মানিকগঞ্জের পদ্মা-যমুনায় নতুন করে পানি বাড়ছে মাঝারি বন্যার আসংকা
মোহাম্মদ ইউনুস আলী, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: Tuesday, 17 August, 2021, 5:38 PM
মানিকগঞ্জের পদ্মা-যমুনায় নতুন করে পানি বাড়ছে মাঝারি বন্যার আসংকা
বর্ষাকাল শেষ হলেও সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পানি বাড়ছে মানিকগঞ্জের পদ্মা-যমুনাসহ অন্যান্য নদীগুলোতে। যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মাঝারি ধরনের বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড।
১৭ আগস্ট মঙ্গলবার আরিচা পয়েন্টের গ্রেজ রিডার ফারুক হোসেন বলেন, "উজানের নেমে আসা ঢল আর বৃষ্টিপাতে যমুনা নদীর আরিচা পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে জেলার অন্যান্য নদীগুলোতে। গত এক সপ্তাহে যমুনা নদীর আরিচা পয়েন্টে পানি বেড়েছে ৪১ সেন্টিমিটার।"
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার তরা পয়েন্টের গ্রেজ রিডার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিন ধরে কালীগঙ্গা নদীর তরা পয়েন্টে পানি বাড়তে শুরু করেছে। ২৪ ঘণ্টায় কালিগঙ্গা নদীর এ পয়েন্টে ১৭ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে বলে জানান তিনি।
সাটুরিয়া উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর তিল্লি পয়েন্টের গ্রেজ রিডার দেলোয়ার হোসেন বলেন, "এ পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। গত তিন দিন ধরে ধলেশ্বরী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে করে গাজীখালী নদীর পানিও বাড়ছে বলে জানান তিনি।"
এদিকে পদ্মা-যমুনাসহ অন্যান্য নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন শুরু হয়েছে । পদ্মা, যমুনা, কালিগঙ্গা, ধলেশ্বরী নদীর ভাঙনে দিশেহারা নদী পাড়ের মানুষেরা। বিলীনের মুখে রয়েছে জেলার নদী তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা কৃষি জমি ও বসতভিটা।
জেলার হরিরামপুর উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা উজ্জ্বল হোসেন বলেন, "পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপকভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে। চলতি মৌসুমের ভাঙনে শুধুমাত্র কাঞ্চনপুর ইউনিয়নেই কমপক্ষে শতাধিক বাড়ি-ঘর পদ্মায় বিলীন হয়েছে।"
একই উপজেলার সুতালরি এলাকার বাসিন্দা বারেক মিয়া বলেন, "চলতি সময়ে পদ্মা নদীর ভাঙনে সুতালরি রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক তৃতীয়াংশ পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন কবলে রয়েছে শতাধিক ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি। তিনি পদ্মার ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।"
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, "মানিকগঞ্জের পদ্মা-যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সাথে ভাঙনও শুরু হয়েছে। জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এখনো বিপৎসীমার ৫১ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে যমুনা নদীর পানি। প্রতিদিনই পানি বাড়ছে মানিকগঞ্জের পদ্মা-যমুনাসহ অন্যান্য নদীগুলোতে। মানিকগঞ্জে মাঝারি ধরনের বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে।"