বিয়ের আড়াই মাস না যেতেই স্বামীর ভিন্ন রূপ, হাসপাতালে শ্বশুর
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 21 December, 2021, 10:27 AM
বিয়ের আড়াই মাস না যেতেই স্বামীর ভিন্ন রূপ, হাসপাতালে শ্বশুর
ভালোবেসে বিয়ে করলেও আড়াই মাস না যেতেই মোটরসাইকেল, স্বর্ণের আংটি ও একটি মোবাইল ফোন দাবি করেন জামাই। অসহায় বাবার পক্ষে এত টাকার জিনিস দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়। তবে তা মানতে নারাজ জামাইয়ের পরিবার। বিষয়টি মীমাংসাও করে দেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
মীমাংসা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে শ্বশুরসহ চারজনকে মারধর করেছেন জামাইয়ের বাবাসহ তিন ভাই। সোমবার রাত ১২টার দিকে আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলার গড়াইটুপি ইউনিয়নের সরাবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- সরাবাড়িয়া গ্রামের বিশ্বাসপাড়ার আবু বকর মল্লিকের ছেলে আবু তাহের মল্লিক, তার দুই ছেলে শরিফুল ইসলাম, বাবু ও কনের বাবা জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নের সেনেরহুদা গ্রামের মাঝেরপাড়ার উম্মাদ আলীর ছেলে মধু মিয়া।
ভুক্তভোগী শ্বশুর মধু মিয়া বলেন, বছরখানেক আগে আমার মেয়ে কনার সঙ্গে সরাবাড়িয়া গ্রামের বিশ্বাসপাড়ার আজিজুল মল্লিকের ছেলে শাওনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আড়াই মাস আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই জামাই ও তার পরিবারের সদস্যরা যৌতুক হিসেবে একটি মোটরসাইকেল, স্বর্ণের আংটি ও মোবাইল ফোন দাবি করে আসছে। আমি গরিব হওয়ায় তাদের দাবি মেনে নিতে পারেনি। এ নিয়ে মাঝে মধ্যেই আমার মেয়েকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলে।
সোমবার বেয়াইন আমাকে ফোন দিয়ে যৌতুক বাবদ মোটরসাইকেল, আংটি ও মোবাইলের কথা আবারো বলেন। আমি অমত প্রকাশ করলে বিকেলে তারা আমার বাড়িতে চলে আসে। সন্ধ্যার দিকে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের সম্মতিতে যৌতুক না নেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। মীমাংসার পর গালিগালাজ শুরু করে শাওনের মা ময়না খাতুন। এতে উভয়পক্ষ বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এ সময় শাওনের বাবা আজিজুল ও তার তিন ভাই বাঁশ দিয়ে আমাদের বেধড়ক পিটিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
দর্শনা থানার ওসি এএইচএম লুৎফুল কবীর বলেন, সরাবাড়িয়া গ্রামে যৌতুক সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।