মাঠে নেমেই দৌড়ঝাঁপ, প্রতীক ঘিরে কুড়িগ্রাম-৪ এ ভোটের হিসাব
মোঃ মাহবুবুল হাসান,চিলমারী
প্রকাশ: Monday, 26 January, 2026, 4:38 PM
মাঠে নেমেই দৌড়ঝাঁপ, প্রতীক ঘিরে কুড়িগ্রাম-৪ এ ভোটের হিসাব
স্বাধীনতার পর থেকে কুড়িগ্রাম–৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আসনটি দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও এবার দৃশ্যপট ভিন্ন। আসনটি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। ছাড় দিতে নারাজ অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। ফলে নির্বাচনী এলাকায় এখন চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
এবারের নির্বাচনী লড়াইয়ে চিলমারী উপজেলা থেকে একক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রুকুনুজ্জামান শাহীন। রৌমারী উপজেলা থেকে পাঁচজন প্রার্থী ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। অন্যদিকে রাজিবপুর উপজেলা থেকেও এককভাবে প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)–এর রাজু আহমেদ। ফলে কোথাও চলছে দলীয় ভোটের সমীকরণ, আবার কোথাও প্রার্থীরা সরাসরি ভোটের সংখ্যা কষছেন।
প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকেই প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। গ্রামবাংলার আঞ্চলিক ভাষায় ভোট চাইতে গিয়ে কেউ বলছেন— “বাহে, সেদিন যে দোয়া নিয়ে গেনু, আইজকা মার্কা নিয়ে আইচোং। মোরে এহন না দেখেন বা? মুই তো তোমার গুলার ছাওয়া। মোক কি তোমরা ফেলে দিবের পারবা?” এমন মনভোলানো কথায় মুখরিত হয়ে উঠেছে কুড়িগ্রাম–৪ আসনের গ্রাম-গঞ্জ।
প্রতীক পাওয়ার পর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে প্রার্থীরা নিজ নিজ মার্কা নিয়ে নিরলস গণসংযোগ চালাচ্ছেন। যাকে যেখানে পাচ্ছেন, তাকেই বুঝিয়ে বলছেন নিজের প্রতীকের কথা। দিন-রাত অবিরাম ছুটে চলা প্রার্থী ও সমর্থকদের মুখে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির ঢেউ যেন সমুদ্রের ঢেউকেও হার মানাচ্ছে।
ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তিন উপজেলার গ্রাম, হাট-বাজার ও জনপদে চলছে প্রচারণা। কোথাও চায়ের দোকানে, কোথাও বাজারে, আবার কোথাও বাড়ির উঠানে— সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু নির্বাচন। কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে, কার সঙ্গে কার মূল লড়াই— এসব নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক ও বিশ্লেষণ।
তবে সাধারণ ভোটারদের মাঝে আগের মতো তেমন সরবতা না দেখা গেলেও দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কুড়িগ্রাম–৪ সংসদীয় আসনে এমপি পদে এবার সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনও তৎপর রয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচন আচরণবিধি প্রতিপালনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে প্রশাসন।
সব মিলিয়ে কুড়িগ্রাম–৪ আসনে এখন নির্বাচনী আমেজ তুঙ্গে। প্রতীক হাতে প্রার্থীদের নিরলস দৌড়ঝাঁপ আর ভোটের সমীকরণে মুখর হয়ে উঠেছে চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর।