|
ঢাকা আন্তর্জাতিক মেলা
যানজট পেরিয়ে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়, ব্যবসায়ীদের যেন দম ফেলার সুযোগ নেই
শরীফ হোসেন ,রূপগঞ্জ
|
![]() যানজট পেরিয়ে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়, ব্যবসায়ীদের যেন দম ফেলার সুযোগ নেই সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, মেলার ১৭তম দিন শুক্রবার ছিল মেলার তৃত্বীয় ছুটির সপ্তাহ। এদিন পুরো মেলা ছিল সয়ংসম্পূর্ণ। মেলা পুরোপুরি জাকজমক পূর্ণ হওয়ায় দর্শনার্থীরাও অনেক খুশি। মেলার শুরুর দিন থেকেই যেন বিতর্ক পিছু ছাড়ছিল না। বানিজ্য মেলায় মানেই পুরো মেলা প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পরিপূর্ণ থাকবে। স্টল গুলোর সামনে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় থাকবে। চারদিকে উৎসবের আমেজ বিরাজ করবে। মেলার শুরুর দিন থেকেই এমন কিছু দেখা না গেলেও মেলার ১৭তম দিনে এসে শুক্রবার ছুটির দিনে বানিজ্য মেলা যেন তার নিজস্ব রূপ ফিরে পেল। ছুটির দিনে মেলা সকাল ১০ থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত খোলা রাখা হয়েছে। ছুটির দিন হওয়ায় মেলায় সকাল থেকেই দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করেন। সকালে দর্শনার্থী কিছুটা কম থাকলেও বিকেলে পুরো মেলা দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে। ছুটির দিন হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও তাদের স্টলকে নানা রংয়ে বাত্বি জ¦ালিয়ে সাজ-সজ্জায় রাঙ্গিয়ে তুলেছেন। মেলা সেজেছে অপরূপ রূপে। ছুটির দিন হওয়ায় মেলার ভেতরে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় রাখা হয় নাচগানসহ নানা আয়োজন। এদিন মেলায় বেশিরভাগ স্টলেই ছিল উপচেপড়া ভিড়। তবে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে গৃহস্থালি, ইলেকট্রনিক্স, প্রশাধনী, কাষ্মেরী স্টল গুলোতে। এছাড়া শিশু পার্ক ও রেস্তোরা গুলোতে বসার কোন জায়গা ছিল না। মেলার ভেতরে শিশু পার্কে যেন দাড়ানো কোন জায়গা ছিল না। শিশু পার্কের ভেতরে রাইড গুলোর টিকিট কাটতে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বেশি লোকের সমাগমহওয়ায় রেস্তোরা গুলো খাবারের দাম দর্শনার্থীদের কাছে বেশি নেওয়া হচ্ছে। মেলায় ব্যাপক পরিমান দর্শনার্থীদের আগমন হওয়ায় তিনশ ফুট ও এশিয়ান বাইপাস ও গাজীপুর বাইপাস সড়কের দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়ে মেলা আসা দর্শনার্থীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। এদিকে হাইওয়ে পুলিশ যানজট নিরসনের চেষ্টা করলেও এতো লোকের সমাগমে তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। যানজটে আটকে থাকে শতশত যানবাহন। আলামিন নামে এক মেলার কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, এতোদিনে মেলা পুরোপুরি জমে উঠলো। আগে ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী বেশি হলেও আজ মেলায় অনেক বিক্রি হচ্ছে অনেক। ক্রেতাদের সমাগম দেখে আমাদের ভাল লাগছে। সাইদুর রহমান নামে এক প্রসাধনী ব্যবসায়ী বলেন, মেলায় এতো লোকের সমাগম দেখে আমরা ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছে। এতো টাকা দিয়ে মেলায় স্টল বরাদ্দ নিয়েচি। বিক্রি না হলে অনেক লোকসানের সম্মূখীন হতে হতো। গত সপ্তাহে ছুটির দিনের মেলায় পন্য ভাল বিক্রি হয়েছিল। আরো বেশি লোকের সমাগম হওয়ায় বিক্রি অনেক ভাল হচ্ছে। আমরা ক্রেতা আকর্ষণে বিভিন্ন ছাড় দিচ্ছি। ছাড় পেয়ে ক্রেতারাও কিনছেন নিজেদের পছন্দের পন্য। রাজধানীর ঢাকার যাত্রাবাড়ি থেকে আরমান হোসেন পরিবার নিয়ে বানিজ্য মেলায় বেড়াতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, আমি বেসরকারি একটি ব্যাংকে চাকরী করি। আজ শুক্রবার ছুটির দিন তাই স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে মেলা এসেছি। মেলায় অনেক ভিড়। কোথাও পা ফেলার জায়গা নেই। এর আগেরবার মেলায় বসার জায়গা থাকলেও এবার তা নেই। কথা মোসাদ্দেক নামে এক দর্শনার্থীর সঙ্গে তিনি বলেন, মেলায় অনেক লোকের সমাগম হয়েছে। মেলায় উৎসবমূখর পরিবেশ বিরাজ করছে। মেলার সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে। এখানে গান শুনে ভাল লাগলো। কথা হয় রুবেল নামে এক দর্শনার্থীর সঙ্গে বানিজ্য মেলায় আসতে দুপুর ২ টার দিকে চিটাগাংরোড থেকে রওনা হই। মেলায় এসে পৌছেঁছি সন্ধ্যা ৬ টার দিকে। রাস্তাঘাটের দীর্ঘ যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছিলাম। মেলা থেকে ফিরতেও একই ভোগান্তিতে পড়তে হবে। বানিজ্য মেলা দেখলাম এবার অনেক জমে উঠেছে। যানজটে আটকে থাকা ট্রাক চালক রিয়াদ বলেন, ৩ ঘন্টা ধইরা মেলার সামনে জ্যামে বইয়া রইছি। মাল লইয়া গাজীপুর যামু। এই জ্যাম কহন শেষ অইবো কহন যামু। আগে জানলে মেলার সামনে দিয়ে না গিয়া অন্যদিক দিয়া যাইতাম। ট্রাফিক পুলিশ ভালমতো কাজ না করায় এই জ্যাম লাগছে। কথা হয় ইজিবাইক চালক রিপন মিয়ার সঙ্গে তিনি বলেন, কাঞ্চন ব্রীজ ও তিনশ ফুট সড়ক পুরোটাই যানজটে আটকে আছে। যানজটের কারণে দর্শনার্থীরা হেটে মেলায় যাচ্ছে। এই যানজট কখন শেষ হবে কেউ বলতে পারে না। গেইট ইজারাদার প্রতিষ্ঠান ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, শীতকে উপেক্ষা করে শুক্রবার ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেড়লাখ লোকের সমাগম হয়েছে। আমরা মেলায় আসা দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে এবছর ই-টিকেটিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যাতে করে দর্শনার্থীরা নির্বিঘেœ মেলায় প্রবেশ করতে পারে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সচিব ও বানিজ্য মেলা পরিচালক বিবেক সরকার বলেন, শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় মেলা কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল। মেলায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দিতে বিপুল পরিমাণ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। মেলা দর্শনার্থীদের আসা যাওয়ার জন্য ২০০ টির অধিক বিআরটিসির শাটল বাস রাখা হয়েছে। মেলার এটা ১৭তম দিন। মেলা শেষের দিকে হওয়ায় দর্শনার্থীও মেলায় অনেক হচ্ছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
