|
চিলমারীতে ঐতিহ্যবাহী মহাঅষ্টমী স্নান অনুষ্ঠিত
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() চিলমারীতে ঐতিহ্যবাহী মহাঅষ্টমী স্নান অনুষ্ঠিত ব্রহ্মপুত্রের পবিত্র জলে স্নানের মাধ্যমে পুণ্য অর্জনের আশায় ভোর থেকেই হাজারো ভক্তের ঢল নামে নদীতীরে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে এ স্নান উৎসব পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। অষ্টমী স্নানকে কেন্দ্র করে তিন দিন আগ থেকেই চিলমারীতে শুরু হয় উৎসবের আমেজ। উপজেলার রমনা ইউনিয়নের জোড়গাছ পুরাতন বাজার থেকে উত্তরে প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রমনাঘাট পর্যন্ত বালুচরে গড়ে ওঠে নানা পণ্যের অস্থায়ী স্টল। মেলায় বসেছে মাটির তৈরি হাড়ি-পাতিল, থালা, বদনাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি, পুতুল, বাঘ, আম, নৌকাসহ নানান আকর্ষণীয় সামগ্রী। শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য বসেছে বাইস্কোপ, সার্কাস ও খেলনার দোকান, যা মেলায় এনে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা। রণপাগলী সার্বজনীন পূজা মন্দিরের পুরোহিত বুদ্ধদেব চক্রবর্তী জানান, অষ্টমী তিথি বুধবার বিকাল ৫টা ১৭ মিনিট ৫ সেকেন্ড থেকে শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৫৮ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, চিলমারী উপজেলা শাখার সভাপতি কর্ণধর বর্মা বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ বিভিন্ন স্থান থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীরা অংশ নিয়েছেন। এবারের আয়োজনেও পুণ্যার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অষ্টমী স্নান মেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মিলন চন্দ্র বর্মণ জানান, দূর-দূরান্ত থেকে আগত পুণ্যার্থীদের জন্য আশ্রয়, খাবার ও সার্বিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন এবং এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের সমস্যার খবর পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, মেলা উপলক্ষে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য নলকূপ বসানো এবং নারীদের জন্য কাপড় পরিবর্তনের পৃথক তাঁবুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, অষ্টমী স্নান উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রায় দুই শতাধিক পুলিশ সদস্য বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দলও মাঠে সক্রিয় রয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ধর্মীয় বিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক এই মহাঅষ্টমী স্নান শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শন—যেখানে সকল ধর্মের মানুষের উপস্থিতি উৎসবকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত ও অর্থবহ। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
