|
আমেরিকাকে উচিত শিক্ষা দিতেই চীনের সাথে বন্ধুত্বের হাত বাড়াল ভারত?
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() আমেরিকাকে উচিত শিক্ষা দিতেই চীনের সাথে বন্ধুত্বের হাত বাড়াল ভারত? সীমান্ত থেকে শুরু করে ভূ-রাজনীতি, এমনকি বৈশ্বিক অর্থনীতির খেলায়ও সবসময় মুখোমুখি অবস্থান চীন ও ভারতের। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন বদলে যাচ্ছে সেই চিত্র। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সাম্প্রতিক নয়াদিল্লি সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে জেগেছে নতুন কৌতূহল। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে উঠে এসেছে সহযোগিতার বার্তা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বৈঠক শুধু আনুষ্ঠানিক কূটনীতি নয়, বরং তিক্ত অতীত ভুলে নতুন অধ্যায় শুরু করার এক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিতও বটে। তবে প্রশ্ন আসে, কিসের প্রেক্ষিতে চীনকে এতদিন পর কাছে টানছে ভারত? আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মূলত এই ঘনিষ্ঠতার পেছনে বড় কারণ। ট্রাম্পের উচ্চ শুল্ক নীতি চীন-ভারত বাণিজ্যে বড় ধাক্কা দিয়েছে। রপ্তানি-আমদানি দুই দিকেই ক্ষতির মুখে পড়েছে দুই দেশ। তাই কৌশলগতভাবে একে অপরের কাছে আসা ছাড়া তাদের সামনে বিকল্পও সীমিত। সম্প্রতি দিল্লিতে নিযুক্ত বেইজিংয়ের রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের ‘দাদাগিরি’মূলক আচরণের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে চীন এবং এ বিষয়ে ভারতের পাশে থাকবে তারা। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে ভারত-চীন ঘনিষ্ঠ হবে, এমনটা ভাবা অতিরঞ্জিত। দিল্লি ও বেইজিংয়ের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ, বিশেষ করে গালওয়ান সংঘাতের পর থেকে তৈরি হওয়া অবিশ্বাস এখনও বড় বাধা। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্থায়ী টানাপোড়েন থাকলেও দিল্লি রাতারাতি বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকবে না। এছাড়া পাকিস্তানকে ঘিরেই রয়ে গেছে সবচেয়ে বড় বাধা। বেইজিং বহুদিন ধরেই ইসলামাবাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র, অন্যদিকে দিল্লির কাছে পাকিস্তান সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি। এই জট না কাটলে ভারত-চীনের সম্পর্ক পূর্ণমাত্রায় মজবুত হওয়া কঠিন। তারপরও আশার আলো দেখছেন বিশ্লেষকরা। ব্রিক্স, এসসিও কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে। সেই সহযোগিতা আরও গভীর হলে শুধু এশিয়া নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও আসতে পারে ইতিবাচক প্রভাব। প্রশ্ন এখন একটাই—তিন বছরের টানাপোড়নের পর, দিল্লি আর বেইজিং কি সত্যিই পারস্পরিক অবিশ্বাস ভুলে নতুন বন্ধুত্বের পথে হাঁটতে পারবে? নাকি পুরোনো সন্দেহ আবারো টেনে ধরবে সম্পর্কের রাশ? সময়ই বলে দেবে সেই উত্তর। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
