ফুটপাত থেকে পণ্য কিনে অনলাইনে ব্রান্ডের নামে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Monday, 14 December, 2020, 8:21 PM
ফুটপাত থেকে পণ্য কিনে অনলাইনে ব্রান্ডের নামে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে ই-কমার্স ভিত্তিক তিনটি প্রতারক চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ফুটপাত থেকে পণ্য নিয়ে অনলাইনে ব্রান্ডের নামে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি করতো তারা
রোববার রাতে কামরাঙ্গীরচরের পশ্চিম রসুলপুর এলাকায় থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সোমবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) একেএম হাফিজ আক্তার।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রকি বিশ্বাস, হেকমত আলী, কচিবুর রহমান, শিমুল মণ্ডল, আনিছুর রহমান শেখ ও মাজহারুল ইসলাম। গ্রেফতারের সময় তাদের হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত এসএ পরিবহন পার্সেল এন্ড কোচ সার্ভিসের বুকিং মেমো ২০২টি, পণ্য বিক্রয়ের ক্যাশ মেমো ১১৭টি, ৪৬ জোড়া বিভিন্ন রংয়ের ব্যবহারের অযোগ্য জুতা, ১০টি চার্জার, ১টি ল্যাপটপ, ১৫টি বিভিন্ন পণ্যের বুকিং ফেরতযোগ্য বক্স, ১২টি বিভিন্ন মডেলের ব্যবহারের অযোগ্য মোবাইল ফোন ও ব্যবহারযোগ্য ১৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
প্রতারক চক্রের বিষয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, গ্রেফতারকৃতরা ছদ্মনামে ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে দারাজ অনলাইন, দারাজ অনলাইন ৭১, দারাজ অনলাইন সপ, দারাজ এক্সপ্রেস, দারাজ অনলাইন বিডি, ফ্যাশন জোন, গ্যালাক্সি ২৪, অনলাইন মোবাইল গ্যালাক্সি, শপিং সেন্টার নেট, শপিং জোন বিডি, শপিং ডেলস, স্মার্ট সপ বিডি, উইনটার কালেকশন, সোনিয়া ফ্যাশন হাউজ, সু বাজার ডট কম, ফ্যাশন হাউজ ২৪, চায়না ফ্যাশন বিডি ও বিডি ফ্যাশন সপসহ অনলাইন শপিংয়ের নামে একাধিক পেজ খোলে। ওই পেজে অনলাইন শপিংয়ের নামে ভালো মানের মোবাইল ফোন, জুতা, ঘড়ি, থ্রি-পিস, শাড়ীসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রীর বিজ্ঞাপন দেয়। কোনো ব্যক্তি বিজ্ঞাপন দেখে অর্ডার করলে, অর্ডার নিশ্চিত হওয়ার পর গ্রেফতারকৃতরা নকল, ভাঙাচুরা, নষ্ট ও অপেক্ষাকৃত নিম্নমানের সামগ্রী প্যাকেটিং করে এসএ পরিবহন অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিসে বুকিং দেয়।
তিনি আরো বলেন, প্রতারক চক্রের গ্রুপ রকি বিশ্বাস ও হেকমত আলী ১৬টি অনলাইন শপিং পেজের মাধ্যমে অনলাইনে দামি মোবাইলের ছবি দেখিয়ে অর্ডার কনর্ফাম করে এবং বুকিং মানি নেয়। প্রতারক চক্রের দ্বিতীয় গ্রুপ কচিবুর রহমান ৫টি অনলাইন শপিং পেজের মাধ্যমে অনলাইনে দামি ব্র্যান্ডের জুতা দেখিয়ে অর্ডার কনফার্ম করে এবং বুকিং নেয়।
এরপর উভয় চক্র আনিছুর রহমান শেখ ও মাজহারুল ইসলাম কনফার্মকৃত অর্ডারের বিপরীতে নষ্ট ও ব্যবহারের অযোগ্য পণ্য প্যাকেজিং করে কুরিয়ারের মাধ্যমে ডেলিভারি করে। এই চক্রের তৃতীয় গ্রুপ শিমুল মণ্ডল ও তার ভাই পলাতক অভিযুক্ত আশিকুর রহমান ওরফে সুজন ৩টি অনলাইন শপিং পেজের মাধ্যমে দামি ব্র্যান্ডের জামা-কাপড়ের বিজ্ঞাপন দেয়।
সুজন নড়াইলে বসে অর্ডার কনফার্ম হলে ফোনে তার ভাই শিমুল মণ্ডলকে জানায়। সে নিজেও অর্ডার পেলে তখন গাউছিয়া ও নিউমার্কেটর সামনে ফুটপাত হতে অর্ডার অনুযায়ী নিম্নমানের জামা-কাপড় কিনে কুরিয়ার সার্ভিসে বুকিং দিয়ে অভিনব পদ্ধতিতে প্রতারণা করে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।