ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২৫ জুন ২০২৬ ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
মুসার জুয়ার দাপটে কাপছে মিরপুর
খালেদ সুজন ও নিরব হোসেন
প্রকাশ: Saturday, 19 January, 2019, 12:29 PM

মুসার জুয়ার দাপটে কাপছে মিরপুর

মুসার জুয়ার দাপটে কাপছে মিরপুর

‘ মুসা’ নামটি শুনে তাকে কোন ভদ্রলোক মনে হলেও আসলে তিনি কিন্ত তা নন বরং রাজধানীর কাফরুল বাসীর ভয়ঙ্কর আতঙ্ক।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, তার সিন্ডিকেটের বেশ কিছু সহোচর ইতমধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ।  স্থানীয় একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় থেকে কাফরুল থানা এলাকায় জুয়ার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।  অথচ এ সকল অভিযোগ থাকা সত্তেও সবাইকে অবাক করে প্রকাশ্যেই চালিয়ে যাচ্ছেন ভয়ঙ্কর সব অপরাধমূলক কার্যক্রম।

তাদের কার্যক্রম নিয়ে অনুসুন্ধান করতে গিয়ে একে বেড়িয়ে আসছে ভয়ঙ্কর ও চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।  তাদের সকল অপরাধের ভয়ংকর তথ্যচিত্রগুলি ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরবে দৈনিক নতুন সময় ।

সর্বনাশী জুয়া আর সর্বগ্রাসী মাদকের ভয়াল থাবায় তটস্থ রাজধানীর গোটা মিরপুর। গোটা মিরপুরের আতংক, মুসতাকের নেতৃত্বেই মিরপুর -১৩ নম্বরের ইমান নগর, বাঁইশটেকি, কাফরুল  থানা  গড়ে উঠছে  জুয়া ও মাদকের জমজমাট আসর।


বিনিময়ে প্রতিদিন এই জুয়া আর মাদকের স্পটগুলো থেকে প্রতিদিনই  হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা । মুস  তার একজন একান্ত সহযোগীর মাধ্যমে এ টাকা সংগ্রহ করেন তিনি। তবে এ টাকা তিনি একাই ভোগ করেন তা নয়। তিনি এলকার বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল ও স্থানীয় থানা-পুলিশকে প্রতিদিন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে দেদারসে এই জুয়া ও মাদকের অবৈধ কারবার চালিয়ে আসছেন বহুকাল ধরেই। প্রতিটি আসরের পরিচালকেরা ভিন্ন ভিন্ন হলে নিয়ন্ত্রক মুসতাক একা নিজেই।


এই জুয়া আর মাদকের আসরগুলোকে কেন্দ্র করে এ এলাকায় সন্ত্রাসী, ছিনতাইকরীদের নিয়মিত পদচারণা।  অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত দিনে কাফরুল, পল্লবী, রুপনগর, ভাষানটেক থানায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক মামলায় যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের বেশির ভাগই মুসতাক এই জুয়া ও মাদকের আসরের নিয়মিত ভোক্তা-ক্রেতা। কারন জুয়া খেলার সঙ্গে সমানতালে এই আসরগুলোতে চলে ইয়াবা বিকিকিনি ও সেবন। পুলিশের একটি গোয়েন্দা ইউনিটের করা গোপন একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।


গোয়েন্দা পুলিশের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ইমাননগর ও বাঁইশটেকির কয়েকটি বাড়িতে গুটি দিয়ে জুয়া খেলা হয়ে থাকে। এ ছাড়া একই স্থানে রাত ৮টা থেকে ভোর পর্যন্ত তাস দিয়ে কাইট ও থ্রি কার্ড নামক পদ্ধতিতে জুয়া খেলা হয়। এসব স্পটে প্রভাবশালী ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন কোটি টাকা নিয়ে জুয়া খেলায় অংশ নিয়ে থাকে।


স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, চোখের সামনে এমন অপকর্ম চললেও কিছু বলতে পারি না। কারণ পুলিশসহ প্রভাবশালীরাই এর সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে কে কথা বলবে? এলাকার তরুণরা জুয়ার ফাঁদে পড়ে বিপথগামী হওয়ার পাশাপাশি চুরি, ছিনতাই ও রাহাজানীসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে ।কোন এক  খুঁটির জোরে কাফরুল থানা এলাকাসহ মিরপুরে প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে দাপটের সাথে এতসব অপরাধমুলক কর্মকান্ড করে বেড়াচ্ছে? সকলের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, প্রশাসন কেনো তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পারছে না? বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান এলাকাবাসী।


মাদক ও জুয়া বাণিজ্য বন্ধ ও আগামী দিনে দেশের সম্ভাবনাময় তরুণ সমাজকে রক্ষায় প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করবে এমনটাই সকলে প্রত্যাশা।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status