কক্সবাজার শহরের বিজিবি ক্যাম্প ও সাব-মেরিন স্টেশনের পেছনে চাঁদা না পেয়ে এক সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবার ও এক বিএনপি নেতার খতিয়ানভুক্ত জমি জবরদখলের চেষ্টায় দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়েছে ভূমিদস্যু ও শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় জমির মালিক শিমুল মল্লিক ও এক বিএনপি নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, দক্ষিণ সাহিত্যিকা পল্লীর সাফু ও পল্লানিয়া কাটা শফিউল্লাহ হত্যা মামলার আসামি কলিম উল্লাহর ছেলে সরওয়ার, মহেশখালী ধলঘাটা এলাকার সাকের উল্লাহর ছেলে নুরুল আলম পুতু, পৌরসভা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরী পাড়ার মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে নুরুল হাকিম বাবুল মিস্ত্রী ও দেলোয়ার, একই এলাকার মৃত রমজান আলীর ছেলে ইরতিজা হাসান মিন্টু, মো. হলুর ছেলে নুরুল আজিম লালু, মাহাত আলম মিস্ত্রীর ছেলে আবু তাহের, রফিকের ছেলে জাহেদ খোকনসহ আরও কয়েকজন সন্ত্রাসী হামলায় অংশ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, জয় বাংলা তথ্য-প্রযুক্তি লীগ কক্সবাজার জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহেশখালী থানার দায়েরকৃত মামলা নং ৪/২৪-এর আসামি এরফান হোসাইনের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী শিমুল মল্লিক অভিযোগ করে বলেন, দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে একটি সন্ত্রাসী চক্র তার পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টা করছে। তিনি জানান, বাবার দেওয়া হেবা দলিলের ভিত্তিতে তিনি বিএস ২৫-১১০৮৮২ নম্বর সৃজিত খতিয়ানভুক্ত জমির মালিক। এ জমি নিয়ে পূর্বে জেলা জজ আদালতে মামলা করে তিনি রায় পেয়েছেন। সম্প্রতি জজ কোর্ট বন্ধ থাকায় ভূমিদস্যুরা পুনরায় জমি দখলের চেষ্টা শুরু করলে তিনি এডিএম কোর্ট থেকে ১৪৪ ধারা জারি করান।
শিমুল মল্লিক আরও বলেন, আদালতের ১৪৪ ধারা অমান্য করে ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় তাকে ও আরেক জমির মালিককে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
তিনি জানান, এর আগেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভিডিও ধারণ করলেও ভূমিদস্যুরা কোনো আইন বা প্রশাসনিক নির্দেশ মানছে না।
এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জমিটির পাশে বায়নার সূত্র উল্লেখ করে একটি অস্থায়ী সাইনবোর্ড টাঙানো ছিল, যেখানে “ইরতিজা হাসান মিন্টু” ও “নুরুল হাকিম বাবুল”-এর নাম লেখা ছিল। যদিও মহেশখালী ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা নুরুল আলম জমির বায়না করেছেন বলে স্বীকার করলেও দলের পদ রক্ষার স্বার্থে সাইনবোর্ডে তার নাম দেননি বলে জানা গেছে। অপরদিকে জমির প্রকৃত মালিক কল্পনা রাণী ভিডিও বক্তব্যে দাবি করেন, তিনি আলম, বাবুল কিংবা ইরতিজার কাছে কোনো জমি বিক্রি করেননি।
আরেক ভুক্তভোগী জানান, ভূমিদস্যু ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পুলিশ আসার আগেই হামলাকারীরা তাকে ও শিমুল মল্লিককে মারধর করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
অভিযুক্ত নুরুল হাকিম বাবুল মিস্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা এখনো জমি ক্রয় করিনি। পুলিশ আসায় সাইনবোর্ড সরিয়ে নিয়েছি।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ছমিউদ্দিন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।