আজকাল শুধু দামি বা ঝকঝকে হলেই স্নিকার আকর্ষণীয় হয় না। এখনকার স্নিকারের মধ্যে থাকতে হয় গল্প, শিকড় আর নিজস্বতা। একঝাঁক নারী ডিজাইনার সেই কাজটাই করছেন। নিজের সংস্কৃতি, অভিজ্ঞতা আর কল্পনাশক্তিকে একত্র করে তারা নতুন করে লিখছেন ফ্যাশনের ব্যাকরণ।
কাহলানা হাতে নাইকি এয়ার ফোর্স ওয়ান
হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়াকালীন জীবনের অভিজ্ঞতা, দাদীর স্মৃতি আর কৃষ্ণাঙ্গ কলেজ সংস্কৃতি সবকিছুর সম্মিলনে কাহলানা বারফিল্ড ব্রাউন বানিয়েছেন ‘ইয়ার্ডরানার’ স্নিকার।
নাইকির ইয়ার্ডরানার প্রজেক্টে থাকা কাহলানা চাইছিলেন এমন এক ডিজাইন, যা সবাই নিজের বলে মনে করে। আর সেটা তিনি করেছেন—প্রিমিয়াম চামড়া, লালচে রঙ আর হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির ‘দ্য ইয়ার্ড’ খোদাই করে। একদম শুরুতেই এই জুতা বিক্রি হয়ে যায়। কারণ, এটা শুধু পায়ে পরার জন্য নয়। এটা একটুকরো ইতিহাস।
কাহলানা বারফিল্ড ব্রাউন বলেন, ‘অনেক প্রতিভা থাকে যাদের দেখা যায় না। এই প্রোগ্রাম না থাকলে, আমাদের মতো মানুষদের সুযোগই দেওয়া হতো না।’
সেসিলি বানসেনের আসিকস
কোপেনহেগেনের কোমল আলো, নকশার নৈপুণ্য আর নারীত্বের সৌন্দর্য, এসবের মিশেল সেসিলির ডিজাইনে। আসিকসের সাথে তার সহযোগিতা যেন মেয়েদের দৈনন্দিন জীবনের এক নতুন সঙ্গী। জেল টেরেইন বা জলরোধী ফুলেল ভার্সন, প্রত্যেকটিই একেকটি আরামদায়ক নান্দনিকতা।
বানসেন বলেন, ‘আমি চাই এমন জুতা, যা একজন মা কিংবা কর্মজীবী নারী হালকা বৃষ্টির দিনে পরতেও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।’ তার কথায়, প্রতিটি নতুন রিলিজ যেন পুরোনো সীমাবদ্ধতাকে ছাড়িয়ে যাওয়া।
ড্যানিয়েল গুইজিওয়ের পুমা স্পিডক্যাট
মাত্র ৪০০ ডলারে শুরু করা এক স্বপ্ন, যার গন্তব্য আজ হলিউডের লাল গালিচা। গুইজিওর ডিজাইন মানেই ব্যবহারযোগ্য, ট্রেন্ডি এবং নিজের মতো করে বাঁচার গল্প।
পুমা স্পিডক্যাটের মাধ্যমে তিনি নিজের শৈশবের স্মৃতি, নতুন কিছু করা আর সোশ্যাল মিডিয়ার শক্তিকে এক ফ্রেমে এনেছেন। ‘জীবনের সব অভিজ্ঞতাই পরবর্তী ধাপে নিয়ে যায়’, এই বিশ্বাসেই তার পথচলা।
ওয়েলস বোনারের অ্যাডিডাস
যার হাতের ছোঁয়ায় সাম্বা হয়ে ওঠে ইতিহাস আর উত্তরাধিকার, তিনি গ্রেস ওয়েলস বোনার। আধুনিক হিপ-হপ থেকে শুরু করে আফ্রো-ইউরোপিয়ান ঐতিহ্য, সবকিছুর ছায়া আছে তাঁর ডিজাইনে।
বিলাসবহুল সুয়েড, অ্যানিমাল প্রিন্ট আর গাম রঙের মুনশিয়ানায় তৈরি সাম্বাগুলো যেন ফ্যাশনের মাঠে একক আধিপত্য। তার ‘স্টাডেড প্যাক’ হোক বা ‘সিলভার মেটালিক’, প্রত্যেক রিলিজেই আছে নতুন গল্প।
স্যান্ডি লিয়াংয়ের সালোমন
নিউ ইয়র্ক সিটির চায়নাটাউন, যেখানে কেটেছেন তার শৈশব। সেখান থেকেই অনুপ্রেরণা নিয়ে স্যান্ডি লিয়াং বানিয়েছেন এমন এক জুতা, যা মেয়েদের মনের কথা বলে। স্পিডক্রস থ্রি রিবন, কালো বালেট-স্টাইলের এই স্নিকারটি গোলাপি স্যাটিন লেসে বাঁধা, যেন এক আধুনিক রূপকথা।
টিকটকে ভাইরাল হওয়া এই জুতা একাধিকবার স্টকে এসেও মুহূর্তে বিক্রি হয়ে গেছে। সালোমন নিজেই বলেছে, ‘স্নিকার কেবল খেলাধুলা নয়, এখানে আবেগ আর কল্পনার ছোঁয়াও থাকতে পারে।”