গাছা থানার পুলিশের বিরুদ্ধে ছেলেকে তুলে নেওয়া ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Saturday, 28 March, 2026, 8:25 PM
গাছা থানার পুলিশের বিরুদ্ধে ছেলেকে তুলে নেওয়া ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
গাজীপুরের গাছা থানার পুলিশের বিরুদ্ধে ছেলেকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া, মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক নারী।
শনিবার (১৩ মার্চ) গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গাছা থানার কলমেশ্বর এলাকায় নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ফরিদা ইয়াসমিন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে গাছা থানা পুলিশ তার ছেলে রাহুল খানকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করে এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ছেলেকে একটি ডাকাতি মামলায় জড়ানো হয়। অথচ ওই মামলার প্রকৃত আসামিদের পুলিশ আগেই গ্রেপ্তার করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি, তার ছেলে রাহুল খান ওই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়।
ফরিদা ইয়াসমিন আরও বলেন, একই ঘটনায় আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছিল এবং তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল উদ্ধারের কথা বলা হয়। তবে তার ছেলে ওই অস্ত্র কিংবা ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বলেও তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় এক বিএনপি নেতার প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। প্রায় ২০ বছর ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থাকায় এই ঘটনার পেছনে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
এছাড়া গত ১৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি বিকৃত করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি গাজীপুর আদালতে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি ও পর্নোগ্রাফি সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান।
বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি বলেন, “আমি আমার পরিবারের নিরাপত্তা এবং আমার ছেলের মুক্তির জন্য প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।”
তবে মুঠোফোনে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত গাছা থানার সাবেক অভিযোগে উল্লেখিত ওই নেতা বলেন, “আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি। বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানি না। তবে পর্ণগ্রাফি বিষয়ে আমিও থানায় একটি জিডি করেছি বলেন তিনি।”
এ বিষয়ে গাছা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. এরশাদুর রহমান বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, রাহুল খানের বিরুদ্ধে এই মামলা ছাড়াও আরও ৭টি মামলার তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে। তবে তদন্তে পুলিশ বা কোনো নেতার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।