃষ্টি নামিয়ে আবহাওয়া পরিষ্কার রাখার পরীক্ষায় সফল হয় তারা।
এবার সফল হলে বৃষ্টি, তুষারপাত, রোদেলা আকাশ, এমনকি চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় জলবায়ুর সবকিছুরই চাবিকাঠি থাকবে তাদের হাতে। সে সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জরুরি অবস্থার থেকেও ওই অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখতে পারবে তারা।
তবে দেশটির কার্যক্রম নিয়ে রয়েছে সমালোচনা। চীন সফল হলে, তারা তাদের দেশের আবহাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করবে, কিন্তু এর রেশ গিয়ে পড়বে আশপাশে, প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর। আর চীনের প্রতিবেশী ভারত এ নিয়ে রয়েছে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায়।