|
দুই প্রতিবন্ধী মেয়ের চিকিৎসায় নিঃস্ব আব্দুল লতিফ
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() দুই প্রতিবন্ধী মেয়ের চিকিৎসায় নিঃস্ব আব্দুল লতিফ বলছিলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌর এলাকার আবদুল লতিফের মেয়েদের কথা। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী লতিফ আগে মাছের ব্যবসা করলেও এখন তিনি রেলওয়ে কুলির কাজ করছেন। ব্যাংক থকে ঋণ নিয়ে দিতে না পারায় একমাত্র বাড়িটিও এখন ব্যাংকের অধীনে। এরই মধ্যে মেয়েদের চিকিৎসার জন্য অনুদান চেয়ে সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরে আবেদনও করেছেন তিনি। আব্দুল লতিফ জানান, আমার মেয়ে মরিয়মের বয়স যখন ১৩ বছর তখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তো। অন্যদের মতো সে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করছিল। কিন্তু হঠাৎ একদিন স্কুলে যাওয়ার পথে সে রাস্তায় পড়ে যায়। তখন থেকে সে আর হাটা-চলা করতে পারে না। পরে ধরা পড়লো আমার মেয়ে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত। তারপর বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর পরও ভালো হয়নি। কিন্তু অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে। আর এক মেয়ে ফাতেমার বয়স যখন ১৫ বছর বয়স তখন তারও একই অবস্থা হয়। তিনি বলেন, তাদের ভালো করতে বেশ কয়েকটি ব্যাংকে ঋণ নিয়ে এখন আমি নিঃস্ব। এক বেলা খায় তো আরেক বেলা উপোস থাকি। টাকার অভাবে এখন তাদের চিকিৎসাও বন্ধ। আগে মাছের ব্যবসা করতাম, তখন ভালোই চলতো আমার পরিবার। কিন্তু এখন রহনপুর রেলওয়েতে কুলির সরদার হিসেবে কাজ করি। এই অল্প টাকায় খেয়ে না খেয়ে জীবনযাপন করছি। আব্দুল লতিফ বলেন, ব্যাংকের পাঁচটি মামলায় এখন নিয়মিত কোর্টে হাজিরা দিচ্ছি। ওই মামলাগুলোতে কখন যে আমাকে আটক হতে হয় সেই চিন্তায় আমার পরিবার দিনাতিপাত করছে। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বলতে শুধু আমি। আমি জেলে গেলে সংসারের হাল ধরার মতো আর কেউ নেই। কারণ ছেলেরাও এখন দেউলিয়া হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রতিবেশী মাসুদ রানা বলেন, এই পরিবারটি আগে খুব সুখে-শান্তিতে জীবনযাপন করছিল। কিন্তু তাদের দুই মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাদের চিকিৎসার খরচ জোগান দিতে গিয়ে জমি-জমা সব শেষ করেছে। ব্যাংকে ঋণ নিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তার দুই ছেলে ও তিন মেয়ে তারাও দেউলিয়া হয়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করে চলাফেরা করছে। তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে এখন কিছুই নেই। যে জমি ও বসতভিটা আছে তাও ব্যাংকের জিম্মায়। লজ্জায় অন্যের কাছে হাত পাততেও পারছেন না। রহনপুর পৌর মেয়র মতিউর রহমান খাঁন জানান, মরিয়ম-ফাতেমাদের পরিবারটিকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। আগে তার বাবা লতিফ মাছের ব্যবসা করতেন। ভালোই চলছিল তাদের। হঠাৎ মেয়েদের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে পরিবারটি সর্বস্বান্ত হয়ে যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান জানান, এ বিষয়ে আমি জানি না। আপনি বললেন- খোঁজ নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
আলফাডাঙ্গায় ২৮ জুন ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন: সফল করতে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন
সেনাবাহিনীর উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
স্মার্টফোন বিস্ফোরণে আতঙ্ক, টঙ্গীতে ভিভো ফোনে অল্পের জন্য রক্ষা পেল পরিবার
সাতক্ষীরায় রাফাতের মৃত্যুর ঘটনার সঠিক তদন্ত পূর্বক দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে মানববন্ধন
