ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২৫ জুন ২০২৬ ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
পঞ্চগড়ে জমি থেকেই চুরি হয়ে যাচ্ছে পেয়াজ রসুন, আতংকে চাষিরা!
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Monday, 4 March, 2024, 5:27 PM

মুড়ি কাটা পেয়াজ তোলার মৌসুম চলছে। অন্যদিকে চারা পেয়াজ তোলা শুরু হবে আর কিছুদিন পরেই । কিন্তু এর মধ্যেই খেত থেকেই শুরু হয়েছে পেয়াজ রসুন চুরির ঘটনা। তাই চাষিরা আতংকে দিন পার করছেন। চাষিরা জানায় কে বা কারা রাতের অন্ধকারে খেত থেকেই পেয়াজ রসুন চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। বাজারে পেয়াজের দাম চড়া । তাই চুরি হয়ে যাচ্ছে।

পঞ্চগড়ের চাষিরা এবার পেয়াজ রসুন আবাদের ঝুঁকেছে। অনেক কৃষকই নিজের পরিবারের চাহিদা মেটাতে বাড়ির আশে পাশে ক্ষুদ্র আকারে চাষ করেছে পেয়াজ রসুন। অনেকে বাড়তি আয়ের জন্য চাষ করেছেন ।

খেত থেকে চুরি হয়ে যাওয়া পয়াজ চাষিরা বলছেন রাতেই ৩ থেকে ৪ কাঠা জমিতে লাগানো পেয়াজ তুলে পাতা গুলো কেটে ফেলে রাখে পেয়াজ চোরেরা। এক কাঠা জমিতে প্রায় ৮ থেকে ৯ মন পেয়াজ হয়। ৮০ টাকা কেজী দরে বর্তমানে চাষিদের নতুন পেয়াজ বিক্রী হচ্ছে। এক কাঠা জমিতে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার পেয়াজ হয়। রসুনের দাম আরও বেশী। পেয়াজ চুরী হওয়ায় অনেকে সম্বলও হারিয়েছেন। অনেক চাষি ধান বিক্রী করে পেয়াজ চাষ করেছেন। কিন্তু চুরি হয়ে যাওয়ায় এখন আসল টাকাও নেই। এই অবস্থায় অনেক কৃষকই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। রাতের অনেকে পাহাড়া দিলেও বাড়তি ব্যায় মেটাতে পাহাড়াদার রাখার ব্যবস্থা করতে পারছেননা অধিকাংশ কৃষক। এ ব্যাপারে প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও অস্বস্থিতে রয়েছেন। রাতের অন্ধকারে কারা এসব চুরি করছেন তাদের কে আইনের আওতায় আনা দুরুহ ব্যাপার মনে করছেন তারা। 

তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কাটা পাড়া গ্রামের ভ্যানচালক নজিমুল ইসলাম জানান, পরিবারের চাহিদা মেটাতে ৪ কাঠা মাটিতে এবার পেয়াজ আবাদ করেছি। আশা করেছিলাম নিজেরা খেয়ে বাড়তি কিছু আয় করবো। প্রায় ১৫/১৬ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। ভ্যান চালিয়ে যা আয় করি তা থেকে একটু একটু করে পেয়াজ খেতে ব্যায় করেছি। পেয়াজ খুব ভালো হয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিন আগে ভোর বেলা পেয়াজ খেতে গিয়ে দেখি একটা পেয়াজের গাছও নেই। পেয়াজের পাতাগুলো পড়ে আছে। এতো আশা করে পেয়াজ করলাম। বউ, ছেলে মেয়ে সবাই মিলে যত্ন নিয়েছি। ছেলে পানি দিতো তো মেয়ে নিড়ানী দিতো। আর কয়েকদিন গেলেই পেয়াজ তুলে নিতাম। কাকে কি বলবো। কে চুরি করলো নিজেই তো জানিনা। 

একই উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের ডাক্তারপাড়া গ্রামের মকবুল হোসেন জানান, আমার নিজের কোন জমি নেই। এক বিঘা মাটি বর্গা নিয়ে তাতেই আলু, রসুন, পেয়াজ সহ বেশ কয়েক প্রকারের আবাদ করেছি। পেয়াজ করেছি ৩ কাঠা। তিন কাঠা মাটিতে অন্তত: ৩০ মন পেয়াজ উঠতো। কিন্তু গত শনিবার সকালে পেয়াজ খেতে গিয়ে দেখি একটি পেয়াজও নাই। যা ব্যায় করেছি সব শেষ । সারাদিন কাজ কাম করি। রাতের বেলা একটু ঘুমাই। পাহাড়া দেবো কিভাবে। পাহারাদার পাাওয়াও তো যাবেনা। পাওয়া গেলেও ব্যায় তো বেড়ে যাবে। যারা এসব করছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা উচিৎ। আমি চেয়ারম্যান ও মেম্বার সাহেবকে বলেছি ।  পঞ্চগড় কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার সাদেক জানান, এবছর পঞ্চগড়ে ৮’শ ৫২ হেক্টর জমিতে রসুন এবং ১ হাজার ৯’শ হেক্টর জমিতে পেয়াজের আবাদ হয়েছে। দিন দিন রসুন পেয়াজের আবাদ বাড়ছে। খেত থেকে পেয়াজ রসুন চুরি হয়ে যাচ্ছে খবর পেয়েছি। আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status