ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
খুলনা-৬ আসনে নির্বাচনী সমীকরণ: বিএনপির জয়ের আশা, জামায়াতের ফেরার চেষ্টা
আবির হোসেন, কয়রা
প্রকাশ: Saturday, 7 February, 2026, 12:27 PM

খুলনা-৬ আসনে নির্বাচনী সমীকরণ: বিএনপির জয়ের আশা, জামায়াতের ফেরার চেষ্টা

খুলনা-৬ আসনে নির্বাচনী সমীকরণ: বিএনপির জয়ের আশা, জামায়াতের ফেরার চেষ্টা

কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৬ সংসদীয় আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াতে ইসলামীর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। অতীতে জোট রাজনীতির সমীকরণে বিএনপি সাধারণত এই আসনটি জামায়াতের জন্য ছেড়ে দিলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসে সেই চিত্র বদলেছে। জোট ভাঙনের প্রেক্ষাপটে এবার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে নেমেছে।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী না থাকায় আসনটি ঘিরে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। হারানো আসনে ফিরে আসতে মরিয়া জামায়াত, অন্যদিকে দীর্ঘদিন পর আসন পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশায় বিএনপি। ভোটার ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপি যদি ঐক্য ধরে রাখতে পারে, তবে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। আর বিএনপির ভেতরে অনৈক্য দেখা দিলে সেটিই জামায়াতের জন্য সুবিধাজনক হয়ে উঠতে পারে।

এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পি। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আসাদুল্লাহ ফকির এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রশান্ত কুমার মণ্ডলও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুলনা-৬ আসনে বিএনপি সর্বশেষ জয় পেয়েছিল ১৯৭৯ সালে। ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে জয় পায় জামায়াতে ইসলামী। অন্য নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়। এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই মূল লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

কয়রা উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা সুজা উদ্দিন বলেন, ‘খুলনা-৬ আসন জামায়াতের ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি। এখান থেকে দুবার আমাদের প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। মাঠে যে সাড়া পাচ্ছি, তাতে এবারও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী জয়ী হবেন বলে আমরা আশাবাদী।’

অন্যদিকে বিএনপিও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। কয়রা উপজেলা বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব এম এ হাসান বলেন, ‘এ এলাকায় বিএনপির নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। জোট রাজনীতির কারণে অতীতে ছাড় দিতে হয়েছে। এবার নিজস্ব প্রার্থী থাকায় আমরা এর সুফল পাব এবং দীর্ঘদিন পর আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারব বলে আশা করছি।’

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা-৬ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৮ হাজার ৭৩৪ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ৫২৪ জন, পুরুষ ২ লাখ ১০ হাজার ২০৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার একজন।

সরেজমিনে নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এই জনপদে দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে উন্নয়নের প্রত্যাশা করছেন ভোটাররা।

পাইকগাছার বাসিন্দা স্নেহেন্দু বিকাশ বলেন, ‘এ আসনে হিন্দু ভোটার রয়েছেন ৯৪ হাজার ৬১৩ জন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ভোটারও আছেন। সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ভোট যেদিকে যাবে, শেষ পর্যন্ত জয় তারই হতে পারে। সামান্য ব্যবধানেই ফল নির্ধারিত হবে।’

এ আসনের অধিকাংশ ভোটার সুন্দরবননির্ভর শ্রমজীবী মানুষ। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে তাদের জীবন-জীবিকা চলে। তাই এবারের নির্বাচনে প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে উপকূলের টেকসই উন্নয়ন। ভোটাররা চান নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ, সুপেয় পানির সংকট নিরসন, চিকিৎসাসেবার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, সংখ্যালঘু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনের বিকাশ।

বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হাসান বলেন, ‘নির্বাচিত হলে নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, ঘরে ঘরে সুপেয় পানি সরবরাহ এবং কয়রায় ২৫০ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি কয়রা ও পাইকগাছায় বিচারিক আদালত স্থাপন এবং সব উন্নয়ন প্রকল্প স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে।’

জামায়াত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আগের জনপ্রতিনিধিদের দুর্নীতি ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে উন্নয়ন বাজেট সঠিকভাবে কাজে লাগেনি। নির্বাচিত হলে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, সড়ক উন্নয়ন, বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত ভবন নির্মাণ এবং চিকিৎসাসেবার ঘাটতি দূর করতে কাজ করব।’

উপকূলের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করে টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যিনি সক্ষম হবেন, ভোটাররা তাকেই বেছে নেবেন—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status