মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে আমি বাড়ি থেকে পালাই: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন
কাজী শামীম
প্রকাশ: Thursday, 26 March, 2026, 2:43 PM
মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে আমি বাড়ি থেকে পালাই: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন
মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয়ে গেলো, তখন আমার চাচা অলরেডি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে বাড়ী থেকে চলে গেলেন, তা শুনে আমি খুশি হয়েছিলাম। যা,পরিবারের একজন সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। আমি তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি। যুদ্ধে অংশ নিতে আমিও বাড়ি থেকে পালাই—কিন্তু মামার কাছে ধরা পড়ি। শৈশবেই দেশপ্রেমের যে অদম্য তাড়না—সেই প্রেরণাই আজও তাঁর রাজনীতির চালিকাশক্তি। এভাবেই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন । তিনি বলেন, আমি তখন ক্লাস সেভেন এর ছাত্র। পরিবারের বড় ছেলে। আমি অপরিণত বয়সের মানুষ, মুক্তিযুদ্ধেতো আমাকে নিবে না এবং যাওয়াও যাবে না। অনেক কিছুই ভাবতাম, নিশ্চয়ই যুদ্ধে না যেতে পারলেও মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পেতো অনেক কাজ থাকে। মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করা যায়, এসব চিন্তাভাবনা করে কোনরকম দেখি কোন একটা ক্যাম্পের কাছে হাজির হওয়া যায় কিনা। আমাকে নিশ্চয়ই তারা নিয়ে নিবে কোন না কোন কাজে। একা একা এসমস্ত কল্পনা করে মনে মনে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম। বাড়ী থেকে পালিয়ে যেতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কয়েকদিন থেকে প্লান করছি কবে কিভাবে যাবো। মা আমাকে খুব স্নেহ করেন। আমি তার বড় সন্তান। ক্যাম্পে যেতে হলে টাকা লাগবে, টাকা চুরি করতে হবে। একা একা না গিয়ে একজন সঙ্গী লাগবে। আমার একজন ক্লাসমেট ছিলো, সে এখনো জীবিত। তার বাবা বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েছিলেন, পরবর্তীতে বরিশাল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। ডক্টর মশিউর রহমানের ছেলে তার নাম ঝান্ডা (ডাক নাম)। তাকে প্রস্তাব দিলাম, সেও রাজি হলো। আরেকজন বন্ধুকে রাজি করিয়েছিলাম, তার নাম কামরুল ইসলাম টিপু। সে এখন নিউইয়র্কে থাকে। তবে সে শেষ পর্যন্ত রাজি হলো না। তবে শেষ পর্যন্ত ঝান্ডা রাজি ছিলো। ঝান্ডা তার বাড়ী থেকে টাকা চুরি করলো, আমিও বাড়ী থেকে টাকা চুরি করলাম। বাধ সাদলো, আমার বাইসাইকেলটা কিভাবে বাসায় পৌঁছাবো। তিনি আরও বলেন, স্কুল থেকে পালিয়ে যেতে হবে। এরমধ্যে সবকিছু গুচগাছ করা হলো। এখন বাইসাইকেলটা কি করবো। আমার আপন মামা, আমরা সমবয়সী ছিলাম। আমি মামাকে অনুরোধ করলাম যে, তুমি সাইকেলটা পৌঁছে দিও আমি যুদ্ধে যাচ্ছি। সে এই কথা শোনার পর আঁতকে উঠেছে। পারবো না বলেই মামা আমার সঙ্গে আর কোন কথা না বলে দৌড়ে আমার বাড়ীতে পৌঁছে মা'কে সব জানালো। ঝান্ডাকে ঘরের বাহিরে রেখে, বাড়ীর ভিতরে গেলাম আর ভাবলাম সাইকেলটা রেখে পালিয়ে যাবো। তখনি আমি সাইকেলসহ মায়ের কাছে আটকে গেলাম। আমাদের সমস্ত পরিকল্পনা ব্যাস্তে গেলো। এদিকে ঝান্ডাকে বাড়ীর বাহিরে দাড়িয়ে রাখছিলাম। সে আমার জন্য অপেক্ষা করতেছিলো। কিন্তুু আমিতো বাসায় আটকা পড়ে গেছি। তারপর আমার মা বাবাকে যখন খোলামেলা সব জানালাম যে, আমি মুক্তিযুদ্ধে যেতে চাচ্ছি। মা তখন প্রচন্ড কান্নায় আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। এদিকে বাবা একবার রাগ দেখান আবার ধমকও দেন। গায়ে হাত দিলেন, একটা চড়ও দিয়েছিলেন। এ এক অন্যরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিলো। তারপর বাড়ীর বাহির থেকে ঝান্ডাকে ভিতরে নিয়ে আসা হলো। এদিকে ঝান্ডার বাবাকে খবর দেওয়া হলো। তার বাবা আসলেন। শেষ পর্যন্ত বুঝানো হলো, আমাদের বয়স কম। আমাদের শান্তনা দিয়ে বলেছিলো যেনো এসএসসি পাস করার পর যুদ্ধে যাই। তখন যুদ্ধে যেতে আর পরিবার থেকে বাধা থাকবে না। তখন আমি আর ঝান্ডা দুইজন সম্মত হলাম। আসলেইতো এই কথায় যুক্তি আছে। তখন আমরা পরিবারের কথা মেনে নিয়েছিলাম। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন যুদ্ধে অংশ নেওয়া আমার চাচা যুদ্ধে শহিদ হলেন।